Saturday, March 28, 2015

জীবনের গ্যারান্টি ! কমে আসছে পার্সেন্টেজ!


জীবনের গ্যারান্টি ! কমে আসছে পার্সেন্টেজ!

এদিকটায় ফিরেও দেখা কেউ নেই। যাদের দেখার কথা তারা বিভিন্নভাবে অন্যত্র ব্যস্ত। অথচ এদিকটার সাথেই জড়িতদের জীবনের গ্যারান্টি, বাঁচার গ্যারান্টি। কিন্তু বাঁচার সেই গ্যারান্টি আর নেই বললেই চলে। আর যতটুকু আছে অবলীলায় কমে যাচ্ছে তার পার্সেন্টেজ। বিষয়টি গ্যাসের মহাসংকট। বর্তমানে যে পরিমাণ গ্যাস প্রতিদিন উৎপাদিত হচ্ছে তার ৫২ শতাংশই ব্যবহৃত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। সারকারখানায় ব্যবহৃত হচ্ছে ১৬.৭৭ শতাংশ। এছাড়া শিল্প কারখানা, ব্যবসা বাণিজ্য ও আবাসিক এলাকায় ৩১.৬৬ শতাংশ ব্যবহৃত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে জিএসএমপি এর মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় বর্তমানের মওজুদ দিয়ে ২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চাহিদা পূরণের জন্য অতিরিক্ত ২৪ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আবিস্কৃত হওয়া প্রয়োজন। বর্তমানে গ্যাস ফিল্ডগুলোর প্রতিদিনের উৎপাদন মতা হচ্ছে ১ হাজার ৭৪০ মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। আর দেশে এখন প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। এর পেছনে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যায় করতে গিয়ে কর্তৃপ হিমশিম খাচ্ছেন। সার উৎপাদন, কৃষি উৎপাদন, শিল্প-বাণিজ্য-আবাসিক সব খাতেই গ্যাসের চাহিদা ক্রমাগত বেড়েই চলছে। সেেেত্র কিভাবে গ্যাসের যোগান দেয়া হবে সে প্রশ্ন ছুঁড়তে হলে আকাশেই ছুঁড়তে হবে। এক কথায় ২০১১ সালে নিশ্চিত ভাবে দেশে গ্যাসের মহাসংকট শুরু হবে আর ২০১৫ সালের মধ্যে আবিষ্কৃত সকল মওজুদ হাওয়া হয়ে যাবে। তখন হয়তো পরিস্থিতি সামাল দেয়ার জন্য ব্যাপকভাবে নতুন গ্যাসত্রে আবিষ্কার ও উত্তোলনের ব্যবস্থা নিতে হবে। এদিকটায় এখন ফিরে তাকানোর কোন বিকল্প নেই। ২০১২ সালে সভা-সেমিনারে জ্বালানী বিশেষজ্ঞরা বাংলাদেশের চরম গ্যাস সংকটের ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিলেন কিন্তু কে শুনেছে কার কথা। আর এখন তো শোষাগ্নি। এখন জল ঢালবে কে! মূল্যবান স¤ক্সদ গ্যাস কিন্তু কখনো মনি:শোষিত নয়। অতএব গ্রাসের মওজুদ ও প্রাপ্তির সঙ্গে মিল রেখে ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হলে হয়তো দূর্ভোগ থেকে রা পাওয়া সম্ভব হতে পারে। কিন্ত তা নিয়ে মাথা ঘামাবে কে? কার এতো অবসর সময় আছে? কে বাঁধবে বেড়ালের গলায় ঘন্টা! জ্বালানী তো এখন জীবনেরই অংশ। পানির মতোই। সুর উঠেছিল পানি নিয়েও। এখন তা আর তেমন শোনা যাচ্ছে না। এই যে টিপাইমুখ নিয়ে বরাট নদী নিয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার হলো, তাতে কি সমস্যার সমাধান হয়েছে? সমস্যা তো যে ঝিমিয়ে ছিল সে ঝিমিয়েই রয়ে গেছে। বলা হয়েছে টিপাইমুখে বাঁধ হলে পানির জন্য শুকিয়ে যাবে বাংলাদেশের বিশাল অঞ্চল। মানুষ পানির জন্য হাহাকার করবে। করবে তো এখনই নয়। অর্থাৎ এ্যাকশন হবে আরো পরে। যখন আর চিৎকার করেও লাভ হবে না কোন। যার যেভাবে হোক সে চিৎকার থেমে গেছে বলেই মনে হয়। পানির অপর নাম জীবন। এখন জ্বালানীরও অপর নাম জীবন। নিঃশেষ হয়ে গেলে বা আবিষ্কৃত না হলে আবার চিৎকার উঠবে কিন্তু তখন আর করার কিছুই থাকবে না। রাজনীতিকরা তাদের রাজনীতি নিয়ে ব্যস্ত, ব্যাবসায়ীরা তাদের ব্যাবসা নিয়ে ব্যস্ত, বুদ্ধিজীবি সুশীল সমাজও তাদের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, তাহলে এখন হচ্ছে কি? দেশে ৭৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের জ্বালানী শক্তির সমপরিমাণ কয়লা মওজুদ আছে। বিশ্বব্যাংকের খসড়া কয়লা নীতিতে এখন থেকে ১০ বছরের মধ্যে বার্ষিক ২০ মিলিয়ন টন, ২০ বছরের মধ্যে বার্ষিক ৪০ মিলিয়ন টন কয়লা তোলার সুপারিশ করা হয়েছে। বিকল্প জ্বালানী উৎস হিসেবে এখন থেকেই আমাদের কয়লার কথা ভাবতে হবে। যদিও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কয়লা পেতে সময়ের প্রয়োজন। তারপরও কয়লা পেতে কয়লার গুরুত্ব অবশ্যই বিবেচনায় রাখতে হবে। কিন্তু এসব নিয়ে তো এখনি কাজ করতে হবে, ভাবতে হবে। আমরা ভাবছিনা কেন? আগে তো নিজেদের অস্তিত্ব নিয়ে ভাবতে হবে এবং একই সাথে কাজ করতে হবে।  ২০১২ সালে সভা সেমিনারে আসন্ন গ্যাস মহাসংকটের কথা বলে সতর্ক করা হয়েছিল কিন্তু সরকার যখন নানান অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা দিয়ে স¤ক্সর্ণ জ্বালানী খাতকে বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিয়ে যায়। যার দ্বায় জাতিকেই টানতে হবে। গ্যাসের অভাবে সারকারখানাগুলোর উৎপাদন বিঘিœত হচ্ছে। সেচযন্ত্রগুলো বিরামহীনভাবে অচল থাকার কুপ্রভাব পড়ছে দেশের কৃষি উৎপাদনে। ফলে খাদ্য ও অন্যান্য ফসল উৎপাদনে ঘাটতির অশংকা দেখা দিয়েছে। গ্যাসনির্ভর শিল্প উৎপাদনও কমে যাচ্ছে আশংকাজনক ভাবে। কমে যাচ্ছে স্বাভাবিকভাবেই রপ্তানী আয়। জ্বালানী সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিল্প, কৃষি, পরিবহন, ব্যাবসা-বাণিজ্য, শিল্প, স্বাস্থ্যসহ সর্বেেত্র। বিগত সরকারের বিপর্যয় সৃষ্টির দায় পড়েছে বর্তমান সরকারের উপর। এসরকার কি কিছু না করে চুপচাপ বসে থাকবে? এখন সংসদে, সভা-সমিতি-সেমিনারে আরো জোরদার ভূমিকাই তো কাম্য। কিন্তু তা কি হচ্ছে ? বা হলেও কতটা হচ্ছে? তবে আশার কথা বিদ্যুৎ খাত উন্নয়নে বর্তমান সরকার ২০২০ সাল পর্যন্ত স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের যে প্রোগ্রাম হাতে নিয়েছে তাতে প্রায় ২০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের ল মাত্রা ধরা হয়েছে। এতে প্রতিদিন গ্যাসের প্রয়োজন হবে ৪ হাজার ২০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু এই নিরবচ্ছিন্ন গ্রাস সরবরাহে পুরো পরিকল্পনা ভেস্তে যাবার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়া যাবে না। বর্তমানে গ্যাসফিল্ড গুলোর প্রতিদিনের উৎপাদন মতা প্রায় ২ হাজার মিলিয়ন ঘনফুটের মতো। দেশে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যৎ উৎপাদিত হচ্ছে। এর পেছনে মাত্র ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যায় করতে গিয়ে হাঁসফাঁস করছে কর্তৃপ। অপরদিকে নানাভাবে গ্যাসের চাহিদা বেড়েই চলছে। মোদ্দাকথা এখন ব্যাপকহারে গ্যাসত্রে আবিস্কারে সরকারকে মনোযোগ দিতেই হবে এবং একই সাথে উত্তোলনের দিকে যতœবান হতে হবে। এখনি যদি জ্বালানী নিরাপত্তার বিষয়টি টপ-প্রায়োরিটি দিয়ে সরকার দেখতে না পারে তা হলে খারাপী আছে আমাদের কপালে। সরকার যদি চোখ কান খুলে এখনো মনোযোগী হয় তাহলে বায়ুুশক্তি, সৌরশক্তির মাধ্যমেও সহায়তা পাওয়ার আশা করতে পারে। বিজ্ঞানীরা বা বিশষজ্ঞরা আরো ভালো ভালো চিন্তা ভাবনা নিয়ে আসতে পারেন। তবে সবই নির্ভর করবে টপ-প্রায়োরিটির বিষয়টির ওপর। রাজনীতিক, ব্যাবসায়ী, বুদ্ধিজীবি-সুশীল সমাজ যতই ব্যাস্ত থাকুন এখন সবার অন্য কোন দিকে দৃষ্টি দেয়ার সময় নেই। জীবনের প্রয়োজনে, জাতির প্রয়োজনে, দেশের প্রয়োজনে একট্টা হয়ে এখনি কাজ করতে হবে। সরকারকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও দেশের জীবনের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে চিন্তা করতে হবে। কারণ অর্থনৈতিক উন্নয়ন ধ্বংস করার জন্যই দ্রুত এগিয়ে আসছে গ্রাসের মহাসংকট। ঝড়ের মতো এগিয়ে আসছে এ সংকট। মনে রাখতে হবে দেশের জীবনের গ্যারান্টির পার্সেন্টেজ দ্রুত কমে আসছে। কিছু না করে হাত গুটিয়ে বসে থাকলে এই পার্সেন্টেজ জিরো’তে এসে পৌঁছাবে আর তার পরিণতি হবে চরমতম বিপর্যয় অর্থাৎ মহাধ্বংস। লেখক: কলামিষ্ট

0 comments:

Post a Comment