ড. ফোরকান আলী
‘উল্লুক পরিবেশের অতি প্রয়োজনীয় প্রাণীদের একটি। মনে রাখবেন মানুষ হিসেবে আপনার যদি পৃথিবীতে টিকে থাকার অধিকার থাকে তাহলে এদেরও সমান অধিকার রয়েছে। এদের সংরণে আপনার সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।’ এমনি একটি লেখা শোভা পাচ্ছে মৌলভীবাজারের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে স্থাপিত একটি বিলবোর্ডে । প্রাণী সংরণবিদরা বলেছেন, সাদা বাঘ আর উল্লুক বাংলাদেশের জন্য এখন বিরল প্রজাতির প্রাণী। বর্তমানে দেশের কোনো বনে উল্লুক না থাকলেও লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে এই প্রাণীর শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে টিকে আছে। আর বিরল প্রজাতির সাদা বাঘ দেশের অন্য কোনো স্থানে বা চিড়িয়াখানায় এ প্রজাতির সাদা বাঘ আছে কি না জানা নেই। এ বিপন্ন প্রজাতির সাদা বাঘ শ্রীমঙ্গল শহরের প্রাণী সংরণবিদ সিতেশ দেবের মিনি চিড়িয়াখানায় রয়েছে। প্রায় ৪ বছর আগে ৬ মাস বয়সী এ সাদা বাঘটি শ্রীমঙ্গলের হাইল-হাওরে জেলেদের জালে ধরা পড়ে। প্রাণী সংরণবিদ সিতেশ রঞ্জন দেব খবর পেয়ে সাদা বাঘটি সংগ্রহ করে তার মিনি চিড়িয়াখানায় নিয়ে আসেন। বর্তমানে সাদা বাঘটি লম্বায় ৪ ফুট, উচ্চতা আড়াই ফুট এবং ওজন ৩৫ কেজি। অত্যন্ত হিংস্র এ সাদা বাঘটি মাংস ছাড়া অন্য কোনো খাবার খেতে চায় না। বাঘটি প্রতিদিন দেড় কেজি ওজনের মুরগির মাংস খেয়ে থাকে। এ বাঘের সবচেয়ে আশ্চর্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছেÑ প্রতি মুহূর্তে এর চোখের রঙ বদলায়। কিছুণ পর পর এর চোখ লাল, হলদে, সাদা ও কমলা রঙ ধারণ করে। সাদা বাঘটি দেখতে এখানে প্রতিদিন প্রচুর দর্শনার্থীর ভিড় জমে। ড. মো. আলী রেজা খানের ‘বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী’ ও ‘দ্য বুক অব ইন্ডিয়ান অ্যানিমেল’সহ বেশ কিছু প্রাণীবিষয়ক বইতে সাদা বাঘ আর কোথাও আছে কি না সে সম্পর্কে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। বিরল প্রজাতির বিলুপ্তপ্রায় প্রাণিকুলের মধ্যে রয়েছে উল্লুক। বাংলাদেশে এ প্রাণীটি খুব কম সংখ্যায় এখনো টিকে আছে। বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এ প্রজাতির প্রাণী আর বেশিদিন টিকতে পারবে না। এর প্রধান কারণ হচ্ছে নির্বিচারে বন-জঙ্গল উজাড় এবং বনাঞ্চলে ফলদ গাছের দুষ্প্রাপ্যতা। উপজাতিরা খায় বলে এ প্রজাতিটির সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে বলে অনেকে মনে করেন। বর্তমানে বাংলাদেশে এ প্রাণীর সংখ্যা ২০০-এর কম বলে জানা গেছে। দেশের বিলুপ্তপ্রায় উল্লুুকের শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে রয়েছে শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক। আন্তর্জাতিক একটি সংস্থা এ প্রাণীটিকে অত্যন্ত বিপন্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। খুব দ্রুত এদের সংরণের উদ্যোগ না নিলে খুব তাড়াতাড়ি এরা বিলুপ্ত হয়ে যাবে। সাম্প্রতিককালে উল্লুক নিয়ে দেশে গবেষণা চলছে। ২০০৩ সালের মার্চে শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক গবেষক ও ছাত্ররা উল্লুক সংরণে উদ্বুদ্ধকরণ ও প্রচারণামূলক সমাবেশ করেন। এর মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিলÑ ‘উল্লুক সংরণে এগিয়ে আসুন’। তখন এখানে কয়েকটি বিলবোর্ডও স্থাপন করা হয়। লাউয়াছড়া বনে কর্মরত বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আইপ্যাক ও বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে মে মাসে ইংল্যান্ডে অধ্যয়নরত ফিনল্যান্ডের ছাত্রী পেট্টা শ্রীমঙ্গলে এসে লাউয়াছড়ায় উল্লুকের ওপর গবেষণা করেন। তার গবেষণার দেখা গেছে, লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্কে ১৪টি উল্লুক পরিবার বা গ্র“প বসবাস করছে। এদের প্রতি পরিবারের সদস্য সংখ্যা ২ থেকে ৫ এবং লাউয়াছড়া বনে এখন মোট উল্লুুকের সংখ্যা ৫১। বাংলাদেশে উল্লুক বিষয়ক গবেষণা অত্যন্ত সীমিত। এ ধরনের গবেষণা ও কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হলে এবং লাউয়াছড়া বর্তমানে বসবাসরত উল্লুক গুলোকে যথাযথভাবে সংরণ করা হলে এখানে বিলুপ্তপ্রায় উল্লুক বৃদ্ধির যথেষ্ট সুযোগ ও সম্ভাবনা রয়েছে বলে গবেষকগণ মনে করেন। তাদের মতে, বাংলাদেশের অন্যান্য বনাঞ্চলের চেয়ে উল্লুক বসবাসের জন্য এখনো লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক অনেক বেশি উপযোগী। উল্লুকরা পরিবারকেন্দ্রিক হয়ে বসবাস করে এবং প্রতিটি পরিবার বা গ্র“প একটি নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে অবস্থান করে। একেকটি দলে ২ থেকে ৫টি সদস্য থাকে। সাধারণত সকালের দিকে ‘হু-হা’ শব্দ করে দলগত অবস্থান ঘোষণা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এদের খাদ্য তালিকায় ৫১ শতাংশ পাকা ফল, ৩৮ শতাংশ ডুমুর, ৫ শতাংশ ফুল এবং ৬ শতাংশ পাতাকুঁড়ি রয়েছে। উল্লুকের আবাসস্থল ক্রমশ ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। গাছ কাটা পড়লে এদের টিকে থাকা সম্ভব নয়। গবেষণায় দেখা গেছে, লাউয়াছড়া ন্যাশনাল পার্ক উল্লুকের শেষ আশ্রয়স্থল। তাই এ বনের পরিবেশ রা করা জরুরি।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment