চাই যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা
আলী ফোরকান
‘শিক্ষাই জাতির মেরুদণ্ড’। আমরা কেন, বোধকরি আমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মও এই বাক্যটির সঙ্গে পরিচিত ছিলেন। অর্থাৎ, তারাও আমাদের মতই শৈশব থেকে হয়তোবা একথা শুনে এসেছেন। খুব গভীরভাবে ভাবলে এ সত্য অস্বীকার করা যাবে না যে, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। কিন্তু প্রশ্নটি হচ্ছে শিক্ষা বলতে কি বোঝায় বা বোঝাচ্ছে? দ্বিতীয়ত: জাতির মেরুদণ্ডতুল্য শিক্ষা আসলে কোন সে শিক্ষা? বাংলাদেশে যে শিক্ষা ব্যবস্থা প্রচলিত রয়েছে বা চারু হচ্ছে তার মধ্যে শহর-গ্রাম, কিংবা নিম্নবিত্ত-মধ্যবিত্তদের শিক্ষার ক্ষেত্রে বিদ্যমান নিদারুণ বৈষম্য নিশ্চয়ই কারও দৃষ্টি এড়ায় না। আমরা যারা শিক্ষা বলতে কেবল বিদ্যালয়-মহাবিদ্যালয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাকে বুঝি তারা বোধকরি একটি সহজ সত্য একেবারেই ভুলে যাই তা হলো উচ্চতর ডিগ্রী লাভই প্রকৃত শিক্ষার মাপকাঠি নয়। শিক্ষার সঙ্গে সংস্কৃতির একটি ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মানুষের মধ্যে সংস্কৃতি চেতনা এবং সে সংস্কৃতি চেতনার অনুশীলন যত প্রবল হয় ততই সে ব্যক্তি সুশিক্ষিত হয়ে ওঠে। এক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাকে চেতনাগতভাবে খানিকটা এগিয়ে দিতে পারে বটে তবে সুশিক্ষিত মানুষকে প্রকৃত প্র¯Íাবে হতে হয় স্বশিক্ষিত। আর স্বশিক্ষিত হবার জন্য তার পরিবার, পরিবারের বাইরের প্রতিবেশ এবং বিভিন্ন মানবিক গুণাবলীর পরিচর্যার উপর নির্ভর করতে হয় বৈকী! পরিবার হচ্ছে একটি মানুষের বোধ-বুদ্ধি-চিন্তা-চেতনা-রুচি-ধৈর্য্য-মমত্ব সৃষ্টির ক্ষেত্রভ‚মি। পরিবারে পিতা-মাতা এবং নিকটজনের মধ্যে যদি মানবিক গুণাবলীর নিত্য অনুশীলন চলে তাহলে ব্যক্তি-মানুষটি মমত্বশীল, দয়াশীল, ধৈর্য্যশীল, রুচিশীল হতে বাধ্য। আর এসব গুণাবলীর মধ্যেই একজন সাচ্চা বা প্রকৃত মানুষকে খুঁজে পাওয়া যায়। এই যে মানবিক গুণাবলী তা কিন্তু পরিবার এবং প্রতিবেশ থেকে মনুষ্যজীবনে সঞ্চারিত হয়। এজন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার চাইতেও জরুরী হচ্ছে সংস্কৃতি চর্চা। সংস্কৃতির সাধনা হচ্ছে সুন্দরের, আনন্দের এবং মহৎ ও উন্নত জীবনের সাধনা। সুতরাং একজন সুশিক্ষিত মানুষ হচ্ছেন তিনি যিনি কিনা সদ্গুণাবলীর অধিকারী। তবে একটি সমাজে অশিক্ষা-কুশিক্ষা বা কুসংস্কারের নিত্য পরিচর্যা চলতে থাকলে সে সমাজে ঘোর অমানিশা নেমে আসতে বাধ্য। অবশ্যি, মানুষের জন্মগত প্রণোদনা যেহেতু অন্ধকার থেকে আলোর পথে যাত্রার, সেহেতু সে কুসংস্কার ও কূপমণ্ডূকতার অন্ধকার ভেদ করে আগুনের পরশমনির ছোঁয়ায় দেহ-মন ও প্রাণকে পরিপূর্ণ করে তুলতে চায়। রবীন্দ্রনাথ একেই বুঝি বলেছেন ‘আলো হাতে চলিয়াছে আঁধারের যাত্রী’। মোদ্দাকথা, কুসংস্কার ভণ্ডামি প্রতারণা এবং চরম মূর্খতা ব্যক্তি-মানুষ বা সমাজ মানসকে বিপথগামীই করে মাত্র। নিজেদের কর্তৃত্ব বজায় রাখতে একশ্রেণীর লোক সজ্ঞানে অজ্ঞানে প্রগতি বিরোধী যাবতীয় কর্মকাণ্ডের আমদানি ঘটায় সমাজে। আর সাধারণ মানুষ তাদের দুঃখ, দৈন্য-দারিদ্র্যকে বিধিলিপি জ্ঞান করে পরলোকে সুখ-শান্তি পাবার আশায় ইহলোকের বিভিন্ন অন্যায় প্রতারণা বা ভন্ডামিকে মেনে নেয়। ইতিহাসের বাঁকে বাঁকে মানুষ এই বঞ্চনা-লাঞ্ছনা ও অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুষে ফুঁসে ও গর্জে উঠেছে বহুবার। প্রাণী থেকে মানুষ হয়ে ওঠার যে নিরন্তর প্রয়াস লক্ষ লক্ষ বছর ধরে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলছে তার মধ্য দিয়েই মানুষের সংস্কৃতির রূপান্তর ঘটে থাকে। সেই আদিম সমাজ বা সেই গুহামানবের চিন্তা-চেতনা অনুভব-অনুভ‚তি তখনকার জৈবিক ও প্রাকৃতিক প্রয়োজনকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত হয়েছে। বহু প্রতিক‚ল পরিবেশের সঙ্গে নিত্যদিন লড়াই-সংগ্রাম করে টিকে থেকেছে মানুষ। তার উদ্ভাবনী শক্তি, তার কল্পনা বা স্বপ্ন দেখার সামর্থ্য, তার মনের পর্দায় যখন যা বা যাকে ইচ্ছে তাকে হাজির করার বিস্ময়কর ক্ষমতা এবং স্মৃতি-সংরক্ষণের অভিনব ব্যবস্থা এই বিশ্বব্রহ্মাণ্ডে তাকে শ্রেষ্ঠত্বের আসনে সমাসীন করেছে। ধর্ম এই কথাকেই অত্যন্ত জোরের সঙ্গে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছে এবং এজন্য মানুষের দৈনন্দিন আচার-ব্যবহার, কর্তব্য-কাজ ইত্যাদি বিষয়ে কতিপয় নীতিমালাও বেধে দিয়েছে। এই বিশাল বিস্ময়কর সৃষ্টি জগতের মাঝে আপাত: ক্ষুদ্রাদপি অনুতুল্য মনে হলেও মানুষই যে সর্বাপেক্ষা রহস্যময় ও বিস্ময়কর প্রাণী এই বোধটি প্রতিটি মানুষের মনে জাগিয়ে তোলাই ধর্ম এবং শিক্ষার উদ্দেশ্য। যদিও ধর্মকে অনেক ভন্ড-প্রতারক তাদের দুরভিসন্ধি হাসিলের উদ্দেশ্যে নিজেদের মনোমত ও মনোগত ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করে অনেকাংশে এর জ্ঞানময় দিকটিকে মলিন ও কলুষিত করছে। আর সে কারণেই ধর্মের মূল সুর থেকে অধিকাংশ মানুষের বিচ্যুতি ঘটার ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েই থাকে। কেবল বস্তুগত লাভালাভকে সামনে রেখে শিক্ষা পরিচালিত হলে তা কোনক্রমেই মানুষের মনে সুকুমার বৃত্তি, ঔচিত্যবোধ, মানবিকতাবোধ এবং স্বার্থ ত্যাগের চেতনা সঞ্চার করতে পারে না। তাই শিক্ষাকে যথাসম্ভব মানবিক গুণসঞ্চারক এবং বিজ্ঞান-মনস্কতাপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা নানাবিধ সমস্যা ও জটিলতায় আকীর্ণ হয়ে রয়েছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে চরম বৈষম্য বিদ্যমান থাকায় একটি কর্মমুখর বিজ্ঞানমনস্ক এবং উচ্চতর মানবিক গুণসমৃদ্ধ ও দক্ষ জাতি গড়ে তোলা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। পুরো ব্যাপারটিকে বাণিজ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করে যে শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে তা একটি আত্মসর্বস্ব বা চরম স্বার্থপর সমাজ গঠনের দিক নির্দেশনাই দেয় শুধু। এ দেশের শিক্ষা-সংস্কৃতি কল্যাণধর্মী চিন্তা-চেতনার উপর ভর করে এগুবে সে ভরসা আজ মিছে। কেননা, গ্রাম এবং শহর পর্যায়ে শিক্ষা এবং সংস্কৃতি ক্ষেত্রে যে দু¯Íর বৈষম্য পরিস্ফুটিত হচ্ছে তা কোন প্রকার আশাপ্রদায়ী নয়। প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষা ক্ষেত্রে গ্রাম এবং শহরাঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে চিন্তা-চেতনা, ভাব-ভাবনার বিশাল ফারাক লক্ষণীয়। অথচ সর্ব¯Íরেই প্রাথমিক বা মাধ্যমিক শিক্ষার মান যদি সমান না হয় এবং কি গ্রাম কি শহরে যদি না তা একই দ্যুতি ছড়ায় তাহলে সমাজ আপনা-আপনি বৈষম্যপূর্ণ হয়ে উঠবে। আর এতে করে শহরাঞ্চলের সুবিধাভোগী শ্রেণীর ছেলে-মেয়েরা ভাল স্কুল-কলেজে অধ্যয়নসহ নানান সুবিধা-সুযোগ প্রাপ্তির বদৌলতে স্বাভাবিকভাবেই এ সমাজের নেতা-নেত্রী বনে যাবে। তখন গ্রাম বা মফস্বল থেকে পাস করা ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষার মান ও এক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যের কারণে দিনকে দিন পশ্চাদপসরণ করতে থাকবে বৈকী! এর উপর আবার শহরের ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোও এমন এক ধরনের শিক্ষার্থী তৈরি করছে যাদের কাছে এই দেশ, দেশের মানুষ, এর ঐতিহ্য-সংস্কৃতি ইত্যাদি বলতে গেলে অপরিজ্ঞাতই থেকে যাচ্ছে। ফলে একটি ভিন্ন ধারার নাক উঁচু শ্রেণী এমনিভাবে গড়ে উঠছে এখানে যাদের দেহ বাংলাদেশে থাকলেও চিন্তা-ভাবনায় তাদের বাস মার্কিন মুল্লুকে বা পশ্চিমা দুনিয়ায়। আধুনিক বিশ্বে দেহগত এবং মননগতভাবে পশ্চিমা বা প্রাচ্যের দেশগুলি এবং সেসব দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প সংস্কৃতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতম যোগসূত্র থাকাটা আমাদের নিজেদের অগ্রযাত্রার স্বার্থেই অত্যন্ত জরুরী। কিন্তু নিজের ইতিহাস ও ঐতিহ্য-চেতনা এবং সাংস্কৃতিক শিকড়ের উপর ভর করে তবেই সে যোগসূত্র রচনা করতে হবে। আর সে জন্য এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন যা আমাদের আত্মপরিচয় এবং ঐতিহ্যিক ও সাংস্কৃতিক গৌরব গাঁথাকে বিশ্বসভায় উচ্চকিত করে তুলবে। আর সেক্ষেত্রে এ দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা আর অপরাপর দেশের ছাত্র-ছাত্রীরা ‘শুধু দেবে আর নেবে, মেলাবে মিলিবে যাবে না ফিরে’। এই বোধ এই চেতনা এবং মানস সৃষ্টির জন্যই চাই সকল প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষায় সমতা। এইভাবে সমদর্শী ছাত্র-ছাত্রী তৈরি হবে, যারা দেশ জাতি শিল্প সাহিত্য সংস্কৃতি বিজ্ঞান সব ক্ষেত্রেই নিজেদের গৌরবময় স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখেও অভিন্ন ভাষায়, অভিন্ন সুরে বলিষ্ঠভাবে কথা বলবে। বিশ্বের অন্যসব দেশের ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে সমতালে চলবার এবং বিশ্ব মানবতায় অবদান রাখবার ক্ষমতা ও শক্তি অর্জন করবে। মোটকথা, বৈষম্যমূলক শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তে সত্যিকারের মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্যে গোটা শিক্ষা ব্যবস্থার পুনর্বিন্যাস তাই অত্যন্ত জরুরী আজ। আমরা মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক এবং দেশ জাতি মানুষ তথা বিশ্বমানবতার প্রতি উৎসর্গীকৃত, প্রগতি ও আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর ও কর্মমুখর দেখতে চাই। মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীরা ইসলামের ঔদার্য্য, মহত্ত¡, মানবপ্রেম, স্রষ্টার প্রতি আনুগত্যে পাবন্দ থাকবে এবং সর্বোপরি ধর্মীয় যাবতীয় কুসংস্কারমুক্ত হবে সেটিই প্রত্যাশিত। আর এ জন্য এ শিক্ষাকে যুগোপযোগী মানবতাবাদী পর্যায়ে পৌঁছে দিতে সমাজের প্রকৃত জ্ঞানী-গুণী ও কল্যাণকামী মানুষদের সমন্বয়ে এমন ব্যবস্থার গোড়াপত্তন করা জরুরী যা কিনা আত্মনির্ভরশীল ও মর্যাদাবান মানুষ সৃষ্টির লক্ষ্যাভিসারী হবে। প্রতিবছর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক ¯Íরে বিপুল সংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী জিপিএ-৫, গোল্ডেন এ ইত্যাদি পেয়ে পাস করছে। এক্ষেত্রে সেইসব বিদ্যালয়ের সাফল্য দেখা যাচ্ছে যেগুলোর অধিকাংশ রাজধানীর বা বিভিন্ন শহরাঞ্চলের। অন্যদিকে উপজেলা বা ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে এ চিত্র একেবারেই উল্টো ধাঁচের। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক ¯Íরে গ্রামাঞ্চলে ছাত্র-ছাত্রীদের ঝরে যাওয়া যেন শীতের ঝরা পাতার মতই এক স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। যারা জিপিএ-৫ ইত্যাদি পেয়ে শিক্ষালয়ের সামনে দলবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে এবং স্ব স্ব মধ্যমা ও তর্জনী উঁচিয়ে বিজয়ের গৌরব প্রকাশ করছে তাদের মধ্যে কতজন ভাল কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবে? সীমিত আসনের জন্য যে বিপুল সংখ্যক কৃতী ছাত্র-ছাত্রীর মধ্যে প্রতিযোগিতা হবে এবং যারা এক্ষেত্রে কৃতকার্য হতে ব্যর্থ হবে তারা কে কোথায় হারিয়ে যায় কে জানে! আরেকটি বিষয় এই যে, মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক ¯Íরে জিপিএ-৫ বা একটু ভাল রেজাল্ট করা ছাত্র-ছাত্রীদের নিয়ে আমাদের পত্র-পত্রিকায় যে ধরনের বাড়াবাড়ি হয় তা শিক্ষার জন্য অস্বাস্থ্যকর এবং অরুচীকর নয় কি? মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকে প্রথম-দ্বিতীয় হওয়া মানেই জীবনের চূড়ান্ত সাফল্য নয়। এই ছাত্র যেদিন নাসা কিংবা হার্ভার্ড বা অক্সেফোর্ড কোথাও গিয়ে বাংলাদেশের মুখ উজ্জ্বল করবে কিংবা দেশে এমন কিছু করবে যা মৌলিক কোন অবদান বলে গণ্য হবে সেদিনই কেবল ঐ শিক্ষার্থীর শিক্ষা গৌরবের বরমাল্য দিয়ে জাতি বরণ করে নেবে। অথচ, আমাদের এখানে মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিকের কৃতী ছাত্র-ছাত্রীকে নিয়ে যা করা হয় তাতে মনে হয় এসএসসি বা এইচএসসিতে ঐ রেজাল্ট করে সে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়ে গেছে। এ ধরনের বাড়াবাড়ি সংশিøষ্ট ছাত্রটির ভবিষ্যৎকে এগিয়ে দেবার জন্য অনুক‚ল বলে বিশ্বাস করা যায় না। একে কোন সৎ চিন্তা বলা যায় না নিশ্চয়ই। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বক্ষেত্রে আসলে যাচ্ছেতাই ধরনের অনাচার চলছে। আত্মমর্যাদা এবং পরের মর্যাদা রক্ষার জন্য সুশিক্ষা চাই। কিন্তু কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে হরহামেশা এমন ধারার ছাত্র-ছাত্রীর সাক্ষাৎ পাওয়া যায় যারা ব্যবসা-বাণিজ্য, ঠিকাদারী, দলাদলি, কমিশন নিয়ে ব্য¯Í থাকাকেই ছাত্রজীবন জ্ঞান করে। ‘ছাত্র নং অধ্যয়ং তপ:’ সে আজ প্রাচীন ঋষিদের তপোবনে পথ হারিয়ে ফেলেছে। বিদ্যাভ্যাসতো উঠে গেছে। মানুষ গড়ার কারিগরদের এক বিরাট অংশ বিত্ত-বৈভবে নিজেকে সমৃদ্ধ করতেই ব্য¯Í। বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি দেবার নামে ঘুষ খাওয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্মাণ বা সাজসজ্জার জন্য বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করা, যেনতেনভাবে একটা ধান্ধা ফিকির তৈরি করে বিদেশ গমন তথা কেবলই ব্যক্তিস্বার্থ উদ্ধারের মানসিকতা শিÿকদের নৈতিক অধঃপতনের এক করুণ চিত্রই তুলে ধরে। কোচিং সেন্টারের নামে শিক্ষাকে বাণিজ্যিকীকরণ করে এক সর্বনাশা কান্ড ঘটানো হয়েছে। কোচিং সেন্টারগুলোর উপর কোন প্রকার মনিটরিং নেই। ফলে সেখানে কেবলই অর্থ উপার্জন লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। ছাত্ররা কি শিখছে, আমরা কি শেখাচ্ছি আর কি শেখানো উচিত এসব বিষয়ে দেশদরদী শিক্ষাব্রতী, সমাজতত্ত¡বিদ, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলীর ভাবনা-চিন্তা এবং প্র¯Íাব-প্র¯Íাবনা গ্রহণের ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। চাই একটি সুস্থ বিজ্ঞান ও মানবিক চিন্তায় সমৃদ্ধ যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা।
0 comments:
Post a Comment