Monday, March 12, 2018

বিশ্বব্যাপী হুমকির মুখে প্রকৃতির অলংকার পাখি

বিশ্বব্যাপী হুমকির মুখে প্রকৃতির অলংকার পাখি

বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম
আপডেট: ২০১৩-০৮-২৯ ৪:৪২:১৯ পিএম

লোলুপ দৃষ্টি যাতে না পড়ে পাখিদের ওপর এবিষয়ে সবার সচেতন থাকা প্রয়োজন। কারণ প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও প্রকৃতি সাজনের এক রূপসী অলংকার যেন নষ্ট না হয় সেদিকে সকলকে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

তাছাড়া পাখি অর্থনৈতিক উন্নতিতেও সহায়ক। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে মানুষ্যকুল তার এ পরম হিতৈষীকে ধীরে ধীরে নিঃশেষ করে ফেলছে নিজেদের প্রয়োজনে।
যা কিনা রীতিমতো আত্মঘাতী কর্মকাণ্ডের শামিল। তেমনই উদ্বেগজনক একটি বিষয়ের অবতারণা করেছে একটি পরিবেশবাদী সংস্থা।

তাদের ভাষায়, অনুকূল পরিবেশ, আবাসস্থলের অভাবে পৃথিবীর সাধারণ পক্ষীকুল ক্রমেই বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। যার পরিণতি ভয়াবহ।
পরিবেশবাদী সংস্থা বার্ড লাইফ ইন্টারন্যাশনালের এক সমীক্ষা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউরোপে সাধারণ পাখির ৪৫ ভাগ বিলীন হয়ে গেছে। অস্ট্রেলিয়ার পরিসংখ্যান রীতিমতো উদ্বেগজনক।
কেননা সেখানকার ৮০ ভাগেরও বেশি পাখি নিঃশেষ হয়ে গেছে। বলা হয়েছে গত ২৬ বছরে ইউরোপের ২০টি দেশের ১২৪টি প্রজাতির অন্তত ৫৬টি বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে শস্যক্ষেতে বিচরণকারী পাখি বিলুপ্তির হার ৭৯ ভাগ।

আফ্রিকার অবস্থাও নিতান্তই উদ্বেগজনক। শিকারিদের খপ্পরে পড়ে সেখানকার অসংখ্য পাখি প্রতি বছর নিঃশেষ হেয় যাচ্ছে। এশিয়ার দেশুগলোতে অতিথি পাখি শিকারের প্রবণতা মারাত্মক।
ফলে ৬২ ভাগ পাখি বিলুপ্ত হয়েছে শিকারিদের হাতে। গবেষকদের মতে শুধু শিকারিদের লোলুপদৃষ্টিই পাখি ধ্বংসের একমাত্র কারণ নয়। জীববৈচিত্র্য ধ্বংসও এক্ষেত্রে অন্যতম কারণ।

প্রতিদিন পৃথিবীর কোনো না কোনোখানে জীববৈচিত্র্যের ওপর হাত পড়ছে। ফলে পাখি হারাচ্ছে তার বিচরণ ক্ষেত্র। খাদ্য সংকট এক্ষেত্রে ফেলছে আরো ভয়াবহ প্রভাব।
বিশেষজ্ঞ বিজ্ঞানী তথ্য পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর মতে, সংশ্লিষ্ট সরকারগুলো জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যে তহবিল গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল ধরিত্রী সম্মেলনে -তা পূরণে ব্যর্থতাই পাখি বিলুপ্তিকে ত্বরান্বিত করছে।

তাদের ভাষায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ১২২৬টি প্রজাতি বর্তমানে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তার মধ্যে ১৯০টি প্রজাতি অচিরেই বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাদা পালকের ভারতীয় চিলের ৯৯ দশমিক ৯ ভাগ একবারেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বিশেষ করে শস্যক্ষেতে বিষটোপ এবং গবাদিপশু চিকিৎসায় প্রদাহরোধক ওষুধ ডাইক্লোফেনাক ব্যবহারের ফলে ভারতীয় সাদা চিলের অস্তিত্ব এখন প্রায় শূন্যের কোঠায়। কারণ ডাইক্লোফেনাক জাতীয় ওষুধ সেবনকারী গবাদিপশুর বর্জ্য বিষাক্ত হয়ে যায়। যা ভক্ষণ করে মারা যায় চিল।

পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর দাবি প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সরকারগুলো যেন শিগগিরই তহবিল সংগ্রহের কাজ শেষ করে।
তা না হলে জীববৈচিত্র্যের আশংকাজনক অবনতিতে পৃথিবী মনুষ্যবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে ক্রমান্বয়ে। তাই আসুন প্রকৃতির অলংকার পাখ-পাখালীদের বাঁচাতে সবাই সচেতন হই। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অটুট রাখি।

সূত্র: বিবিসি ওয়েব সাইট
ড. ফোরকান আলী: লেখক, গবেষক ও সাবেক অধ্যক্ষ dr.fourkanali@gmail.com
বাংলাদেশ সময়: ১৬০০ ঘণ্টা, আগস্ট ২৯, ২০১৩

0 comments:

Post a Comment