Thursday, November 28, 2013

ইছামতি নামে সাত নদী ভুগছে মরণ যন্ত্রণায়

ইছামতি নামে সাত নদী ভুগছে মরণ যন্ত্রণায়
    ফোরকান আলী
‘ইছামতি ইছামতি বুঝি না তার মতিগতি, এই দ্যাখি তর রং-তরঙ্গ আবার দ্যাখি নাইরেঃ।’ গ্রামবাংলায় ইছামতি নদী নিয়ে অনেক ভাওয়াইয়া ভাটিয়ালী জারি সারি গান প্রচলিত আছে। তবে সবচেয়ে মজার তথ্য, ইছামতি নামে সাতটি নদী আছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। দুঃখজনক হলেও সত্যি প্রতিটি ইছামতিই এখন বিলুপ্তির যন্ত্রণায় ধুকছে। নদীগুলো রক্ষায় তেমন উদ্যোগ চোখে পড়ে না। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এক সময় ঢাকার দণি-পশ্চিমাঞ্চলে ইছামতি ছিল প্রসিদ্ধ নদী। মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে যমুনা নদী থেকে উৎপত্তি হয়ে ঘিওর, শিবালয়, হরিরামপুর, নবাবগঞ্জ, দোহার, সিরাজদিখান, শ্রীনগর ও লৌহজং অতিক্রম করে নদীটি পদ্মায় পতিত হয়েছে। এ ইছামতির দৈর্ঘ্য ছিল ৯০ কিলোমিটার, প্রস্থ ১৫০ মিটার ও গভীরতা ৮ মিটার। বারোমাসি এ নদীটি বহু আগেই মৌসুমী নদীতে রূপান্তরিত হয়ে গেছে। ব্রিটিশ আমলের মানচিত্র এবং হাল আমলের মানচিত্রে নদীটির কোন মিল খুঁজে পাওয়া যাবে না। চর পড়ে ও জবরদখলে নদীটির মাঝপথে ৪০/৫০ কিলোমিটার নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে।
দ্বিতীয় ইছামতি দিনাজপুরে ছাতিয়ানগর বিল থেকে উৎপত্তি হয়ে খানসামা, চিরিরবন্দর, পার্বতীপুর ও ফুলবাড়ী দিয়ে বয়ে গেছে। বৃহত্তর ঢাকার ইছামতির মতো দিনাজপুরের ইছামতিরও মরণদশা। ৮২ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৫০ মিটার প্রস্থ এ ইছামতির অনেক জায়গায় নামচিহ্ন খুঁজে পাওয়া যায় না। তৃতীয় ইছামতি গাইবান্ধা-বগুড়ায় অবস্থিত। ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এ ইছামতি গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এবং বগুড়ার গাবতলী উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। করতোয়া থেকে উৎপত্তি হয়ে মিশেছে বাংগালি নদীর সাথে। এ বৈশাখ মাসেও এক ফোঁটা পানি নেই তৃতীয় ইছামতিতে। ভরাট হয়ে নদীটির বহু জায়গায় জনবসতি গড়ে উঠেছে।
চতুর্থ ইছামতি পাবনায়। পদ্মার শাখা নদী এ ইছামতি ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ। পাবনা সদর, সাঁথিয়া ও বেড়া উপজেলায় প্রবাহিত। এ ইছামতি একেবারেই শুকিয়ে গেছে। রেগুলেটার দিয়ে উৎসমুখ বন্ধ করে দেয়ায় বর্ষাকালেও পানি আসে না। ধু ধু বালুচর দেখে বোঝা যায়, এক সময় এখানে একটি নদী ছিল। পঞ্চম ইছামতি রাঙ্গামাটিতে। ঠান্ডাছড়ির পাহাড়ি ঝর্ণা থেকে উৎপত্তি হয়ে ৩৪ কিলোমিটার গতিপথ শেষে রাঙ্গুনিয়ায় কর্ণফুলীতে পতিত হয়েছে। এ প্রজন্মের অনেকের কাছে পাহাড়ি ইছামতি এখন এক বন্ধ্যা নদী। ৬ষ্ঠ ইছামতি কুষ্টিয়ায়। তবে এ ইছামতির কোন তথ্য পানি উন্নয়ন বোর্ড প্রণীত বাংলাদেশের নদ-নদী তালিকায় নেই। তবে বাংলা পিডিয়ায় ইছামতি নদীর বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ভেড়ামারা উপজেলার উত্তর-পশ্চিমে রায়তার কাছে গঙ্গা নদী থেকে বের হয়ে প্রথমে পশ্চিমে এবং পরে দেিণ বেঁকে কুষ্টিয়ার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত নদীটির নাম ইছামতি। অবশ্য এর অস্তিত্ব বলে কিছু আছে কিনা তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল সংশয় প্রকাশ করেছে। সর্বশেষ সপ্তম ইছামতি সাতীরায়। নদীটি সাতীরা সদর, দেবহাটা, কালিগঞ্জ ও শ্যামনগর সীমান্তপথ ধরে কালিন্দি রায়মঙ্গল নদীতে পতিত হয়েছে। ৭৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৮শ মিটার প্রস্থের এই সীমান্ত নদী বারোমাসি হলেও পলিস্তর জমে অনেক স্থানে চর জেগে উঠেছে।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267



0 comments:

Post a Comment