Monday, November 24, 2014

প্রসঙ্গ: ছাত্র ও শিক্ষকদের দলীয় রাজনীতি



cÖm½: QvÎ I wk¶K‡`i `jxq ivRbxwZ
Aci“× Avn‡g`
ছাত্র রাজনীতির একটা ব্যপক ঐতিহ্য রয়েছে আমাদের দেশে। ৪৮,৫২,৬২,৬৯,৭১ আর ৯০-এর গন-আন্দোলনে এক বিশেষ ভূমিকা রেখেছিল এদেশের ছাত্র সমাজ যা দেশের ইতিহাসে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে থাকবে। মহান স্বাধীনতা আন্দোলনে ছাত্র সমাজের অবদান গর্ব করার মত। এখানে যদিও বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ছিল অগ্রগণ্য কিন্তু ছাত্র ইউনিয়নসহ অন্যান্য প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠন এমনকি তখনকার আইয়ূব-মুনায়েমের ছাত্র সংগঠন এনএসএফ-এর নেতৃবৃন্দও (মাহবুবুল হক দোলন) একত্রিত হয়ে ‘ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গঠন করে। ৯০-এর গনআন্দোলনেও একই চিত্র ছিল তবে এসময় ছাত্র সংঠনের সংখ্যা ছিল অধিক। তা হলে বোঝা যাচ্ছে, জাতীয় প্রয়োজনে দলীয় পরিচয়ে নয়, ছাত্র পরিচয়েই আমাদের মহান ছাত্র সমাজ দেশের স্বার্থে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তাই এখন প্রশ্ন হলো, দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র সংগঠনের আদৌ প্রয়োজন আছে কিনা! যে চিত্র আমরা আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করছি তারপরেও ছাত্র রাজনীতির স্বপক্ষে বলার কি কোন অবকাশ আছে ? ছাত্র রাজনীতি অবশ্যই সমর্থন করি, তবে তা হতে হবে ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কল্যাণে। জাতীয় সন্ধিক্ষণে যখন ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে পাই তা হলে হিংসা-বিদ্বেষ প্রসূত দলীয় লেজুড়বৃত্তিক ছাত্র সংগঠনের প্রয়োজন কি ? শিক্ষাক্ষেত্রে যে ক্ষয় ইতিমধ্যেই হয়ে গেছে তা আর কখনই পুরণীয় নয়। আরো ক্ষয়বৃদ্ধি নিশ্চয়ই কারো কাম্য হতে পারে না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অভিবাবকদের জন্যে রীতিমত আতংকের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কত ছাত্র-ছাত্রীর নিষ্পাপ প্রাণ অকালেই ঝরে গেছে ছাত্র রাজনীতির নৈরাজ্যে আর কোন্দলে তার হিসেব কে দেবে ?
দেশে বর্তমানে অর্ধ শতকের বেশি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে এবং সেখানে প্রায় দু’লাখ এর অধিক ছাত্র-ছাত্রী লেখা-পড়া করছে। কই, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গলোতে তো কোন ছাত্র রাজনীতির সুযোগ নাই, তাই সেখানে নৈরাজ্য,কোন্দল বা সেশন জটও নেই। ছাত্র-ছাত্রীরা সেখানে সঠিক সময়ে লেখা পড়া শেষ করে কর্মজীবনে বা উচ্চ শিক্ষা গ্রহনে নেমে পড়ে। অথচ আমাদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কোর্স শেষ করতে ছাত্র-ছাত্রীদের চাকুরীর বয়স পার হয়ে যায়। একই দেশে কত ভিন্ন চিত্র! আমাদের দেশে জনসংখ্যার বিষ্ফোরণ ঘটলেও উচ্চবিত্ত,মধ্যবিত্ত এবং নি¤œ মধ্যবিত্তের মানুষের কাছে পরিবার পরিকল্পনা কর্মসূচী বেশ জনপ্রিয়। এই শ্রেণীভুক্তের শতকরা ৯০ ভাগ পরিবারের সন্তানের সংখ্যা দু’য়ের অধিক নয়। সন্তান সংখ্যা কম হওয়ায় এরা সন্তানের প্রতি অতি বেশী সংবেদনশীল এবং যতœবান। খাদ্যাভ্যাস থেকে শুরু করে দৈনন্দিন সকল কর্মকান্ড পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকে এদের সন্তানেরা। রাজনীতির প্রতি এদের চরম অনীহা। এমনকি তুখোড় রাজনীতিবিদরাও নিজেদের ছেলে-মেয়েদেরকে রাজনীতিতে উৎসাহ দেন না।সারা পৃথিবীতে ছাত্র সংঘর্ষ বা ছাত্র রাজনীতির নেতিবাচক কারণে এতো কর্মঘন্টা ধ্বংস হওয়ার নজীর একটিও নেই। আমরা কবে এ ধ্বংসস্তুপ থেকে নিস্তার পাবো ! শিক্ষাই নাকি জাতির মেরুদন্ড। তা হলে আমরা কোথায় ? এ ব্যপারে আর সময় ক্ষেপন না করে জাতি, ধর্ম,দলমত নির্বিশেষে সকল মানুষ একাট্টা হয়ে এর মূলোৎপাটনে মনোনিবেশ করা জরুরী হয়ে পড়েছে। নাগরিক সমাজকে এগিয়ে আসতে হবে সবার আগে। কারণ আমাদের রাজনীতিবিদ বা রাজনৈতিক দলগুলো এ ব্যপারে কোন প্রকার পদক্ষেপ নেবে না। যদিও কোন কোন রাজনীতিবিদ বা দল এ ব্যপারে ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করে থাকে। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাঁধবে কে ? নাগরিক সমাজ কে বলিষ্ঠ ভূমিকা ভূমিকা রাখতে হবে। প্রাথমিক ভাবে শীর্ষ রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দের সাথে অনানুষ্ঠানিক বা আনুষ্ঠানিক বৈঠক করে আন্দোলনের সূচনা করতে হবে। ক্রমে তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সাথেও আলোচনা সম্প্রসারিত করতে হবে। এ ভাবে দল মত নির্বিশেষে দেশব্যপী একটা ঐক্যমত্য সৃষ্টির প্রয়াশ তৈরী হবে। এতে দেশের সাধারণ জনগণের সমর্থন থাকবে নি:সন্দেহে।একই ভাবে, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের মাঝেও সমান বিভাজন বিদ্যমান। সেখানেও অসভ্যতা আর নোংরামীর কমতি নেই। একজন শিক্ষকের ক্লাসে পাঠ দানে পর্যন্ত এর প্রভাব বিস্তৃত হয়। শুনেছি, পরীক্ষার খাতা দেখতে নিজ আদর্শ বহির্ভূত শিক্ষার্থীদের প্রতি চরম অবিচার করা হয়। এর চাইতে জঘন্য আর কি হতে পারে ? কোন্ উর্বর মস্তিষ্কের বদৌলতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক রাজনীতির মত জঘন্য কর্মকান্ডটির প্রচলন ঘটেছিল জানিনা। অথচ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অন্য কোন অংগে এর প্রচলন নেই। গণতান্ত্রিক পরিবেশে আদর্শ বাছাই এবং তার প্রয়োগে নিজ নিজ স্বাধীনতা বিদ্যমান। জাতির মেরুদন্ড প্রতিষ্ঠায় সন্ত্রাস হানাহানি কারোই কাম্য হতে পারে না। প্রবীন রাজনীতিবিদরা মনে করেন, মাস্তান,সন্ত্রাসী আর পেশী শক্তি দিয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করা যায় না। উপরন্তু, এ সবে ভোট কমে। আশা করি, আমাদের বিজ্ঞ রাজনীতিবিদগণ এ থেকে শিক্ষা গ্রহণ করবেন।পরিশেষে, আমরা দ্ব্যর্থহীন ভাবে দলমত নির্বিশেষে সকল রাজনীতিবিদ,নাগরিক সমাজ,বুদ্ধিজীবি,পেশাজীবিসহ দেশের সকল সচেতন নাগরিকবৃন্দকে আহ্বান জানাবো , ছাত্র রাজনীতি এবং শিক্ষক রাজনীতি বন্ধে আসুন আমরা জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তুলে এর অভিশাপ থেকে জাতিকে মুক্ত করি।

 লেখক: সাংবাদিক ও কলামিষ্ট

0 comments:

Post a Comment