weÁvb wk¶vi weKí †bB
†dviKvb
Avjx
একবিংশ শতাব্দী। বিজ্ঞানের যুগ। আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। সঠিক শিক্ষা-ভাবনা এবং বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যাপারে সুস্পষ্ট প্রস্তাবনা না থাকলে আমাদের দেশ- জাতি পিছিয়ে পড়বে। সকল ধরনের উন্নয়নের পূর্বশর্তই হচ্ছে ‘শিক্ষায় উন্নয়ন’। আর সেটা নির্ভর করে শিক্ষিতের হার এবং শিক্ষায় মান উন্নয়নের উপর। সে আমরা অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, সামাজিক যে মুক্তির কথাই বলি না কেন। শিক্ষা ছাড়া কোনো জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর শিক্ষায় উন্নয়ন ঘটাতে হলে প্রথমে আসে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার কথা। আর এতে প্রাথমিক পর্যায়ে মাতৃভাষা শিক্ষা অথবা শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে মাতৃভাষা বাধ্যতামূলক হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া উচ্চতর পর্যায়ে বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম, মাদ্রাসা শিক্ষা নানা মাধ্যমের ব্যবহার আছে। কিন্তু প্রযুক্তির উন্নয়ন অথবা প্রযুক্তি শিক্ষা বিজ্ঞান যথাযথ নেই। আছে প্রযুক্তির উন্নয়ন অথবা প্রযুক্তি শিক্ষা বিজ্ঞান শিক্ষার উন্নয়নে ক্ষুদ্র অংশমাত্র। অতএব বিজ্ঞান শিক্ষার ব্যাপারে দৃষ্টি দেয়া উচিত। নীতি-দর্শনহীন ভেঙেপড়া ইংরেজ আমলের উত্তরাধিকারের রেশ হিসেবে বিকৃত শিক্ষাব্যবস্থা এখনও বিদ্যমান। সেই ব্যবস্থার মধ্যে এইচএসসি, ডিগ্রি বা মাস্টার ডিগ্রি পাস করানো জনগোষ্ঠী শেষপর্যন্ত কেরানিই হয়, তা গত চল্লিশ বছরের হিসাব নিলেই স্পষ্ট হবে। প্রশিক্ষণ বা ট্রেইনিং হচ্ছে একটি স্বল্পমেয়াদি বিষয়। যার মাধ্যমে একটি জনগোষ্ঠীকে কোনো একটি বিষয়ে দক্ষ করে তোলে এবং জীবন-জীবিকার একটা উপায় তৈরি করে দেয়। এর সঙ্গে শিক্ষা বা এডুকেশনকে মিলিয়ে ফেলা ঠিক নয়, কিছুটা ভয়ংকরও বটে। শিক্ষা বিষয়টি একটি দীর্ঘমেয়াদি ব্যাপার। তার ফলাফলও ধীরে ধীরে আসে। সঠিক শিক্ষণ বা শিক্ষাগ্রহণের মাধ্যমেই শুধু সেই জনগোষ্ঠী তৈরি করা সম্ভব। যার মাধ্যমে মানবিক গুণাবলী, সহনশীল ক্ষমতা, জগৎ সংসারকে উদার দৃষ্টিতে দেখার শক্তি অর্জন হয়। আবার নিজের চিন্তা ও কর্মের মাধ্যমে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার এক ধরনের তীব্র আবেগ ও আকাঙক্ষা কাজ করবে। উল্লেখ্য, স্কুল-কলেজের শিক্ষা বিষয়ক ভূমিকা নিয়ে একবার আইনস্টাইন বলেছিলেন, ‘কখনো কখনো কেউ কেউ তরুণ প্রজন্মের কাছে সর্বাধিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যম হিসেবে স্কুলকে গণ্য করেন। কিন্তু তা ঠিক নয়। স্কুলের উচিত তরুণদের মধ্যে সেইসব গুণ ও দক্ষতা গড়ে তোলা, যা মানবজাতির কল্যাণের জন্য মূল্যবান’। কারণ একজন মানুষ সঠিক শিক্ষাগ্রহণ করলেই (তা স্কুল-কলেজের মাধ্যমে শিখুক অথবা প্রকৃতির মাধ্যমে হোক) সমাজকে যথার্থ পথ নির্দেশনা দিতে পারে। সেই সঙ্গে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনগোষ্ঠীকেও পরিচালিত করতে পারে। আমরা চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি শিক্ষার নামে প্রশিক্ষণ বা ট্রেনিং নেয়া এক জাতি কীভাবে গত চল্লিশ বছর ধরে কূট তর্ক অবক্ষয় আর অধঃপতনের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। একটা শিশু স্কুলে পা পড়তে না পড়তে তার উপর ভয়াবহ চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তাকে কত দ্রুত সবকিছু শেখানো যায়, কত দ্রুত দক্ষ করা যায়। সেই চাপের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে অর্থ প্রাপ্তি এবং সামাজিক অবস্থান বাড়ানো এবং অভিভাবকের অপ্রাপ্তির দুঃখ ঘোচানো। এ সবই ভবিষ্যৎ সম্পর্কে প্রচণ্ড অনিশ্চয়তা থেকে সৃষ্ট, যার সঙ্গে শিশুর মানুষ হওয়ার বা মানবিকগুণাবলী বিকাশের কোনো সম্পর্ক নেই। একটা শিশু জন্মই নেয় নিজস্ব বৈশিষ্ট্য বা চরিত্র নিয়ে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা পরিবারগুলোর কাজ হচ্ছে সেগুলোকে স্বাধীনভাবে বাড়তে দেয়া এবং তার স্বাভাবিক বিকাশ ঘটানো। তা না হলে মানুষকে ভালোবাসবে কেমন করে সমাজই বা সামনের দিকে নিয়ে যাবে কেমন করে? চল্লিশ বছরের ইতিহাসে আমরা বিভ্রান্তিকর শিক্ষা পদ্ধতির মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়ে গেছি। দেশ স্বাধীনের পরে আমরা অনেক শিক্ষাকমিশন গঠন করেছি। এত আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থাতো দূরের কথা, কোনো কমিশনই আমাদের সমাজের -দেশের কাজে আসেনি। ফলে বিজ্ঞান থেকে আমরা রয়েছি বিচ্ছিন্ন। যখন এসএসসি ও এইচএসসির ঘোষিত ফলাফল নিয়ে বিকৃত আনন্দে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মিডিয়া মেতে ওঠে তখন যমুনা সেতু রক্ষণা-বেক্ষণের ব্যর্থতা, সেতু বানানোর প্রকৌশলিক দক্ষতার অভাব, র্যাংগস ভবনের মতো একটি ভবন ভাঙার অযোগ্যতা, ডাক্তার হতে চাওয়া সেরা ছাত্রগুলোর মানসিক সংকীর্ণতা, অমানবিকতা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় ধ্বংসপ্রাপ্ত শিক্ষাব্যবস্থা, ইতিহাসবিমুখ এক সমাজের কথা। যা চূড়ান্তভাবে ঢাকাসহ অধিকাংশ বিভাগীয় শহরের উপর নির্ভরশীল। অথচ সেই বিভাগীয় শহরের কোনো অবকাঠামোই, প্রাকৃতিক বিপর্যয় তো দূরের কথা, একটি ভবন ধসে পড়লে, আগুন লাগলেও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না বা তার ব্যবস্থাপনাও আমাদের হাতে নেই। মাঠহীন সব স্কুল। ক্যাম্পাসবিহীন কলেজ, বিশ¡বিদ্যালয়। একটি পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতিবছর ২২ লাখ শিশু প্রাথমিক শিক্ষার স্তর সমাপ্ত হবার আগেই ঝরে পড়ছে। শতভাগ শিশুকে বিদ্যালয়ে ভর্তি করানো যাচ্ছে না। এ কারণে প্রতিবছই নিরক্ষর লোকের সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে দেশের ১৯ হাজার গ্রামে কোন বিদ্যালয় নেই। হাওর এলাকা, প্রতিবন্ধী, চা জনগোষ্ঠীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করতে নানা বেগ পেতে হচ্ছে সরকারকে। এসব নানামুখী প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে দেশকে নিরক্ষরমুক্ত করতে সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে বর্তমান সরকার ২০১০ সালের মধ্যে প্রাথমিক স্তরে প্রকৃত ভর্তির হার শতভাগে উন্নীত এবং ২০১৪ সালের মধ্যে নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছে। পাশাপাশি স্নাতক স্তর পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক, পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মাধ্যমিক স্কুল এবং ঢাকায় প্রতিটি থানায় মাধ্যমিক হাইস্কুল প্রতিষ্ঠাসহ শিক্ষা উন্নয়নে নানামুখী পরিকল্পনার কথা ঘোষণা দিয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, রাজনৈতিক সরকারের পক্ষে অনেক কাজই করা সম্ভব। তবে এ কাজে সঠিক কর্মপরিকল্পনা এবং সদিচ্ছা থাকতে হবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকার গঠনের পর ব্যস্ততা, দলীয় স্বার্থ আদায়সহ নানা কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ে রাজনৈতিক সরকারগুলো। ইশতেহারের বিষয়গুলো ভুলে যায়। এর মধ্যে থেকেও শিক্ষার মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টরকে বাঁচিয়ে রাখতে, দক্ষ মানব সম্পদ তৈরিতে শিক্ষার মান উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়ছে। কারন, মানব উন্নয়ন সূচক এবং গ্লোবাল মনিটরিং রিপোর্ট-২০০৯-এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৫২ শতাংশ। আবার ইউনেস্কো ইনস্টিটিউট অব স্টাটিসটিকস, বিশ্ব ব্যাংক, আইএমএফ এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বয়স্ক সাক্ষরতার হার ৪৭ শতাংশ। এর মধ্যে ৫৪ শতাংশ পুরুষ এবং মহিলা ৪১ শতাংশ। ২০০৫ সালের ইউনেস্কো ও ঢাকা আহছানিয়া মিশন কর্তৃক পরিচালিত জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে সাক্ষরতার হার ৪১ দশমিক ৫ শতাংশ। এসব তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী এখনও নিরক্ষর। দেশের বর্তমান জনসংখ্যা ১৫ কোটি। এই জনসংখ্যার মধ্যে ১৫ বছরের বেশি অর্থাৎ বয়স্ক জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ৯ কোটি। সাক্ষরতার হার অনুযায়ী দেশে এখনও সাড়ে ৪ কোটি লোক নিরক্ষর। বর্তমান সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাইলে আগামী ৬ বছরের মধ্যে সাড়ে ৪ কোটি মানুষকে সাক্ষর করে তুলতে হবে। তবে এত অল্প সময়ে প্রকৃত ভর্তির হার শতভাগ এবং ২০১৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে নিরক্ষরমুক্ত করা সম্ভব নয়। তবে তারা এ বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করছে তা ভাল। আমাদের মতে, সরকারের একার পক্ষে এ কাজ করা সম্ভব নয়। এজন্য প্রয়োজন সামাজিক উৎসাহ। সাধারণত রাজনৈতিক দল সরকার গঠনের পর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ইশতেহারের বিষয়টি কিছুদিন পরে ভুলে যায়। যাই হোক না কেন দীর্ঘ সময় নিয়ে হলেও দেশেকে নিরক্ষরমুক্ত করা এবং প্রকৃত ভর্তির হার শতভাগে নিয়ে আসা উচিত। আমাদের দেশে এখনো পর্যন্ত বয়স্ক সাক্ষরতার কার্যক্রমের মান চিত্রায়ন হয়নি। জাতীয় মান চিত্রায়নের মাধ্যমে অনুন্নত অঞ্চল, সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠী, কার্যক্রমের কার্যকরিতা, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভৌগোলিক ও জনসংখ্যাতাত্ত্বিক পরিসীমায়ন জেনে সরকারের এ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থার একটি চিত্র বিখ্যাত চলচিত্রকার ঋত্বিক ঘটক তার পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ ছবির এক সংলাপের মধ্যদিয়ে বলেছিলেন, এক ছেলে তার বাবাকে বলছিল বাবা, আমিতো লেখাপড়া শিখিনি মূর্খ রয়ে গেছি। তাই তোমার নাতীকে মক্তবে ভর্তি করে দেই। তখন দাদা বলছিল, ওই লেখাপড়া শেখা দরকার নাই। যে লেখাপড়া শিখে সে কোর্টে মুহুরীর মতো মানুষ ঠকানোর কাজ করবে।’ সম্ভবত তিনি এই কারণে বলেছিলেন কুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার চেয়ে অশিক্ষিত থাকা ভালো। অন্তত প্রকৃতির কাছ থেকে ভালো কিছু শেখার সম্ভাবনা থাকে। ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বিজ্ঞান শিক্ষার গুরুত্ব বাড়াতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থা কে ঢেলে সাজানো না গেলে, শিক্ষার নামে বছরের পর বছর প্রশিক্ষণ দিলে ডিজিট্যাল বা ইলেক্ট্রনিক্স শিক্ষা কোনটাই কাজে দেবে না।
†jLK: M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
†jLK: M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMb evey †ivo, Lyjbv-9100
†gvevBj : 01711579267
email.fourkanali@gmail.com.
0 comments:
Post a Comment