Thursday, December 5, 2013

৫০ বছরে জলাভূমি কমেছে ৭০ ভাগ

৫০ বছরে জলাভূমি কমেছে ৭০ ভাগ
ড. ফোরকান আলী
গত অর্ধ শতাব্দীতে দেশের জলাভূমির পরিমাণ এক তৃতীয়াংশে নেমে এসেছে। গত পঞ্চাশ বছরে জলাভূমি কমেছে ৭০ ভাগ। আগে যেখানে জলাভূমির পরিমাণ ছিল ৯৩ লাখ হেক্টর বর্তমানে এসে ঠেকেছে ২৮ লাখ হেক্টরে। ধান উৎপাদন বৃদ্ধি নামে কয়েক দশক জুড়ে জলাভূমি ভরাট করে দেশের সামগ্রিক ইকো সিস্টেমের ওপরও বিরূপ প্রভাব তৈরি করা হয়েছে। তাই পরিবেশবিদরা বারবারই প্রশ্ন তুলছেন এই জায়গাটিতে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিমাত্রায় কৃষি জমি আবাদের ল্য থেকেই জলাভূমির ওপর চাপ বাড়ছে। তারা এই প্রশ্নও তুলছেন, একদিকে জলাভূমি যেভাবে কমছে এবং অন্যদিকে মাছের চাহিদা বাড়ছে। তাতে ভবিষ্যতে কি আর দেশে মাছ পাওয়া যাবে? দেশের জলাভূমি সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোন নীতিমালা না থাকায়ই সমস্যা সৃস্টি হচ্ছে বলেও মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, সংবিধানে দেশে কৃষিজমি, বসতবাড়ি, বনভূমি আর পতিত জমি ছাড়া কোন জলাভূমির উল্লেখ নেই। ফলে জলাভূমি নিয়ে কখনো কোন সমস্যা হলে আইনী সহায়তা পাওয়া যায় না। ইচ্ছে করে কেউ নদী বা খালে বাঁধ দিয়ে চাষাবাদ করতে শুরু করলেও বিশেষ কিছু করার থাকে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে সামাজিক আন্দোলন ছাড়া আপাতত কোন সুযোগ নেই। ২০০৭ সালে দেশে প্রথমবারের মতো পালিত হয়েছে বিশ্ব জলাভূমি দিবস। এর পর থেকে প্রতি বছর এ দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ দিবসে জলাভূমি নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা-সেমিনার এবং অন্যান্য অনুষ্ঠানে এটিই উঠে আসছে যে, দেশে জলাভূমি ক্রমেই ছোট হয়ে আসছে। অনেক েেত্র আমাদের অবহেলার কারণেই ঘটছে এটা। সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে, অধিগ্রহণকারী এবং জবরদখলকারীদের জলাভূমি দখলের পরও সরকারি উদ্যোগে স্বাধীনতার পর থেকে ১৭৩ হেক্টরের ৫৬টি মৎস্য অভয়াশ্রম গড়ে তোলা হয়েছে। তাছাড়া ৪৪ হেক্টরে বিল ও ২৮ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। কিন্তু মৎস্য অধিদপ্তর এবং মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সরকারের এই উদ্যোগকে যথেষ্ট মনে করছেন না। তারা বলছেন, প্রতিদিনই দ্রুততার সঙ্গে হিসেবের বাইরে জলাভূমি কমছে। মৎস্য অধিদপ্তরের মতে, বারবার সরকারি নীতি পরিবর্তনের কারণেও জলাভূমি কমে যাওয়ার েেত্র বাজে প্রভাব পড়ছে। এর বাইরে বর্তমানে দেশে ১৬৬টি বস্ত্র শিল্প কারখানা যেভাবে পার্শ্ববর্তী নদী-খালে দূষণ ঘটাচ্ছে তা থেকে আপাতত মুক্তির কোন উপায়ই দেখা যাচ্ছে না। ফলে মাছের বিচরণও হয়ে যাচ্ছে খুবই সীমিত। মৎস্য গবেষকরা বলেন, মাছের ডিম পাড়ার জন্য যে পরিমাণ স্রোত দরকার হয় তার কিছুই আর এখন পাওয়া যায় না। আর সে কারণেই এখন প্রকৃতি থেকে আমরা আর কোন রেণু পাচ্ছি না। তিনি বলেন, শুধু ইলিশ মাছের ডিম ধারণমতাই গত পঞ্চাশ বছরে অর্ধেকে নেমে এসেছে। উৎপাদনের আগে দেশের জলাভূমি নিয়ে যে মালিকানা সেখানেও রয়েছে ঝামেলা। জলাভূমিগুলো মালিক পানি উন্নয়ন বোর্ড নাকি মৎস্য অধিদপ্তর সেই দ্বন্দ্বেও অনেক েেত্রই সময় পেরিয়ে যায়। পরিবেশবিদরা বলেন, দেশের জলাভূমি দেখভাল করার দায়িত্ব বর্তেছে বন অধিদপ্তরের ওপর। এথেকেই বোঝা যায় জলাভূমির অবস্থা কি! অথচ আমাদের জানামতে, নেপাল এবং আফগানিস্তানের মতো দেশ যখন জলাভূমি আইনগত বৈধতা দিয়ে এগিয়ে আসছে তখন আমরা সেটা পারছি না। দেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে জলাভূমি এবং জলজ সম্পদের গুরুত্ব বোঝাতে হবে। এছাড়া এর সংরণ ও সম্প্রসারণের জন্য অনুবাধনের ব্যপারে ও তাদের ওয়াকিবহাল করতে হবে। অপর এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়,ঢাকা মহানগরী প্রতিদিন ৩০ হাজার বর্গফুট জলাভূমি হারাচ্ছে। পরিবেশবিদ এবং বিশেষজ্ঞরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, ঢাকা সিটি প্রতিদিন ৩০ হাজার বর্গফুট জলাভূমি হারাচ্ছে। তারা প্রচলিত আইন বাস্তবায়ন, জলাভূমি সংরণ ফোরাম গঠন, অননুমোদিত প্রকল্পসমূহের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধকরণ এবং শক্তিধর নাগরিকদের অবকাঠামো উচ্ছেদের দাবি জানান। তারা রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপকে (রাজউক) স্বায়ত্তশাসন অনুমোদনসহ জলাভূমি এবং অপরাপর নিষেধাজ্ঞা আরোপিত এলাকা চিহ্নিত করার জন্যও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। বাপা’র প্রফেসর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদের সভাপতিত্বে এ সভায় সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল ও এসএম শাহজাহান, সাবেক মন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবির, বেলা পরিচালক সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, রাজউক উপনগর পরিকল্পনাকারী আবু হাসান মুর্তুজা, সাবেক সচিব কিউআই সিদ্দিকী, ড. শহীদুল আমীন, খুশি কবির, আসিফ নজরুল, ড. মোহাম্মদ আলী এবং রিহ্যাব প্রতিনিধি এমএ আউয়াল প্রাণোচ্ছল আলোচনায় অংশ নেন। বুয়েটের ইসরাত ইসলাম এবং বাপা’র হাবীব মূল নিবন্ধদ্বয় উপস্থাপন করেন। পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা মহানগরকে রার্থে পানি নিষ্কাশনে ব্যবহৃত এর খালগুলো দ্রুত পুনঃখননের পরামর্শ দেন।আমরা আশাকরি  মানুষকে জলাভূমি এবং জলজ সম্পদের গুরুত্ব বোঝাতে সম হলে মাছে ভাতে বাঙালী প্রবাদ বাক্যটি বাস্তবে রুপ পাবে।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267


0 comments:

Post a Comment