বিদ্যুৎ উৎপদান বাড়ান-অর্থনৈথিক সম্মৃদ্ধি বাড়বে
আলী ফোরকান
সমাজতান্ত্রিক বিল্পবের তথা বলশেভিক রেভুলিউশনের পর মস্কোতে অনুষ্ঠিত পার্টি নেতাদের এক সম্মেলনে লেলিন বলেছিলেন, ‘আমাকে বিদ্যুৎ দিন’ আমি আপনাদের অর্থনৈতিক বিল্পব এনে দেব। এ ছোট্ট কথাটি তিনি বহু জায়গায় বহুবার বহুভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উৎপাদন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জ্বালানি শক্তি, বিশেষ করে বিদ্যুৎ অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বাংলাদেশে দ্রুত শিল্পায়ন, কৃষি বহুমুখী করা এবং উৎপাদন ব্যবস্থা ওবিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাদুকরি সাফল্য আনতে হলে চাই পর্যাপ্ত জ্বালানি শক্তি। আমাদের দেশের প্রয়োজন বা চাহিদার দিকে লক্ষ রেখে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন বিকল্প নেই। পর্যাপ্ত জ্বালানি শক্তির চাহিদা গণচীন ও ভারতের কাঙ্কিত শিল্পায়ন ও প্রবৃদ্ধির পথেই অন্তরায় নয়। বাংলাদেশের মতো একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির পথেও প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের অপরাপর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হার কাঙ্কিত বা চাহিদা অনুপাতে বাড়েনি। আজকে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ৫ হাজার মেগাওয়াট। সেখানে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদিতহচ্ছে ৩ হাজারের মেগাওয়াটের কাছাকাছি। মোটামোটি ৪ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে দেশে মোটামোটি বিদ্যুৎ’র সামাল দেয়া যাবে। কিন্তু আমরা কিছুতেই সেদিকে এগোতে পারছিনা।
উৎপাদন বাড়িয়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমান: এখন লোডশেডিং নিত্যসঙ্গী, চাহিদা বাড়ছে, অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে না। ফলে, লোডশেডিং বাড়ছে জীবন হচ্ছে দুর্বিষহ। তাই, হাত গুটিয়ে না রেখে বা¯Íবমুখী বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জর"রি। নইলে অন্ধকারে আবর্তনের শেষ হবে না কোনো দিন। নি¯Íার পেতে হলে খাদ্যের পরই বিদ্যুৎ নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ যুগে জাতির ভাগ্যোন্নয়নে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিতরণ অপরিহার্য। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না হলে গোটা জাতি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে। তাই, লোডশেডিং থেকে মুক্তি অত্যাবশ্যক। এ লক্ষ্যে আমাদের কী করণীয়, তা প্রথম নির্ধারণ করতে হবে। সম্ভাব্য সবকিছু বিবেচনা করে একদিকে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে হবে, অপরদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে কৃষি, শিল্প এবং উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কাজটা কঠিন, সন্দেহ নেই; তবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগুতে হবে। প্রয়োজনে কৃচ্ছ্র সাধনায় ব্রতী হয়ে আয়েশের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে উৎপাদনের কাজে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা যেন লোডশেডিঙে অভ্য¯Í না হয়ে পড়ি, এ যেন গা-সওয়া না হয়ে যায়। গা ঝাঁকা দিয়ে সংকটের সমাধানের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে, ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিতে হবে দুর্নীতি আর অদক্ষতা, বা¯Íবতার সঙ্গে মিল রেখে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে; আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক ঋণ বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন বাড়ানোর কাজে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ বা প্রণয়ন করতে পারলে বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলো এগিয়ে আসতে পারে। সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ফলে সংকট নিরসনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে সচেতনতার সঙ্গে জনগণকেও সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। সাময়িকভাবে এসি/ডিপফ্রিজ ব্যবহার বন্ধ করা যেতে পারে। বহুতল ফ্ল্যাট বিল্ডিং নির্মাণের আগে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেওয়া যেতে পারে। ছাত্রদের কষ্ট লাঘবে এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে হতে পারে। নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিঙের জন্য পিডিবিকে দায়িত্ব দিয়ে অন্যান্য সংস্থা বিলুপ্ত করা যেতে পারে। দুর্নীতির মূলে কুঠারাঘাত করে অস্তিত্ব এবং উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত বিদ্যুৎ খাতকে রাহুমুক্ত করতে হবে। সর্বোপরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অবিলম্বে প্রকল্প হাতে নিতে হবে। তাহলে অথৈ জলে না ডুবে সাঁতার কেটে তীরে ওঠা সম্ভব হবে। সমন্বিত জোরদার প্রচেষ্টা বিদ্যুতের লোডশেডিং থেকে মুক্তি দিতে পারে।
লোডশেডিংয়ে বছরে ক্ষতি ৩ হাজার কোটি টাকা: তৈরি পোশাক খাতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ দুই সংগঠন বিকেএমইএ এবং বিজিএমইএ’র দুই সভাপতি দেশের ভয়াবহ বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সংকটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এ পরিস্থিতিতে কেউ বিনিয়োগের জন্য আসবে না। অবস্থার উন্নয়ন না হলে ২০১১ সালের পর দেশের গার্মেন্টস খাত টিকে থাকবে না। জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যাপারে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে গার্মেন্টস মালিকরা বলেছেন, আমরা যথাসম্ভব বিদ্যুৎ সাশ্রয় করব। কিন্তু ভয়াবহ লোডশেডিং ঠেকাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। সেমিনারে পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমত উল¬াহ বলেছেন, শুধু লোডশেডিংয়ের কারণে গত ৩ বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। বিকেএমইএ, জিটিজেড এবং বিজিএমইএ’র যৌথ উদ্যোগে ‘ইকো এবং জ্বালানি দক্ষতা’ বিষয়ক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। জিটিজেড কর্মকর্তা প্যালেসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. ম. তামিম বলেছেন, এই মুহূর্তে সবার জ্বালানি সাশ্রয় করা ছাড়া কোন উপায় নেই। কারণ এখন চাইলেই বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো যাবে না। এই সাশ্রয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকার শিগগিরই মিডিয়ায় প্রচারণা শুরু করবে। এছাড়া সংকট নিরসনে এলএনজি আমদানির চিন্তাভাবনা হচ্ছে। তিনি বলেন, ’৯৬ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতির ৮০ শতাংশই এখনও বাস্ত বায়ন করা হয়নি। এই সেমিনারে জিটিজেডের সিনিয়র পরামর্শক খুরশীদুল ইসলাম এবং অন্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশের ৩ হাজার গার্মেন্টসে প্রায় ৬ লাখ টিউব লাইট ব্যবহার করা হয়। এগুলো পরিবর্তন এবং সাশ্রয়ী ম্যাগনেটিক ব্যালাস্ট বসালে ৪৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। বিজিএমইএ’র সভাপতি আনোয়ার আলম চৌধুরী পারভেজ বলেছেন, এখন শিল্প স্থাপনের কোন পরিবেশ নেই। আর যেগুলো আছে সেগুলো টিকে থাকা কঠিন। জ্বালানির এই জাতীয় সংকট থাকলে ২০১১ সালের পর আমরা টিকে থাকব না। তাই কমপক্ষে ২০ থেকে ৫০ বছরের অ্যাকশন প¬ান দরকার। যাতে ব্যবসায়ীরা আস্থা ফিরে পান। বিকেএমইএ’র সভাপতি ফজলুল হক বলেছেন, শিল্প জোনগুলোতে দৈনিক ৮ থেকে ১০ বার লোডশেডিং হচ্ছে। যদি বিদ্যুতের এ অবস্থা চলে, তাহলে বিনিয়োগ হবে কিভাবে? তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করব। কিন্তু গ্যারান্টি দিতে হবে, সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ আবার শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ দেয়া হবে। কারণ এমনিতেই ব্যবসায়ীরা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। গত কয়েক মাসে ২০ থেকে ৫০ ভাগ কাঁচামালের দাম বেড়েছে। সুতার দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই। এভাবে তো চলে না। গার্মেন্টসের মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, বিদ্যুতের ঘাটতি ২ হাজার মেগাওয়াট। আমরা সাশ্রয় করব। এর আগে এই বিশাল ঘাটতির ব্যাপারে এখনই উদ্যোগ নেয়া হোক। পাওয়ার সেলের সাবেক ডিজি রহমত উল¬াহ বলেছেন, মাস্টারপ¬ান অনুযায়ী প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংকটের ক্ষতি ধরা হয়েছে ৪৩ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে এক বছরে ক্ষতি ৩ হাজার ১৬৪ কোটি এবং গত ৩ বছরে ক্ষতি ৯ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা। এর কারণ ২০০৬ থেকে ’০৮ পর্যন্ত ১৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা, যার এক মেগাওয়াটও বৃদ্ধি হয়নি। তিনি এও মন্তব্য করেন, সিএফএল লাইট প্রতিস্থাপন করলে গার্মেন্টস খাতে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব। বিদ্যুৎ উৎপদান বাড়ান-অর্থনৈথিক সম্মৃদ্ধি বাড়বে
আলী ফোরকান
সমাজতান্ত্রিক বিল্পবের তথা বলশেভিক রেভুলিউশনের পর মস্কোতে অনুষ্ঠিত পার্টি নেতাদের এক সম্মেলনে লেলিন বলেছিলেন, ‘আমাকে বিদ্যুৎ দিন’ আমি আপনাদের অর্থনৈতিক বিল্পব এনে দেব। এ ছোট্ট কথাটি তিনি বহু জায়গায় বহুবার বহুভাবে পুনর্ব্যক্ত করেছেন। যে কোনো দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, উৎপাদন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জ্বালানি শক্তি, বিশেষ করে বিদ্যুৎ অত্যাবশ্যক। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বাংলাদেশে দ্রুত শিল্পায়ন, কৃষি বহুমুখী করা এবং উৎপাদন ব্যবস্থা ওবিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাদুকরি সাফল্য আনতে হলে চাই পর্যাপ্ত জ্বালানি শক্তি। আমাদের দেশের প্রয়োজন বা চাহিদার দিকে লক্ষ রেখে পাল্লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কোন বিকল্প নেই। পর্যাপ্ত জ্বালানি শক্তির চাহিদা গণচীন ও ভারতের কাঙ্কিত শিল্পায়ন ও প্রবৃদ্ধির পথেই অন্তরায় নয়। বাংলাদেশের মতো একটি দ্রুত উন্নয়নশীল দেশের অগ্রগতির পথেও প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের অপরাপর অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হার কাঙ্কিত বা চাহিদা অনুপাতে বাড়েনি। আজকে সারা দেশে বিদ্যুতের চাহিদা ৫ হাজার মেগাওয়াট। সেখানে আমাদের বিদ্যুৎ উৎপাদিতহচ্ছে ৩ হাজারের মেগাওয়াটের কাছাকাছি। মোটামোটি ৪ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলে দেশে মোটামোটি বিদ্যুৎ’র সামাল দেয়া যাবে। কিন্তু আমরা কিছুতেই সেদিকে এগোতে পারছিনা।
উৎপাদন বাড়িয়ে বিদ্যুৎ ঘাটতি কমান: এখন লোডশেডিং নিত্যসঙ্গী, চাহিদা বাড়ছে, অথচ বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ছে না। ফলে, লোডশেডিং বাড়ছে জীবন হচ্ছে দুর্বিষহ। তাই, হাত গুটিয়ে না রেখে বা¯Íবমুখী বিভিন্ন মেয়াদি পরিকল্পনা প্রণয়ন করে দক্ষ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জর"রি। নইলে অন্ধকারে আবর্তনের শেষ হবে না কোনো দিন। নি¯Íার পেতে হলে খাদ্যের পরই বিদ্যুৎ নিয়ে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এ যুগে জাতির ভাগ্যোন্নয়নে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিতরণ অপরিহার্য। পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ না হলে গোটা জাতি মুখ থুবড়ে পড়ে থাকবে। তাই, লোডশেডিং থেকে মুক্তি অত্যাবশ্যক। এ লক্ষ্যে আমাদের কী করণীয়, তা প্রথম নির্ধারণ করতে হবে। সম্ভাব্য সবকিছু বিবেচনা করে একদিকে মানুষের কষ্ট লাঘব করতে হবে, অপরদিকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করে কৃষি, শিল্প এবং উন্নয়নমুখী কর্মকাণ্ডে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। কাজটা কঠিন, সন্দেহ নেই; তবে এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগুতে হবে। প্রয়োজনে কৃচ্ছ্র সাধনায় ব্রতী হয়ে আয়েশের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহার না করে উৎপাদনের কাজে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমরা যেন লোডশেডিঙে অভ্য¯Í না হয়ে পড়ি, এ যেন গা-সওয়া না হয়ে যায়। গা ঝাঁকা দিয়ে সংকটের সমাধানের জন্য সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে, ঝাড়া দিয়ে ফেলে দিতে হবে দুর্নীতি আর অদক্ষতা, বা¯Íবতার সঙ্গে মিল রেখে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে হবে; আন্তর্জাতিক বা বৈদেশিক ঋণ বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন বাড়ানোর কাজে অগ্রাধিকার দিতে হবে। যথাযথ পরিকল্পনা গ্রহণ বা প্রণয়ন করতে পারলে বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলো এগিয়ে আসতে পারে। সরকারের সর্বাত্মক প্রচেষ্টার ফলে সংকট নিরসনে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে সচেতনতার সঙ্গে জনগণকেও সহযোগিতার হাত বাড়াতে হবে। সাময়িকভাবে এসি/ডিপফ্রিজ ব্যবহার বন্ধ করা যেতে পারে। বহুতল ফ্ল্যাট বিল্ডিং নির্মাণের আগে বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ছাড়পত্র নেওয়া যেতে পারে। ছাত্রদের কষ্ট লাঘবে এসএসসি/এইচএসসি পরীক্ষা জানুয়ারিতে হতে পারে। নিয়ন্ত্রণ ও মনিটরিঙের জন্য পিডিবিকে দায়িত্ব দিয়ে অন্যান্য সংস্থা বিলুপ্ত করা যেতে পারে। দুর্নীতির মূলে কুঠারাঘাত করে অস্তিত্ব এবং উন্নয়নের সঙ্গে জড়িত বিদ্যুৎ খাতকে রাহুমুক্ত করতে হবে। সর্বোপরি বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য অবিলম্বে প্রকল্প হাতে নিতে হবে। তাহলে অথৈ জলে না ডুবে সাঁতার কেটে তীরে ওঠা সম্ভব হবে। সমন্বিত জোরদার প্রচেষ্টা বিদ্যুতের লোডশেডিং থেকে মুক্তি দিতে পারে।
লোডশেডিংয়ে বছরে ক্ষতি ৩ হাজার কোটি টাকা: তৈরি পোশাক খাতে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ দুই সংগঠন বিকেএমইএ এবং বিজিএমইএ’র দুই সভাপতি দেশের ভয়াবহ বিদ্যুৎ এবং গ্যাস সংকটে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের এ পরিস্থিতিতে কেউ বিনিয়োগের জন্য আসবে না। অবস্থার উন্নয়ন না হলে ২০১১ সালের পর দেশের গার্মেন্টস খাত টিকে থাকবে না। জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যাপারে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সেমিনারে গার্মেন্টস মালিকরা বলেছেন, আমরা যথাসম্ভব বিদ্যুৎ সাশ্রয় করব। কিন্তু ভয়াবহ লোডশেডিং ঠেকাতে সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে। সেমিনারে পাওয়ার সেলের সাবেক মহাপরিচালক বিডি রহমত উল¬াহ বলেছেন, শুধু লোডশেডিংয়ের কারণে গত ৩ বছরে অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা। বিকেএমইএ, জিটিজেড এবং বিজিএমইএ’র যৌথ উদ্যোগে ‘ইকো এবং জ্বালানি দক্ষতা’ বিষয়ক এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। জিটিজেড কর্মকর্তা প্যালেসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জ্বালানি মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. ম. তামিম বলেছেন, এই মুহূর্তে সবার জ্বালানি সাশ্রয় করা ছাড়া কোন উপায় নেই। কারণ এখন চাইলেই বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো যাবে না। এই সাশ্রয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য সরকার শিগগিরই মিডিয়ায় প্রচারণা শুরু করবে। এছাড়া সংকট নিরসনে এলএনজি আমদানির চিন্তাভাবনা হচ্ছে। তিনি বলেন, ’৯৬ সালের জাতীয় জ্বালানি নীতির ৮০ শতাংশই এখনও বাস্ত বায়ন করা হয়নি। এই সেমিনারে জিটিজেডের সিনিয়র পরামর্শক খুরশীদুল ইসলাম এবং অন্য বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, দেশের ৩ হাজার গার্মেন্টসে প্রায় ৬ লাখ টিউব লাইট ব্যবহার করা হয়। এগুলো পরিবর্তন এবং সাশ্রয়ী ম্যাগনেটিক ব্যালাস্ট বসালে ৪৫ থেকে ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় হবে। বিজিএমইএ’র সভাপতি আনোয়ার আলম চৌধুরী পারভেজ বলেছেন, এখন শিল্প স্থাপনের কোন পরিবেশ নেই। আর যেগুলো আছে সেগুলো টিকে থাকা কঠিন। জ্বালানির এই জাতীয় সংকট থাকলে ২০১১ সালের পর আমরা টিকে থাকব না। তাই কমপক্ষে ২০ থেকে ৫০ বছরের অ্যাকশন প¬ান দরকার। যাতে ব্যবসায়ীরা আস্থা ফিরে পান। বিকেএমইএ’র সভাপতি ফজলুল হক বলেছেন, শিল্প জোনগুলোতে দৈনিক ৮ থেকে ১০ বার লোডশেডিং হচ্ছে। যদি বিদ্যুতের এ অবস্থা চলে, তাহলে বিনিয়োগ হবে কিভাবে? তিনি বলেন, আমরা বিদ্যুৎ সাশ্রয় করব। কিন্তু গ্যারান্টি দিতে হবে, সাশ্রয় করা বিদ্যুৎ আবার শিল্প প্রতিষ্ঠানে সরবরাহ দেয়া হবে। কারণ এমনিতেই ব্যবসায়ীরা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। গত কয়েক মাসে ২০ থেকে ৫০ ভাগ কাঁচামালের দাম বেড়েছে। সুতার দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই। এভাবে তো চলে না। গার্মেন্টসের মালিক মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, বিদ্যুতের ঘাটতি ২ হাজার মেগাওয়াট। আমরা সাশ্রয় করব। এর আগে এই বিশাল ঘাটতির ব্যাপারে এখনই উদ্যোগ নেয়া হোক। পাওয়ার সেলের সাবেক ডিজি রহমত উল¬াহ বলেছেন, মাস্টারপ¬ান অনুযায়ী প্রতি কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ সংকটের ক্ষতি ধরা হয়েছে ৪৩ মার্কিন ডলার। এই হিসাবে এক বছরে ক্ষতি ৩ হাজার ১৬৪ কোটি এবং গত ৩ বছরে ক্ষতি ৯ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা। এর কারণ ২০০৬ থেকে ’০৮ পর্যন্ত ১৫শ’ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির কথা, যার এক মেগাওয়াটও বৃদ্ধি হয়নি। তিনি এও মন্তব্য করেন, সিএফএল লাইট প্রতিস্থাপন করলে গার্মেন্টস খাতে ৭০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটান: বর্তমান তত্ত¡াবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর এদেশের মানুষ বুকে আশা বাঁধে নিশ্চয় বিদ্যুৎ ঘাটতির সমস্যা সমাধান সম্পূর্ণরূপে হবে। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। বর্তমান সরকারের সময়ও প্রায় মারাত্মকভাবে লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। যা সারা দেশে শুরু" বিবিন্ন স্তরের পরীক্ষার্থীদের পড়াশুনার মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে আরো বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন। বর্তমান সরকারের সংশি¬ষ্ট সকল উপদেষ্টাদের কাছে আবেদন তারা যেন দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ৪৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। নয়তো এ দেশের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি এবং ৭৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির ঘনঘন লোডশেডিঙের কারণে যখন তখন রাজপথে ফুসে উঠতে পারে।
লোডশেডিং কমবে কি? দেশজুড়ে বেশ কিছুদিন ধরে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। এ মৌসুমে বোরো ধান উৎপাদন চলছে পুরোদমে কিন্তু লোডশেডিঙের ফলে কৃষকদের পরিমিত পানির জন্য হতাশ হতে হচ্ছে। আর কৃষকরা হতাশার সম্মুখীন হলে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিরাট হুমকির সম্মুখীন হতে হবে । ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা সম্ভব হবে না। এ বছর বাম্পার আলুর ফলন হওয়া সত্যেও লোডশেডিঙের কারণে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ দুরূহ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের লোডশেডিঙের কারণে প্রতিদিন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সর্বোপরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি। প্রতিদিন কল-কারখানায়, বাড়িঘরে সর্বত্র লোডশেডিঙের কারণে জনজীবন হয়ে ওঠে বিষময়-বিপর্যস্ত। অপরদিকে সারা দেশে চলছে বিভিন্ন বোর্ডের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা। বিদ্যুতের জন্য দেশ ও জাতি চরমভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় অর্থনৈতিক, সামাজিক, বৈশ্বিক, এক কথায় সার্বিক উন্নতির শীর্ষে উঠতে চাইলে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প নেই। বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটান: বর্তমান তত্ত¡াবধায়ক সরকার ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পর এদেশের মানুষ বুকে আশা বাঁধে নিশ্চয় বিদ্যুৎ ঘাটতির সমস্যা সমাধান সম্পূর্ণরূপে হবে। কিন্তু সেই আশায় গুড়েবালি। বর্তমান সরকারের সময়ও প্রায় মারাত্মকভাবে লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। যা সারা দেশে শুরু" বিবিন্ন স্তরের পরীক্ষার্থীদের পড়াশুনার মারাত্মক বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে আরো বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে কৃষি ও শিল্প উৎপাদন। বর্তমান সরকারের সংশি¬ষ্ট সকল উপদেষ্টাদের কাছে আবেদন তারা যেন দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার ৪৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করতে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। নয়তো এ দেশের মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি এবং ৭৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতির ঘনঘন লোডশেডিঙের কারণে যখন তখন রাজপথে ফুসে উঠতে পারে।
লোডশেডিং কমবে কি? দেশজুড়ে বেশ কিছুদিন ধরে ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। এ মৌসুমে বোরো ধান উৎপাদন চলছে পুরোদমে কিন্তু লোডশেডিঙের ফলে কৃষকদের পরিমিত পানির জন্য হতাশ হতে হচ্ছে। আর কৃষকরা হতাশার সম্মুখীন হলে অর্থনৈতিক দিক দিয়ে বিরাট হুমকির সম্মুখীন হতে হবে । ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা সম্ভব হবে না। এ বছর বাম্পার আলুর ফলন হওয়া সত্যেও লোডশেডিঙের কারণে হিমাগারে আলু সংরক্ষণ দুরূহ হয়ে পড়েছে। বিদ্যুতের লোডশেডিঙের কারণে প্রতিদিন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, সর্বোপরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অর্থনীতি। প্রতিদিন কল-কারখানায়, বাড়িঘরে সর্বত্র লোডশেডিঙের কারণে জনজীবন হয়ে ওঠে বিষময়-বিপর্যস্ত। অপরদিকে সারা দেশে চলছে বিভিন্ন বোর্ডের বিভিন্ন স্তরের পরীক্ষা। বিদ্যুতের জন্য দেশ ও জাতি চরমভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় অর্থনৈতিক, সামাজিক, বৈশ্বিক, এক কথায় সার্বিক উন্নতির শীর্ষে উঠতে চাইলে বিদ্যুৎ সরবরাহের বিকল্প নেই।
0 comments:
Post a Comment