Wednesday, April 1, 2015

৪৫ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক কোথায় গেল?


৪৫ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক কোথায় গেল?
অপরুদ্ধ
প্রায় ৪৫ হাজার আগ্নেয়াস্ত্রের মালিককে খুঁজে পাচ্ছে না পুলিশ। অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়ে ওইসব অস্ত্রের মালিক লাপাত্তা হয়ে গেছে। এসব অস্ত্র কোথায় ব্যবহার হচ্ছে, এর কোন তথ্য আইন-শৃংখলা রাকারী বাহিনীর কাছে নেই। লাইসেন্সে দেয়া ঠিকানায় গিয়েও পুলিশ তাদের হদিস পাচ্ছে না। অনেকে অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছে ভুয়া নাম-ঠিকানায় । তদন্তে গোয়েন্দা সংস্থা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানে সীমাহীন অনিয়ম-অব্যবস্থার সন্ধান পেয়েছে। গত কয়েক বছরে এসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। এখন লাপাত্তা হয়ে যাওয়া এসব অস্ত্রই প্রশাসনের মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।  দেশে প্রায় তিন লাখ লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, পুলিশ ও আইন-শৃংখলা রাকারী বাহিনীর সদস্যের নামে লাইসেন্স রয়েছে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩২৯টি। ব্যক্তির নামে অস্ত্রের লাইসেন্স দেয়া হয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ৯১৮টি। বিভিন্ন রাজনৈতিক সরকারের সময়ে বাছ-বিচার না করে এসব লাইসেন্স দেয়া হয়েছে। লাইসেন্স পাওয়ার অযোগ্য ব্যক্তিও মিথ্যা তথ্য দিয়ে লাইসেন্স বাগিয়ে নিয়েছে। দাগী অপরাধী, শীর্ষ সন্ত্রাসী অথবা একাধিক মামলার পলাতক আসামিও মিথ্যা তথ্য দিয়ে অস্ত্রের লাইসেন্স নিয়েছে। কোন নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে দুর্নীতির মাধ্যমে এভাবে হাজার হাজার লাইসেন্স ইস্যু করা হয়েছে। লাইসেন্স প্রদানে অনিয়ম-অব্যবস্থার বিষয়টি প্রথম ধরা পড়ে ২০০২ সালে। কিনহার্ট অপারেশনের সময়।  এসময় লাইসেন্সকৃত সব অস্ত্র (প্রতিষ্ঠান ও আইন-শৃংখলা রাকারী বাহিনীর সদস্যের অস্ত্র ছাড়া) জমা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। তিন দফায় সময় বাড়ানো হলেও বিপুল পরিমাণ লাইসেন্সকৃত অস্ত্র জমা পড়েনি। এ অবস্থা দেখে কর্তৃপরে টনক নড়ে। কি পরিমাণ অস্ত্র জমা পড়েনি এবং এসব অস্ত্রের মালিক কারা, তা নির্ধারণের জন্য ২০০৩ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বেশক’টি কমিটি  গঠন করে। কমিটি এ ব্যাপারে একটি সুপারিশও তৈরি করে। ওই সুপারিশ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত হয়, যারা অস্ত্র জমা দেয়নি তাদের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হবে। দীর্ঘ পাঁচ বছরে এ সিদ্ধান্তের আংশিক বাস্তবায়ন করা হয়েছে। কেবল লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। মামলা বা ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়নি। অনেকে বলছেন, বাতিল লাইসেন্স দেখিয়ে এসব অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে। এখন লাইসেন্স বাতিলকৃত আগ্নেয়াস্ত্রই প্রশাসনের বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য র‌্যাব ও পুলিশকে জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে। সংশিষ্ট থানা পুলিশ লাইসেন্সে দেয়া ঠিকানায় গিয়ে মালিকের খোঁজ পাচ্ছে না। এমনকি তাদের স্থানীয় এবং বর্তমান ঠিকানাও ভুয়া। একই ঠিকানা ব্যবহার করে একাধিক লাইসেন্স নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। নিখোঁজ হওয়া অস্ত্র মালিকদের মধ্যে অনেক দাগী আসামিও রয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, কিভাবে একাধিক সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে ভুয়া তথ্য দিয়ে লাইসেন্স নেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, এ বিষয়ে তদন্ত করে খুব শিগগিরই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। অপরদিকে র‌্যাব বলছে, দেশে বৈধ অস্ত্রের আড়ালে চলছে অবৈধ অস্ত্র ও গুলির ব্যবসা । সরকারে সুত্র মতে, দেশে বৈধ অস্ত্র ১ লাখ ২২ হাজার। আর  জমা পড়েছে মাত্র ৭৫৫১। বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার সময়সীমা শেষ হলেও অনেকেই তাদের বৈধ অস্ত্র জমা দেননি। দেশে শটগান ও ুদ্র অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে ৫৫ হাজার। কিন্তু দু’দফা সময় বাড়ালেও সব মিলিয়ে অস্ত্র জমা পড়েছে মাত্র সাড়ে ৭ হাজার। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অস্ত্র ও গুলি জমা দেননি তাদের তালিকা নিয়ে অভিযানে নেমেছে র‌্যাব। অভিযানে গিয়ে র‌্যাব দেখতে পেয়েছে, যারা অস্ত্র জমা দেননি তাদের অধিকাংশের একটি লাইসেন্সের বিপরীতে একাধিক অস্ত্র রয়েছে। লাইসেন্সে থাকা গুলির সংখ্যার চেয়ে তাদের বাসায় পাওয়া গেছে বিপুল পরিমাণ গুলি। র‌্যাব কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, লাইসেন্সের মালিকরা এ অস্ত্র ও গুলি ভাড়া দিচ্ছে বা বিক্রি করছে। র‌্যাব মহাপরিচালক বলেছেন, অবৈধভাবে এত অস্ত্র ও গুলি রাখার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা অবৈধ অস্ত্র ব্যবসার যোগসূত্র আছে কি-না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দুই দফা সুযোগ দেওয়ার পরও ঠিকমতো অস্ত্র জমা না দেওয়ায় শেষবারের মতো আরেক দফা সুযোগ দেওয়া হয়েছে। ১ ফেব্র“য়ারি থেকে ২৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার সময় নির্দিষ্ট ছিল। পুলিশ সদর দফতরের হিসাব অনুযায়ী দুই দফা সময়ের মধ্যে ৫ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে ৭ হাজার ৫৫১টি। আর গুলি ১৯ হাজার ৩৫৪ রাউন্ড ও কার্তুজ ৪ হাজার ৯৪৯ রাউন্ড। এর মধ্যে রাজধানীতে ২ হাজার ৩৬৪টি। জমা পড়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছেÑ  রিভলভার ৩ হাজার ৪৮০টি, পিস্তল ৩ হাজার ১৫১টি, সিঙ্গেল ব্যারেল বন্দুক ৩৩৬টি, ডাবল ব্যারেল বন্দুক ২১১টি, বন্দুক ১৬৪টি, শটগান ৭৫টি ও রাইফেল ১৩৪টি। বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টনারশিপের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে অবৈধ অস্ত্রের সংখ্যা কমবেশি ৪ লাখ। প্রতিষ্ঠানের পরিচালক শরীফ এ কাফি বলেন, বাংলাদেশে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৫২টি অস্ত্রের লাইসেন্স দিয়েছে সরকার। বাস্তবে এ পরিমাণ অস্ত্র নেই। সারাদেশে অস্ত্র রয়েছে ১ লাখ ২২ হাজারের মতো। এর মধ্যে রাইফেল ৬৭ হাজার। শটগান ও অন্যান্য ুদ্র আগ্নেয়াস্ত্র ৫৫ হাজার। এ হিসাব শুধু সাধারণ আগ্নেয়াস্ত্রের  লাইসেন্সধারীদের। বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থা, ব্যাংক বীমাসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা কর্মীসহ সরকারের আইন-শৃংখলা রায় নিয়োজিতদের আগ্নেয়াস্ত্রের  হিসাব এর বাইরে। গত ৫ জানুয়ারি বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার সময় শেষ হওয়ার পরই যারা অস্ত্র জমা দেয়নি তাদের তালিকা নিয়ে অভিযান শুরু করে বিভিন্ন বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানের প্রথমদিকে ১৬ জানুয়ারি রাতে ঢাকার গাবতলীর এক ওয়ার্ড কমিশনারের বাড়ি থেকে ৭টি অস্ত্র ও ৬ শতাধিক রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব। অস্ত্র উদ্ধার হওয়া ওই পরিবারের প থেকে দাবি করা হয়েছিল ৭টি অস্ত্রের মধ্যে ৬টি অস্ত্রের লাইসেন্স রয়েছে । তবে উদ্ধার করা গুলির কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই বলেই তারা স্ব^ীকার করে। র‌্যাবের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অস্ত্র ও গুলি ভাড়া দেওয়ার ব্যবসাও করেছে। এ অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে মিরপুর থানায় দুটি মামলাও হয়। সর্বশেষ রাজধানীর বিজয়নগর এলাকা থেকে র‌্যাব সদস্যরা তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১০ হাজার রাউন্ড গুলিসহ একজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি তিনটি অস্ত্রের লাইসেন্স আছে বলে দাবি করলেও তিনি মাত্র একটি অস্ত্রের লাইসেন্স দেখাতে পেরেছেন। তাও আবার মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। অভিযান পরিচালনাকারী র‌্যাব-১০ এর ক্যাপ্টেন আসাদুজ্জামান বলেন, আটককৃত ব্যক্তি  অস্ত্র ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে খোঁজ পেয়েই তারা অভিযান চালায়। এ রকম আরো অনেকেই বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্সের আড়ালে অস্ত্র ও গুলি বিক্রির ব্যবসা করছে বলে তাদের কাছে অভিযোগ রয়েছে। এসময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে জরুরি অবস্থ’ার পরিপ্রেেিত সরকার আগ্নেয়াস্ত্রের মালিকদের জমাকৃত অস্ত্র (পিস্তল ও রিভলভার) থানায় জমা দেওয়ার সময়সীমা গত  ১ ফেব্র“য়ারি থেকে ২৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত সময় দেয়। এর আগে প্রথমে ২৪ ডিসেম্বর, পরে ৫ জানুয়ারি, তারপর ৩১ জানুয়ারি ও সর্বশেষ ২৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত অস্ত্র জমা দেওয়ার সময় বাড়ানো হয়।  তাতে ও অধিকাংশ অস্ত্র  জমা না পড়ায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করে তাদের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্বান্ত নেয়। এছাড়া ইতিমধ্যে জমা দেওয়া অস্ত্র (পিস্তল ও রিভলবার) ২৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত থানায় জমা রাখা হয়। জমা নেওয়ার সময় ওইসব অস্ত্র ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত থানায় জমা রাখার কথা ছিল। এরপর ফেরত দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। যারা অস্ত্র জমা দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ’া নেওয়া হচ্ছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানায় , ৫ জানুয়ারি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাড়ে ১৯ হাজার ুদ্র অস্ত্র - পিস্তল ও রিভলবার জমা পড়েছে। আরো প্রায় আড়াই শ’ ুদ্র অস্ত্র জমা পড়েনি। তবে এসব অস্ত্রের অবৈধ ব্যবহার করা হবে তেমনটাও মনে করছে না স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় । এসব অস্ত্রের বৈধ লাইসেন্সধারীরা অস্ত্র ঘরে রেখে দেশের বাইরে রয়েছেন। দেশে বাইরে অবস্থ’ান করায় অস্ত্র জমা দিতে না পারার কথাও অনেকে লিখিতভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন। কিন্তু তারা অস্ত্র আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন না। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের, অস্ত্র জব্দ করা হবে এবং অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। বিদেশ যাওয়ার আগে অস্ত্র থানায় বা মালখানায় নিরাপত্তা হেফাজতে রাখার বিধান রয়েছে। বৈধ অস্ত্রধারীদের জমা নেওয়া অস্ত্র ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সরকারের কাছে রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। ২২ জানুয়ারি নির্বাচন বাতিল হলেও জমা নেওয়া অস্ত্র ফেরত দেওয়া হয়নি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এসব অস্ত্র আরো এক মাস জমা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। জানা যায়, নির্বাচন বিলম্বিত হওয়ায় এসব অস্ত্র জমা রাখার মেয়াদও দীর্ঘায়িত করা হয় । অস্ত্র আইনে অনির্দিষ্টকালের জন্য অস্ত্র জমা রাখতে কোনো বাধা নেই। আর্মস ডিলারের কাছে রাখা আগ্নেয়াস্ত্র, শুটিং ফেডারেশন, রাইফেল কাবের নামে লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্রগুলো ২৮ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত নিজ নিজ কর্তৃপরে নিজস্ব  হেফাজতে রাখতে বলা হয়েছে। বিগত সরকার ঢাকা মহানগরীর কমিশনারসহ ২০০ কমিশনারকে গানম্যান দিয়েছিল। ছয় মহানগরীর সব কমিশনারকে বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়। তারা সেসব অস্ত্র জমা দিয়েছেন। ভবিষ্যতে সব কমিশনারের অস্ত্র ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানা গেছে। অপর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সারা দেশে ৬সহস্রাধিক ভাসমান অপরাধী রয়েছে। এর মধ্যে শুধু ঢাকায়ই রয়েছে তিন সহস্রাধিক ভাসমান অপরাধী। ভুয়া পরিচয় দিয়ে তারা বিভিন্ন স্থানে নানা রকম অপরাধ চালিয়ে থাকে। তাদের ধরতে যৌথ অভিযানে নামছে পুলিশ ও র‌্যাব। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা ভাসমান সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে পুলিশ সদর দফতরে জমা দিয়েছে। গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে হত্যা, চুরি, ডাকাতি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ বেড়ে যাওয়ায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দুশ্চিন্তায় পড়ে যায়। তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীরা ভাসমান সন্ত্রাসীদের বেশি ব্যবহার করছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য এসেছে। তথ্য পাওয়ার পর গোয়েন্দারা ভাসমান সন্ত্রাসীদের ব্যাপারে ব্যাপক অনুসন্ধান চালায়। তারা কোথায় থাকে বা তাদের পারিবারিক পরিচয় কিÑ এ বিষয়গুলোর ব্যাপারে ব্যাপক তদন্ত হয়। গোয়েন্দা রিপোর্ট পাওয়ার পর পুলিশ ও র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একাধিকবার বৈঠক করেন। তাদের ধারণা, চরমপন্থী ক্যাডাররা ঢাকার  বিভিন্ন স্থানে জড়ো হয়ে একের পর এক অপরাধ চালিয়ে আসছে। বিশেষ করে তারা বিভিন্ন ব¯িÍতে আশ্রয় নিয়ে থাকে। চরমপন্থী ক্যাডারদের পাশাপাশি আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসীরাও ভাসমান অপরাধীদের ব্যবহার করে থাকে। ভাসমান অপরাধীরা মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে যে কাউকে হত্যা করছে। ভাসমান সন্ত্রাসীদের ঠিকানা বের করতেও হিমশিম খাচ্ছে পুলিশ। এক স্থানে অপরাধ করে তারা অন্যত্র চলে যাচ্ছে বলে পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন। এ চিত্র শুধু ঢাকা শহরের নয়। শিল্প রাজধানী চট্টগ্রাম, মৃত শিল্পনগরী খুলনার ও  একই চিত্র দেখা যায়। এছাড়া শিা নগরী রাজশাহীর ও একই অবস্থা রিাজ করছে বলে পুলিশ প্রশাসন সদা সতর্ক রয়েছে। খূলনার  উর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত বছরের তুলনায় এ বছর খুলনা বিভাগে অস্ত্র উদ্ধারে সফলতা অর্জন করেছে। বিজ্ঞপ্তি তে বলা হয় চলতি বছর ফেব্র“য়ারী পযর্ন্ত খুলনা বিভাগে ১০৩ টি অস্ত্র ও ৫৩৩টি গুলি উদ্ধার করেছে। যা গত বছরের হিসাবে ৩ গুণ বেশি বলে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে। ঢাকা,চট্টগ্রাম,খুলনা,রাজশাহীসহ দেশের  বিভিন্ন স্থান থেকে একাধিক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশগুলোর পরিচয় শনাক্ত করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এসব হত্যাকান্ডের সঙ্গে ভাসমান অপরাধীরা সরাসরি জড়িত বলে বিভিন্ন সংস্থার কাছে তথ্য রয়েছে। ইতোমধ্যে মধ্যে যৌথভাবে পুলিশ ও র‌্যাব ভাসমান অপরাধীদের ধরতে ঢাকাসহ সারাদেশে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। সন্ত্রাসী ধরা না পড়া পর্যন্ত এ অভিযান চলবে বলে র‌্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন। ওই কর্মকর্তা আরো বলেন, ঢাকার বস্তিগুলোতে ভাসমান সন্ত্রাসীরা বেশি যাতায়াত করে থাকে। তাছাড়া আবাসিক হোটেলও তারা ব্যবহার করে থাকে। স্টেডিয়াম এলাকায় অনেক ভাসমান সন্ত্রাসী রয়েছে। তাদের একটি লিস্ট করা হয়েছে। ভাসমান সন্ত্রাসীরা মার্ডার, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই বেশি করে থাকে।  সূত্রমতে, কয়েকটি গোয়েন্দা সংস্থা ঢাকায় তিন সহস্রাধিক ভাসমান সন্ত্রাসীর লিস্ট তৈরি করেছে। কিন্তুু যাদের তালিকাভুক্ত করেছে তাদের অধিকাংশের নাম ও ঠিকানা ভুয়া। মাঝে-মধ্যে পুলিশ গ্রেফতারের অভিযান চালালে তাদের নাগাল পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক সময় দেখা যায়, ভাসমান সন্ত্রাসী ধরা পড়ার পর তারা ভুয়া নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করে জেল থেকে বের হয়ে আসছে। আমরা আশাকরি সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা সঠিক তথ্য ও সঠিক উপাত্ত নিয়ে আরো আন্তরিকভাবে অগ্রসর হলে এ সব  অবৈধ অস্ত্রধারীদের খোঁজে বের করা কঠিন হবে না। আর অপরাধীদের ও পাকড়াও করা সময়ের ব্যাপার মাত্র। আর  তা এখনই উপযুক্ত সময়। লেখক : গবেষক



0 comments:

Post a Comment