ফোরকান আলী
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বিরাজমান সকল বৈপরিত্য সত্বেও উন্নয়নে জলবায়ু ও প্রাকৃতিক অবস্থার দারুণ প্রভাব রয়েছে। যদিও বাংলাদেশের রাজনৈতিক ধারার ইতিহাসে প্রায় সবসময় নানা ঘাত-প্রতিঘাত বিরাজ করছে। এর পরও রাজনৈতিক পরিবেশকে কোন নিদিষ্ট একটি ধারায় বিশ্লেষণ করা বোধ হয় দুঃসাধ্য। ঢাকার রাজনৈতিক বিশ্লেষণ করলেই পুরো দেশের রাজনৈতিক গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এতদসত্ত্বেও বাংলাদেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি কৃষি ও আর্থ সামাজিক প্রেক্ষিতের তেমন কোনো পরিবর্তন আজো সাধিত হয়নি। খাদ্য সমস্যা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা। স্বাধীনতার পর থেকে আজও বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে, এই আন্দোলনের সার্থক পরিণতি খুঁজছে। বর্তমানে দেশের সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষ তিন বেলা নিয়মিত খেতে পায় না। সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য প্রতিদিন যে পরিমাণ খাদ্য খাওয়া দরকার, তা কেনার সামর্থ্য তাদের নেই । প্রয়োজনের তুলনায় গড়ে দেশের মানুষ অনেক কম কিলোক্যালরি খাদ্য পাচ্ছে। বাড়িতে মেহমান এলে দেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষকে মাঝেমধ্যে খাবার ধার করতে হয়। আর এক বেলা খাবার খাওয়ার পর, পরের বেলার জন্য মাঝেমধ্যেই দুশ্চিন্তা করতে হয় প্রায় ৫ কোটি মানুষকে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ইনষ্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) এক সমীক্ষা থেকে দেশব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত এ তথ্য পাওয়া গেছে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাল-আটা-ডাল-তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য বেড়ে প্রায় ™ি^গুণ হওয়ার কারণে দিন দিন খাদ্য নিরাপত্তার এ সমস্যা আরো প্রকট হচ্ছে। তারা খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার পেছনে আরো বেশ কয়েকটি কারণকে চিহিৃত করেছেন। এগুলো হচ্ছেÑ জনসংখ্যা বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান না হওয়া, ফসলি জমি কমে যাওয়া এবং জলবায়ু পরিবর্তন। এসব সমস্যার দিকে নজর না দিলে ভবিষ্যতে কঠিন পরিণতি বরণ করতে হবে বলে বিশেষজ্ঞরা অভিমত ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাব অনুযায়ী, ২০০৪-০৫ অর্থবছর পর্যন্ত দেশের জনসংখ্যা ছিল ১৩ কোটি ৯০ লাখ। ২০০০ সালের পর থেকে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার একই আছে অর্থাৎ বছরে দেশে ২০ লাখ করে মানুষ বাড়ছে। সেই বিবেচনায় দেশের মোট জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে এখন ১৪ কোটি ৫০ লাখে। দেশে দারিদ্র্যের হার বর্তমানে ৪০ শতাংশের মতো। অর্থাৎ ৫ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এখনো দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করেÑ এ হিসাবও বিবিএসেরই। যে হারে লোকসংখ্যা বাড়ছে, সমানতালে দেশীয় খাদ্য উৎপাদন বাড়ছে না। উৎপাদন না বাড়লেও আমদানি করে যে খাদ্য গ্রহণ করা যাবে, সে উপায়ও নেই। কারণ খাদ্য রফতানিকারক দেশগুলো নিজেরাই সংকটে রয়েছে। তাই তারা অন্যতম খাদ্যপণ্য চাল রফতানি বন্ধ করে দিয়েছে। অন্য সমস্যা হচ্ছে, যে হারে লোকসংখ্যা বাড়ছে, সে হারে কর্মসংস্থান বাড়ছে না। বছরে ২০ লাখ লোক বাড়া মানে প্রতি বছর নতুন করে শ্রমবাজারেও লোকসংখ্যা বাড়ছে। আর চাহিদা অনুযায়ী কর্মসংস্থান যেহেতু হচ্ছে না, সুতরাং খাদ্য কেনার ক্ষমতাও নেই তাদের। এদিকে দিন দিন জমিতে ফসলের উৎপাদনশীলতা কমছে। নদীভাঙন ও জমির অন্যান্য ব্যবহারে কমছে ফসলি জমির পরিমাণও। ফসলি জমির পরিমাণ কমার হার বছরে ১ শতাংশ। লোকসংখ্যা বাড়ার কারণে ফসলি জমিতে ঘরবাড়ি তৈরির ঘটনা তো আছেই। খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার পেছনে আরো একটি উল্লেখযোগ্য সংকট অবশ্য রয়েছে, যাতে এককভাবে বাংলাদেশের হাত নেই। তা হলো বৈশি^ক জলবায়ু পরিবর্তন। ২০০৭ সালে প্রকাশিত আন্ত:রাস্ট্রীয় জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যানেলের (আইপিসিসি) চতুর্থ মূল্যায়নে বলা হয়েছে। আগামী দিনে বাংলাদেশের উষ্ণতা ২ ডিগ্রি বাড়তে পারে। সমুদ্র¯ম্ফীতি বাড়ার আশংকা ৪৫ ডিগ্রি সেন্টিমিটার। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে দেশের বিশাল অংশ সামান্য ওপরে অবস্থিত। ফলে বিশাল এলাকা প্লাবিত হয়ে ভয়াবহ পরিণতির ™^ারপ্রান্তে বাংলাদেশ। আর সবার ওপরে রয়েছে মূল্য¯ম্ফীতি। প্রতি বছর টাকার মান কমছে। এক বছর আগে ১০০ টাকা দিয়ে যে পণ্য কেনা যেত আজ তা কিনতে হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকা দিয়ে। বিবিএস অবশ্য বলছে, খাদ্যপণ্যের গড় মূল্য¯ম্ফীতির হার ১০ শতাংশের মতো। আর ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাব মতে, ২০০৭ সালের ১৪ মে এক কেজি মোটা চাল বিক্রি হতো ২১ থেকে ২২ টাকা কেজি দরে। বর্তমানে তা বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৪ টাকা কেজি দরে। এক বছরে মূল্য বেড়েছে ৪৪ দশমিক ১৯ শতাংশ। এভাবে এক বছরে আটার দাম ২৭ থেকে বেড়ে ৪৪, সয়াবিন ৬৭ থেকে বেড়ে ১১৫, গুঁড়োদুধ ৩৯০ থেকে বেড়ে ৫৫৫ টাকা হয়েছে। বিআইডিএসের ‘খাদ্য প্রাপ্যতা নির্ধারণ, ভোগপ্রবণতা এবং বাংলাদেশে পুষ্টিমান নির্ধারণ’ শিরোনামের গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে খাদ্য ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, বিশ^ খাদ্য কর্মসূচি (ফাও) এবং ডিএফআইডির সহযোগিতায়। বিআইডিএসের গবেষণায় দেখাযায়, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, রংপুর, কুষ্টিয়া, কক্সবাজার ও সিলেট জেলার গবেষণা প্রতিবেদন মতে, প্রতিদিন তিন বেলা নিয়মিতভাবে খাবার জোটে না ২৫ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারের। পরিবারের যিনি মূল উপার্জনকারী, তাকে মাঝেমধ্যেই এক বা একাধিক বেলা খাবার বাদ দিতে হয়Ñ এ রকম হার ২৭ দশমিক ৯ শতাংশ। দেশের ২৯ শতাংশ পরিবারকে মাঝেমধ্যেই ভাতের বদলে অন্য খাবার খেতে হয়। ঘরে মেহমান এলে মাঝেমধ্যে খাবার ধার করতে হয় ৪৭ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারকে। ঋণ করে প্রায়ই খাবার কিনতে হয় ৪৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবারকে। পরের বেলার খাবার নিয়ে সবসময় চিন্তিত থাকতে হয় ১৫ দশমিক ৩ শতাংশ পরিবারকে আর মাঝেমধ্যে চিন্তিত থাকতে হয় ৩২ দশমিক ১ শতাংশ পরিবারকে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উচ্চতা ও ওজন অনুযায়ী, নারী-পুরুষ মিলিয়ে গড় খাদ্য দরকার ২১৮৭ কিলোক্যালরি। এর মধ্যে পুরুষের দরকার ২৫২৬ কিলোক্যালরি ও নারীর ১৯০৮ কিলোক্যালরি। মানুষ পাচ্ছে ১৮৯৪ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় ২৯৩ কিলোক্যালরি কম পাচ্ছে। আয় বৈষম্য কমানো এবং ব্যাপকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ছাড়া এ পুষ্টি সমস্যা রোধ করা যাবে না বলে প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ২০০০ সালের হিসাবে মাথাপিছু ৩০ টাকারও কম আয় করে দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ। এদিকে বিশ^ব্যাংক বলেছে, ২ কেজি চাল কিনতেই দরিদ্র মানুষের আয়ের অর্ধেক চলে যায়। বর্তমানে চালের যে দর, তাতে পুরো আয় দিয়েও ২ কেজি চাল কেনা অসম্ভব। সরকারি মতে বেকারের হার ২ থেকে ৩ শতাংশ। আগের দু’সপ্তাহে কাজ করেছে কি-না এর ওপর ভিত্তি করে বেকারের হার নির্ণয় করা হয়েছে। এ হার নির্ণয়ে নারীদের হিসাবেই আনা হয়নি। তিনি বলেন, সম্প্রতি বেকার ৪০ শতাংশ পার হয়েছে। অন্যদিকে কৃষি খাতে বাজেট বরাদ্দ প্রতি বছর কমছে। ১৯৭৩-৭৬ সালে যেখানে বাজেট বরাদ্দ ছিল ৩১ শতাংশ, বর্তমানে তা ৬ শতাংশ। তিনি আরো বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ না নেওয়া হলে বাংলাদেশের জনগোষ্ঠীর জন্য খারাপ সময় অবশ্যম্ভাবী। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার প্রসঙ্গে পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতরের মহাপরিচালক বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে অবশ্যই জনসংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি জড়িত। বর্তমানে টোট্যাল ফার্টিলিটি রেট (টিএফআর) ২ দশমিক ৭-এর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ হার কমানোর নানা উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ‘বাংলাদেশে খাদ্য নিরাপত্তার বর্তমান সংকট ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ’ শিরোনামের এক প্রবন্ধে সম্প্রতি একটি এনজিও’র নির্বাহী পরিচালক ড. মাহবুব হোসেন বলেছেন, জনসংখ্যা বাড়ার কারণে বছরে ৩ লাখ ৫০ হাজার টন চালের চাহিদা বাড়ছে। ফলে চাল উৎপাদনে পাঁচ বছর মেয়াদি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি বাড়ানো দরকার। ২০১২ সাল নাগাদ চালের উচ্চমূল্য থাকতে পারে বলে ওই প্রবন্ধে উল্লেখ করেন তিনি। এদিকে খাদ্য কেনায় আয়ের উল্লেখযোগ্য অংশ ব্যয় করতে হচ্ছে বলে মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্তদের ও ভোগ কমে গেছে। এতে পুষ্টিহীনতা আরো বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন যুগ্মপরিচালক বলেন, এক বছরে খাবার খরচ, পরিবহন ব্যয় ও শিক্ষা খরচ যে হারে বেড়েছে, তার পক্ষে ভদ্রভাবে বেঁচে থাকাটা মুশকিল। একটি জাতীয় দৈনিকের একজন ষ্টাফ রিপোর্টার জানান, তিন বেলা খেয়ে-পরে চলা তার পক্ষেও অসম্ভব হয়ে পড়ে। এক বছর আগে যে বেতন পেতেন, এখনো তাই পাচ্ছেন। মাঝখানে যাতায়াত ভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য প্রায় ™ি^গুণ হয়েছে। কীভাবে কুলিয়ে উঠছেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দুপুরে ভাত খাওয়া এবং সিগারেট খাওয়া বাদ দিয়েছি। রিকশায় পারতপক্ষে উঠি না। আর কিছু সঞ্চয় ছিল ইতিমধ্যে খরচ করা শেষ। সরকারি ঢাকা কলেজ ও খূলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের দু’শিক্ষক বলেছেন, বর্তমান সরকার বেশি দিন থাকবে না ঠিক, তবে যাওয়ার আগে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি একটি উদ্যোগ গ্রহণ করে গেলে সাধারণ মানুষ উপকৃত হতো। গবেষণা প্রতিবেদনের চিত্রকে সারাদেশের চিত্র বলা যাবে কি-না এ প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের শিক্ষক ও ইনষ্টিটিউট অব মাইক্রোফিন্যান্সের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক এমএ বাকী খলিলী বলেন, সব বিভাগ থেকে জেলা নির্বাচন করা হলে তা সারাদেশের গড় চিত্রকেই নির্দেশ করে। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. কাজী শাহাবুদ্দিনও প্রায় একই মন্তব্য করে জানান, বিভিন্ন বিভাগ থেকে নেওয়া বলে জেলা ৬টির ওপর জরিপের ফলাফল এক অর্থে সারাদেশের চিত্রের দিকেই ইঙ্গিত করে। বিআইডিএস মহাপরিচালক বলেন, খাদ্য নিরাপত্তার জন্য আগে আমদানির কথা ভাবা হতো। এখন কিন্তু সে উপায়ও নেই। কারণ বিশ^বাজারেই খাদ্যপণ্য উৎপাদন কমে গেছে। সুতরাং দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর কোনো বিকল্প নেই এখন। তিনি বলেন, অবশ্যই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার আরো কমাতে হবে। এর সঙ্গেই সবকিছু জড়িত। পাশাপাশি দরকার ব্যাপক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা। কারণ আয় না থাকলে, খাদ্য থাকলেও মানুষ না খেয়ে মারা যেতে পারে।এদিকে পাশাপাশি দেখা দিয়েছে শিল্পখাতেও মহাবিপর্যয়। উৎপাদন প্রবৃদ্ধি ৮ বছরের সর্বনিম্নে বাড়ছে বেকারত্ব,। কমে যাচ্ছে রফতানি আয় । শিল্পোৎপাদনে প্রবৃদ্ধির হার হার গত ৮ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন যাবার আশংকা দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই খাদ্য, বিনিয়োগ, নির্মাণসহ অর্থনীতির অন্যান্য খাতে বিপর্যয়ের যে ধারা তৈরি হয়েছিল এর সাথে শিল্পখাতের মহাবিপর্যয়ের অশনি সংকেত যুক্ত হয়েছে। পুরো পরিস্থিতিকে বেহাল অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পোৎপাদনের প্রবৃদ্ধি হার নামমাত্র সাড়ে ৩ শতাংশে নেমে গেছে। অথচ গত ২০০৭ অর্থবছরে শিল্পোৎপাদনের সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির হার ১১ শতাংশের বেশি ছিল। সে সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১.৫৬ শতাংশ। দেশের উৎপাদন সংশ্লিষ্ট সবগুলো খাতে গত এক বছর ধরেই স্থবিরতা চলছিল। একটি পরিসংখ্যানে দেখাযায়, ১৯৮২, ৮৫, ৯১ সালে শিল্পায়নের অবাধ নীতি ঘোষিত হবার পরিপ্রেক্ষিতে শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রটি সহজ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে শিল্পস্থাপনে কেউ সাহসের সঙ্গে এগুচ্ছেনা। বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক আস্থাহীনতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে এই স্থবিরতা আরো প্রকট হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষগুলো থেকে বলা হচ্ছে। দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় ১৮ শতাংশ আসে উৎপাদন সংশ্লিষ্ট খাতগুলো থেকে। দেশের শিল্প শ্রমিক এবং তাদের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি বিশাল জনগোষ্ঠী এই খাতের সাথে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। এই খাতের প্রবৃদ্ধি মন্থরতার ফলে পুরো এই গোষ্ঠীটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী চলতি অর্থবছরের জুলাই-নবেম্বর সময়ে শিল্পোৎপাদনের সাধারণ কোয়ান্টাম ইনডেক্স দাঁড়িয়েছে ৩৬৭.০৭ শতাংশে। পূর্ববর্তী ২০০৭ অর্থবছরের একই সময়ে এটা ছিল ৩৫৪.৫৭। এর ফলে ২০০৭ অর্থবছরে যেখানে শিল্পোৎপাদনের মাঝারি ও বৃহৎ সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১.৫৬ শতাংশ। সেখানে চলতি ২০০৮ অর্থবছরের প্রথমার্ধে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ৩.৫৩ শতাংশ। যা প্রকৃত অর্থে আগের অর্থবছরের মাত্র এক-তৃতীয়াংশেরও কম। এত নিম্ন হারের প্রবৃদ্ধি ২০০০ অর্থবছর থেকে আর কখনোই হয়নি। জুলাই-নবেম্বর সময়ের সূচকের বিশ্লেষণ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের একজন শিক্ষক বলেছেন, অর্থবছরের প্রথমার্ধে শিল্পোৎপাদনের যে ধারা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে তার তেমন কোনো উন্নতি না হয়ে আরো অবনতি হবার সম্ভাবনাই বেশি। এ অবস্থা চলতে থাকলে তার সামগ্রিক বিরূপ প্রভাব পড়বে পুরো জিডিপি ও রফতানির ওপর। ফলে অর্থনীতিতে সুস্পষ্ট দেশের যে আশংকা তৈরি হয়েছে তা আরো জোরদার হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিসংখ্যান ব্যুরোর উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন, চলতি অর্থবছরের জুলাই-নবেম্বর সময়ে খাদ্য, বেভারেজ ও তামাক উৎপাদন বেড়ে মাত্র ৩.১০ শতাংশ, পাট, পোশাক ও চামড়া উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি ৫.০৮ শতাংশ, রসায়ন, পেট্রোলিয়ামজাত সামগ্রীতে ১.৩০ শতাংশ মাত্র। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে ক্ষুদ্র শিল্পে উৎপাদন প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৮.১৪ শতাংশ। ২০০৭ অর্থবছরে ক্ষুদ্র উৎপাদনে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ছিল ১০.২৮ শতাংশ। বৃহৎ ও মাঝারি শিল্পোৎপাদনের সাথে ক্ষুদ্র শিল্পোৎপাদনের যুক্ত গড়ও ৫ শতাংশের নিচে নেমে যাবে। উল্লেখ্য, ২০০০ অর্থবছরের পর থেকে শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধির হার দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছিল। গত ২০০৫-০৬ অর্থবছরে প্রথমবারের মতো শিল্পে প্রবৃদ্ধির হার দু অংকের সংখ্যায় (১০.৭৭) উন্নীত হয়েছিল। এটা ছিল দেশের শিল্পখাতের জন্য স্মরণীয় বছর। গত অর্থবছরের অর্ধেক সময় জুড়ে প্রচণ্ড রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১.১৯ শতাংশ। কিন্তু বর্তমান অর্থবছরে রাজনীতিবিহীন এবং অস্থিরতা ছাড়াই ব্যয়িত অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির হার শুধু এক অংকের নয়, সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসতে চলেছে। পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন সরকারের প্রতি ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীদের আস্থাহীনতার কারণেই এমনটি ঘটছে। বাংলাদেশের এক কালীন অন্যতম শিল্পক্ষেত্র পাট ও টেক্রটাইল মিলে এখন অরাজকতা রিাজ করছে। আবার গামের্›টস শিল্পেও চলছে চরম অস্থিরতা। ভূমির স্বল্পতার কারণে কৃষকরা এখন আর কৃষির উপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল হতে পারছেনা। পরিকল্পনাবিদরার বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য শিল্প কারখানা গড়ে তোলার গুরুত্বারোপ করেছেন। সেদিক থেকে ব্যাখ্যা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে রয়েছে সহস্রাধিক বাধা। যে বাধা সহজে অতিক্রমণ ও সম্ভব নয়। গত কয়েক বছরের অর্থনৈতিক টানাপোড়নের প্রভাব বর্তমানে পড়লে বাংলাদেশ উন্নয়নের মুখ দেখবে, কিংবা উন্নয়নের গতি ক্রমশ দ্রুততর হবে এমন মনে হয়না। তার পরও আমরা আশাকরি বর্তমান সরকার ব্যবসায়ীদের সমন্বয়ে এ সমস্যার সমাধানে জরুরী ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণে এগিয়ে আসবেন। যাতে অন্য একটি সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সন্ধান পাওয়া যায়।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment