Thursday, April 17, 2014

শিক্ষা আন্দোলনের পটভূমি ও বাংলাদেশ

শিক্ষা আন্দোলনের পটভূমি  ও বাংলাদেশ
ড.ফোরকান আলী
বাংলাদেশে কয়েক হাজার বছর আগে শিার সুচনা হয়। তবে শিক্ষা আন্দোলনের বয়স কিন্তু খুবই কম। ইতিহাসের গত হওয়া দীর্ঘ অধ্যায়গুলোতে শিক্ষা আন্দোলন গড়ে উঠতে পারেনি। তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতার কারণে। প্রাক ঐতিহাসিক যুগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেরই কোন অস্তিত্ব ছিলনা। যেমন ছিলনা অন্যান্য সুসংগঠিত সংগঠন। অনুন্নত সেই আদিম ও অসহায় জীবনে মানুষ টিকে থাকার প্রয়োজনেই নিরন্তর সংগ্রাম করে যেতে বাধ্য হতো। অনানুষ্ঠানিক শিক্ষার সেই দীর্ঘ কালপর্বে শিক্ষা আন্দোলন গড়ে তোলার কোন বাস্তব অবস্থাই পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও ছিলনা।
প্রাচীন বাংলায় আর্যদের আগমনের পর থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু হয়।  শিক্ষা অনানুষ্ঠানিকতার পর্যায় অতিক্রম করে। যা আনুষ্ঠানিক তথা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করে। সেই সময়কার দাস-সামতান্ত্রিক সমাজের কাঠামোকে টিকিয়ে রাখার জন্য যতটুকু প্রয়োজন, তার বেশি লোককে শিক্ষিতি করা হতো না- এই নীতির উপর ভিত্তি করে প্রাচীন যুগের িিশক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠে। সঙ্গত কারণেই অধিকাংশ শোষিত-মেহনতী মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা থেকে দূরে অবস্থান করতে বাধ্য হতো। কারণ তখন রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালিত হতো সমাজের অধিকাংশ মানুষকে শোষণ করে মুষ্টিমেয় মানুষের ভোগ-বিলাস অুন্ন রাখার জন্য। তাই রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনায় তাদেরই ভূমিকা থাকতো। যারা শোষিত নয়, শোষক। সেই সময়ে শিক্ষায় ছিল ধর্মীয় আবরণ অর্থাৎ জৈন, বৌদ্ধ, বৈদিক প্রভৃতি ধর্মের সাথে সম্পর্কিত হয়েই িিশক্ষা ব্যবস্থা ঘুরপাক খেত। এ কারণেই শিক্ষা নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত হতো রাষ্ট্রের অধিপতি ও ধর্মীয় নেতাদের দ্বারা। সাধারণ মানুষের অনুপস্থিতিতে শিক্ষা আন্দোলন তথা শিক্ষার জাগরণ গড়ে উঠার কোন সুযোগ প্রাচীন বাংলায় ছিল না। রাজ আনুকুল্যে মন্দির মঠ কেন্দ্রিক গুটিকয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সৌভাগ্যবান পরিবারের গুটিকয় মানুষই শিক্ষার সুযোগ পেতো। এর বাইরে কিছু করার চিন্তা তখনকার সমাজ কাঠামোর বাস্তবতায় ছিল অনুপস্থিত।
মধ্যযুগের চিত্র আরও করুণ। সমস্ত বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে এই সময়ে গোটা দেশ। এমনকি সমুদ্রযাত্রা কিংবা বাণিজ্য ছিল নিষিদ্ধ বিষয়। তাই শিক্ষা ও সীমিত হয় ুদ্রতর সংকীর্ণ পরিমন্ডলে। নতুন শাসকের আগমনে এই শিক্ষা আরও কোণঠাসা হয়ে পড়ে। নতুন রাজার আনুকূল্যে নতুন শিক্ষার যাত্রা শুরু হয়। অবশ্য শিক্ষার মৌলিক চরিত্রের কোন পরিবর্তন ঘটেনা। এই যুগে নতুন পুরানো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নতুন শাসকরা (তুর্কী, পাঠান, মোঘল প্রভৃতি) ধ্বংস করে দেয়। সংস্কৃত-পালিশিক্ষার জন্য কিছু প্রাচীন প্রতিষ্ঠান এই সময়ে টিকে থাকে মাত্র। এসবের পাশাপাশি নতুন শাসকদের শাসন-শোষনের প্রয়োজনে আরবী-র্ফাসী ভিত্তিক মক্তব-মাদ্রাসা গড়ে ওঠে। সমাজের উচ্চস্তরের অভিজাত পরিবারের সন্তানরাই এই শিক্ষালাভ করার সুযোগ পেতো। বিত্তবান পরিবারের সুযোগের ধন-শিক্ষা নিয়ে এই যুগেও কোন আন্দোলন গড়ে উঠতে পারেনি।
বাংলাদেশ আধুনিকতার পরশ পায় ব্রিটিশ আমলে। ঔপনিবেশিক শাসন- শোষণের প্রয়োজনেই একদিন আধুনিক শিক্ষার প্রবর্তন হয় এদেশে। আধুনিক শিার প্রভাবে একটি শিক্ষিতি মধ্যবিত্ত শ্রেণী জন্মলাভ করে। যাদের দ্বারা এক সময়ে শিক্ষা আন্দোলনেও ভিত্তিপ্রম্তর স্থাপিত হয়। তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার মূলকেন্দ্র (ব্রিটিশ ভারতের রাজধানী) কলিকাতা নগরীকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলন প্রসারিত হয়েছিল।
ব্রিটিশ শাসনামলে শিক্ষা আন্দোলনের অঙ্কুরোদগম হয়েছিল পুরানো ধারার শিক্ষা কাঠামোকে বাঁচিয়ে রাখার দাবিতে। ঔপনিবেশিক শাসন কায়েম করার সাথে সাথেই ব্রিটিশ শাসকরা ইউপরোপীয় শিক্ষা প্রবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি। বরং পূর্ব থেকে চালু থাকা শিক্ষা ব্যবস্থার সাথেই যোগসূত্র স্থাপন করে। এই সময়ে কলিকাতা মাদ্রাসা (১৭৮১) ও বেনারস সংস্কৃত কলেজ (১৭৯১) প্রতিষ্ঠিত হয় ইংরেজদের উদ্যোগে। সম্ভবত দেশীয় বিচারালয় টিকিয়ে রাখা ও জনমতকে বিভ্রান্ত করার জন্যেই তারা এই পন্থা অবলম্বন করেছিল। কিন্তু উনিশ শতকের প্রথমার্ধের মাঝামাঝি পর্যায়ে ইংরেজরা ইংরেজী শিক্ষাকে মদতদানের সিদ্ধান্ত গ্রহন করে। এক সিদ্ধান্তের সাথে সঙ্গতি রেখে মাদ্রাসায়ও ইংরেজী চালু হয়। কোন ছাত্র আরবীর সাথে ইংরেজী না পড়লে তার বৃত্তি কেটে দেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষিত ও সচেতন মুসলমান জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। ১৮৩৫ সালে সরকারী এই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ১৮ হাজার মুসলমানের স্বাক্ষরযুক্ত দরখাস্ত পাঠানো হয় ব্রিটিশ ভারতের ঔপনিবেশিক সরকারের কাছে। গভর্নর জেনারেল আবেদনকারীদের দাবি শেষ পর্যন্ত মেনে নিয়েছিল।১
ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক সরকার কর্তৃক ঘোষিত প্রথম শিক্ষা প্রস্তাবে (৭ই মার্চ, ১৮৩৫) ইউরোপীয় সাহিত্য-শিল্প ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের উন্নতি ঘটানোর কথা বলা হয়। এছাড়া সরকারী তহবিল শুধুমাত্র ইংরেজী শিক্ষার জন্য ব্যয় করা। প্রাচ্য দেশীয় গ্রন্থ মুদ্রণের জন্য অর্থ বরাদ্দ না করা প্রভৃতি বিষয়ও ঐ প্রস্তাবে স্থান পায়।২ সরকারী প্রস্তাব গ্রহণের পিছনে কাজ করেছিল সরকার নিয়োজিত লর্ড ম্যাকলে প্রদত্ত িিশক্ষা বিষয়ক বিখ্যাত ম্যাকলে মিনিট। ম্যাকলে মিনিটে মাদ্রাসা ও সংস্কৃত কলেজসহ এদেশীয় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয়ার কথা বলা হয়েছিল। যদিও রিপোর্টটি গোপন ছিল। কিন্তু কলিকাতার হিন্দু-মুসলমান মহলে কথাটি জানাজানি হয়ে যায়। তাতে উভয় সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যে শঙ্কার ভাব জাগে। তখন দেন-দরবারের বাইরে কিছু করার কথা কেউ ভাবতনা। পুরানো ধারার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত না করার দাবি উঠে। তখন উভয় সম্প্রদায়ের অনেক দস্তখতসহ দু’টি পৃথক আবেদনপত্র সরকারের কাছে পেশ করা হয়। সরকারী মহলে তর্ক-বিতর্কের পর অবশ্য ঠিক হয় যে, প্রাচ্য দেশীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বিলুপ্ত করা হবে না।৩ হিন্দু সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে আর একটি আবেদনপত্র পেশ করা হয়েছিল ১৮৩৮ সালে। এই দরখাস্তে সংস্কৃত ও বাংলা ভাষায় িিশক্ষাদান করা, প্রাচ্য দেশীয় সাহিত্য মুদ্রণ করার জন্য সরকারী উদ্যোগ গ্রহণ করা-প্রভৃতি দাবি উত্থাপিত হয়েছিল।৪
পরবর্তী পর্যায়ের শিক্ষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে। ছাত্র-শিকদের গঠনমূলক প্রয়াসের মাধ্যমে ও কতগুলো সংগঠনের উদ্যোগে। ইংরেজ শাসনামলে প্রবর্তিত প্রচলিত শিক্ষা কাঠামোর মধ্যেও ভিন্নতর কিছু চিন্তা চেতনার সন্ধান পাওয়া যায়। উল্লিখিত পর্যায়ে যা একটি শিক্ষা  আন্দোলনকে অবশ্যম্ভাবী করে তুলেছিল।
ইংরেজ আমলে স্থাপিত প্রথমদিককার উচ্চ  শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল কলিকাতা হিন্দু কলেজ (১৮১৮)। এই কলেজে কিছু সংগঠন গড়ে ওঠে এবং পত্রিকা প্রকাশিত হয়। এগুলিকে কেন্দ্র করে পাঠ্য পুস্তকের বাইরের বিষয় নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতো। বিশ্বাসের পরিবর্তে যুক্তির মানদন্ডে বিচারই ছিল এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য। ধীরে ধীরে এসব সংগঠনকে কেন্দ্র করে একদল প্রগতিশীল ছাত্রকর্মি গড়ে ওঠে। যারা রাষ্ট্র, সমাজ, দর্শন, ইতিহাস, রাজনীতি ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করতো। তাদের এসব আলোচনার মধ্য দিয়ে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধের উত্থান ঘটে। যার ফলশ্র“তিতে শিক্ষার ক্ষেত্রেও নবতর উপলব্ধির সঞ্চার হয়। এই কলেজের প্রধানতম সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তরুন অধ্যাপক লুই হেনরী ভিভিয়ান ডিরোজিও। অ্যাকাডেমিক অ্যাসোসিয়েশন (১৮২৮) নামক এই সংগঠনের আলোচনা সভায় সমাজের কুসংস্কারের বিরুদ্ধে ও যুক্তির সপক্ষে বক্তব্য তুলে ধরা হতো। জ্ঞানোপাজিকা সভা (১৮৩৮) নামক সংগঠনে বাংলা ও ইংরেজী উভয় ভাষা আলোচনার মাধ্যম হিসাবে ব্যবহৃত হতো। বাংলা ভাষার মাধ্যমে  শিক্ষা দান ও বাংলা সাহিত্যের উন্নতির উপর সংগঠন গুরুত্ব আরোপ করেছিল। সর্বতত্ত্ব দীপিকা সভা (১৮৩৩) নামক সংগঠন বাংলা ভাষা ব্যবহারের উপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। এইসব কার্যকলাপ ও মতামত প্রকাশের মধ্য দিয়ে  শিক্ষা  বিষয়ে কতগুলো দাবি উত্থাপিত হয়েছিল। হিন্দু সমাজের ইয়ং বেঙ্গল দল পুঁথিগত বিদ্যার পরিবর্তে হাতে-কলমে  শিক্ষা  তথা বৃত্তিমূলক শিক্ষার দাবি উত্থাপন করে। শিক্ষা বিষয়ক দাবি আরও স্পষ্টভাবে উচ্চারিত হয়েছিল অয়কুমার দত্তের (১৮২০-৮৬) লেখনীতে। তিনি দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট দূর করার জন্য  শিক্ষা  প্রসারের প্রস্তাব করেন। এ জন্য পনের বছর বয়স পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক করা ও সামরিক ব্যয় হ্রাস করে  শিক্ষা খাতে ব্যয় বৃদ্ধি করার প্রস্তাব করা হয়। তাছাড়া কৃষি, প্রকৌশল প্রভৃতি  শিক্ষায় জোর দেওয়ার জন্য তিনি প্রস্তাব করেন।  শিক্ষা  বিষয়ে উল্লিখিত বক্তব্য উত্থাপনের ফলে শিক্ষিত সচেতন মহলে অল্পস্বল্প পরিমাণে হলেও সাড়া পড়েছিল।
ঔপনিবেশিক শাসন কাঠামোকে চালু রাখার প্রয়োজনেই ব্রিটিশরা ও দেশে আধুনিক  শিক্ষা  গড়ে তুলেছিল। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় প্রভৃতি  শিক্ষার স্তর সেই সময়ে গড়ে ওঠে। তাছাড়া চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বৃত্তি কেন্দ্রিক গুরুত্বপূর্ণ  শিক্ষাও সে সময় থেকেই শুরু হয়েছিল। ফলে একটি শিতি জনগোষ্ঠী তৈরী হয়। উনিশ শতকের শেষার্ধে গিয়ে এই শিক্ষিত জনগোষ্ঠী ব্রিটিশদের প্রতিযোগী অনেক ক্ষেত্রে অধিকারহীন বলে মনে করতে থাকে। ঔপনিবেশিক শাসনই নিজেদের অধিকারহীনতার জন্য দায়ী বলে অনেকে মনে করে। তাই নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা  ও ঔপনিবেশিক শাসন সংস্কার করার জন্য একদিকে নিজেদেরকে সংগঠিত করা, অন্যদিকে আন্দোলন গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকে। এই সময়ে দু’একটা ঘটনা শিক্ষিত জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ হতে সহায়তা করে।
১৮৭৬ সালে ব্রিটিশ সিভিল সার্ভিস পরীার্থীদের বয়সসীমা একুশ থেকে কমিয়ে উনিশ করা হয়। জাহাজে করে ব্রিটেনে গিয়ে কোন উনিশ বছর বয়স্ক অবিভক্ত ভারতীয় ছাত্রের পক্ষে এই পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করা ছিল বেশ কঠিন ব্যাপার। এই নীতি চালু করার উদ্দেশ্য যে অবিভক্ত ভারতীয় তরুণদেরকে উচ্চ রাজপদ থেকে বঞ্চিত করা। এটা সচেতন অবিভক্ত ভারতবাসীর কাছে তখন পরিষ্কার হয়ে যায়। তাই এই নতুন বিধান রদ করে সিভিল সার্ভিস পরীায় অংশ গ্রহণের বয়সসীমা বাইশ বছর করার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। দেশব্যাপী প্রচার ও জনমত গঠনের পাশাপাশি ব্রিটেনে পার্লামেন্ট সমীপে একটি আবেদন পত্রও পাঠানো হয়। ১৮৭৮ সালে দেশীয় সংবাদপত্রের কন্ঠরোধ করার জন্য আইন প্রনীত হয। তার পরপরই ভারতীয়দের অস্ত্র বহনের উপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করে অস্ত্র আইন ও ভারতীয় ব্যবসার উপর রাশ টেনে ধরার ল্েয লাইসেন্স আইন জারী করা হয়। এইসব কালাকানুনের বিরুদ্ধে বিশেষ করে সংবাদপত্র আইনের বিরুদ্ধে বাংলায় আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করেছিল। ১৮৮৩ সালে অবিভক্ত ভারতীয় (দেশীয়) ম্যাজিস্ট্রেটদের মতা বৃদ্ধি করে একটি বিল (ইলবার্ট) উত্থাপিত হয়। এই বিল অনুযায়ী কোন ভারতীয় ম্যাজিস্ট্রেট ইংরেজ অপরাধীর বিচার করার ক্ষমতা প্রাপ্ত হওয়ার কথা। ইতিপূর্বে শুধু ইংরেজরাই ইংরেজদের বিচার করতে পারত। ভারতীয়দের ব্যাপক সমর্থন সত্ত্বেও ইংরেজদের বিরোধিতার জন্য এই বিল বাস্তবে রূপায়িত হতে পারেনি।৬
উল্লিখিত ঘটনাবলী ছাড়াও এই সময়ে অর্থনৈতিক অবস্থার বিকাশও বাংলার ঘটনা প্রবাহকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। উনিশ শতকের মাঝামাঝি পর্যায় থেকে ব্রিটিশ লগ্নী পুঁজির পাশাপাশি ভারতের জাতীয় পুঁজিও বিকশিত হওয়া শুরু করে। শিল্প এবং উৎপাদনেও এই পুঁজি বিনিয়োগ হতে থাকে। উনিশ শতকের শেষ দিকে বৃহদায়তন উৎপাদনে ভারতীয়রা এক তৃতীয়াংশ স্থান অধিকার করতে সক্ষম হয়।৭ অত্যন্ত সঙ্গত কারণেই জাতীয় পুঁজির সাথে ঔপনিবেশিক পুঁজির সংঘাত দেখা দেয়। জাতীয় পুঁজির স্বার্থ রক্ষা করার জন্য তখন একটি রাজনৈতিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। উল্লিখিত প্রেক্ষাপটে জমিদার ও বুর্জোয়াদের নেতৃত্বে ভারতের প্রথম রাজনৈতিক দল জাতীয় কংগ্রেস (১৮৮৫) গঠিত হয়। (চলবে)

0 comments:

Post a Comment