ফোরকান আলী
দণি-পশ্চিমাঞ্চলের এককালের প্রধান নদ ভৈরব এখন একটি মৃত খালে পরিণত হয়েছে। আর ভৈরবের শুষ্ক ব চলে গেছে এক শ্রেণীর ভূমিগ্রাসীর দখলে। প্রায় আড়ইশ’ কিলোমিটার দীর্ঘ এ নদের ভাটি এলাকার প্রবাহটুকুও রুদ্ধ করার প্রতিযোগিতা চলছে। ভৈরবের উৎপত্তি মাথাভাঙ্গা নদী থেকে। এর উৎপত্তিস্থল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলায় পড়েছে। দর্শনার দণি পাশ দিয়ে ভৈরব বাংলাদেশে ঢুকেছে। এরপর চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, যশোর ও খুলনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে গিয়ে পড়েছে ভৈরব। এককালে এই নদটি ছিল খরস্রোতা। কিন্তু ভৈরবের ভৈরবী গর্জন থেমে গেছে। বর্তমানে এর সিংহভাগ অংশে পানির কোন প্রবাহ নেই। আবার কোন কোন অংশে এটি একটি হাজামজা খালে রূপ নিয়েছে। অথচ অতীতে এই ভৈরবের ধারেই গড়ে উঠেছিল নগর, বন্দর। বিলুপ্ত নগরী বারোবাজারও এই নদের তীরে গড়ে ওঠে। কিন্তু পরিবেশগত পরিবর্তন ও মানুষ সৃষ্ট কারণে আজ ভৈরবের মুমূর্ষু অবস্থা। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিগত শতকের আশির দশকের গোড়ার দিকে গঙ্গারাজপুরের কাছে ভারতীয় অংশে ভৈরবের ওপর ক্রস বাঁধ নির্মাণ করা হয়। এতে নদটির পানির উৎস একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে উৎসমুখ থেকে ভাটিতে যশোরের বসুন্দিয়ার আফ্রা ঘাট পর্যন্ত এটি মৃত। ভূমিগ্রাসী নদীখেকোরা এই মৃত নদব দখল করে নিয়েছে। সেখানে কোথাও কোথাও চাষাবাদ হচ্ছে, আবার কোথাও কোথাও নির্মাণ করা হয়েছে পাকা-আধাপাকা অসংখ্য স্থাপনা। নদের যেটুকু অংশে এখন পর্যন্ত প্রবাহ আছে সেখানে ‘পাটা বাঁধ’ দিয়ে প্রবাহ রুদ্ধ করার প্রতিযোগিতা চলছে। এর ফলে এতদঅঞ্চলে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।
ভৈরবকে অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে মুক্ত করার দাবিতে নদের দু’পাশের বাসিন্দা ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক সংগঠন দীর্ঘদিন যাবৎ আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ২০০০ সালে ভৈরব বাঁচানোর জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এজন্য সরকার ৮৪ কোটি টাকার একটি প্রকল্পও হাতে নেয়। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় সে পর্যন্তই। দুই দশক আগেও যশোর শহরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ভৈরবে পানির প্রবাহ ছিল। কিন্তু অবৈধ দখলদারদের দৌরাত্ম্যে তা ক্রমান্বয়ে রুদ্ধ হয়ে গেছে। শহরের একশ্রেণীর প্রভাবশালী লোক শহরের গরীব শাহ্’র মাজার থেকে এইচএমএম রোডের কাঠেরপুল পর্যন্ত ভৈরব নদের ব দখল করে কয়েকশ’ পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছে। ২০০৫ সালের মাঝামাঝি দিকে প্রশাসন এই দখলকৃত নদব উদ্ধারের উদ্যোগ নেয়। সেই ল্েয অবৈধ দখলদারদের একটি তালিকাও করা হয়। কিন্তু মতাসীন দলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দের নাম ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় উদ্ধার অভিযান হোঁচট খায়। পরে রাঘববোয়ালদের বাদ দিয়ে ৬২ জন অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করা হলেও কিছুদিন না যেতেই আবার সেখানে স্থাপনা গড়ে তোলা হয়।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment