চট্টগ্রামে চার প্রধান নদীর পানিতে দূষণ বাড়ছে
ফোরকান আলী
চট্টগ্রাম ওয়াসা হালদা নদীর পানি শোধন করে নগরবাসীর জন্য যে পানি সরবরাহ করছে। চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণায় দেখা গেছে, তা খাওয়ার অযোগ্য। বাকখালি নদীর পানি দিয়ে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছে কৃষি অধিদপ্তর, তাতে ফলনের জন্য তিকর উপাদান দ্বিগুণেরও বেশি পাওয়া গেছে গবেষণায়। আবার মাছসহ জলজ প্রাণী বেঁচে থাকতে পানিতে যে পরিমাণ দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন, কর্ণফুলী নদীতে তা পাওয়া গেছে কাঙিত মাত্রার চেয়ে তিনগুণ কম। ৮ বছর ধরে চট্টগ্রামের প্রধান চার নদী কর্ণফুলী, হালদা, বাকখালি ও ডাকাতিয়ার পানি পরীা করে দূষণের ভয়াবহ এ চিত্র পায় পরিবেশ অধিদপ্তর। দূষণের কারণে বাড়ছে রোগ, উৎপাদন কমছে কৃষি জমিতে। বিলুপ্ত হচ্ছে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। দূষণ প্রতিরোধে জরুরি পদপে নিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক বলেন, ‘নদীর পানি সেচ কাজে, মাছ চাষে কিংবা মানুষের পান করার উপযোগী করতে পানিতে কলিফর্ম জীবাণু ও দ্রবণীয় অক্সিজেনের মাত্রা কাঙিত মাত্রায় থাকতে হয়। তা না হলে শোধনের পরও পানিতে জীবাণু থেকে যায়। আর দ্রবীভূত অক্সিজেন কাঙিত মাত্রায় না থাকলে নদীর ঐ পানি মারাত্মকভাবে তি করে জলজ প্রাণী ও ফসলী জমির। গবেষণা প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’ চট্টগ্রাম ওয়াসা হালদা নদীর পানি শোধন করে নগরবাসীর জন্য সরবরাহ করছে। জীবাণুমুক্তকরণের মাধ্যমে সরবরাহকৃত প্রতি ১শ’ মিলিলিটার সুপেয় পানিতে কলিফর্ম জীবাণু ৫০ বা তার নিচে থাকতে হবে। কিন্তু এ নদীর পানিতে এই জীবাণু প্রতি ১০০ মিলিলিটারে এক হাজারের কাছাকাছিও পাওয়া গেছে। ফলে এ নদীর পানি শোধন করেও তা পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত করতে পারছে না চট্টগ্রাম ওয়াসা। অথচ এ নদী থেকে সংগৃহীত পানি দিয়েই চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিদিন ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করছে। ওয়াসার মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী জানে আলম জানান, হালদা নদী থেকে সংগৃহীত পানি স্বাভাবিক শোধনাগারে নিয়ে নগরবাসীকে সরবরাহ করছে তারা। বিশেষ প্ল্যান্টে এ পানি শোধন না হওয়ায় জীবাণুযুক্ত পানি পান করতে হচ্ছে ৪০ লাখ নগরবাসীকে। ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারা বলেন, ‘ওয়াসার পানিতে কলিফর্ম জীবাণূ থাকায় শিশুরা ঘনঘন ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। কিছুদিন পরপর এ রোগ হওয়ায় তা দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব ফেলছে তাদের কিডনিতে।’ দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী মাছের বসবাসের জন্যও ক্রমশ অযোগ্য হয়ে উঠেছে। মাছের জন্য নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) প্রতি লিটারে ৫-৬ মিলিগ্রাম থাকা আদর্শ হলেও ২০০৪ সালের ৩ মার্চ এই নদীতে ডিও পাওয়া গেছে ৮.২ মাত্রার। অথচ ২০০২ সালের ৪ ডিসেম্বর সংগৃহীত নমুনায় একই নদীতে ডিও ছিল লিটারে মাত্র ৪.৫ মিলিগ্রাম। পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণায় হালদা নদীতে ২০০৭ সালের ৪ জুন ২.৭৫ মাত্রার বিওডি পাওয়া গেছে। একই বছরের ৪ আগস্ট এই মাত্রা পাওয়া যায় মাত্র ১.২ মিলিগ্রাম। নদীর সুপেয় পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) ৬ বা তদূর্ধ্ব থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ২০০২ সালের ৪ ডিসেম্বর সংগৃহীত নমুনায় ডিও পাওয়া গেছে মাত্র ৪.৫ মিলিগ্রাম। অথচ নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কাঙিত মাত্রায় না থাকলে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন ধারণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় তখন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয় তাদের বিভিন্ন প্রজাতি। ২০০৩ সালের ২১ জানুয়ারি কর্ণফুলী নদীতে ৭.৫ মাত্রার দ্রবীভূত অক্সিজেন পাওয়া গেলেও ২০০৭ সালের একই দিন তা নেমে আসে ৩.৮০ মাত্রায়। দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রার এমন উঠা-নামায় কর্ণফুলী নদী থেকেও মাছ ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বলে মতামত দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র রসায়নবিদ বলেন, ‘পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে মাছ অক্সিজেনের খোঁজে ক্রমশ উপরের দিকে উঠতে থাকে। সেখানে কোন কারণে বাধাপ্রাপ্ত হলে তখন নিরাপদ বাসস্থানের জন্য মাছ অন্যত্র ছুটতে থাকে।’
সেচ কাজে ব্যবহৃত পানিতেও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ৫ বা তদূর্ধ্ব হওয়া বাঞ্ছনীয়। অথচ যে বাকখালি নদীর পানি দিয়ে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছে কৃষি অধিদপ্তর তাতে ডিও পাওয়া গেছে গড়ে ৪ মিলিগ্রাম। একই কাজে ব্যবহৃত পানিতে বিওডি ১০ বা তার সামান্য কম থাকা অপরিহার্য হলেও ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ এ নদী থেকে সংগৃহীত নমুনায় তা পাওয়া গেছে মাত্র ১.৯০ মিলিগ্রাম/লিটার। আবার ডাকাতিয়া নদীতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের গড়ে পাওয়া গেছে ৭ থেকে ৭.২৫ মাত্রা। ২০০৪ সালের সেচে ব্যবহৃত পানির এমন অস্বাভাবিকতায় ক্রমশ কমছে কৃষির ফলন। চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নদীর পানির এমন অস্বাভাবিকতায় ফলন ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘নদীর পানির অস্বাভাবিকতায় চলতি বোরো মৌসুমেই দণি চট্টগ্রামের অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা সম্ভব হয়নি। নদীর লবণাক্ত পানি মাটিতে মিশে যাওয়ায় এসব জমিতে আগামী কয়েক বছর ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না।
ফোরকান আলী
চট্টগ্রাম ওয়াসা হালদা নদীর পানি শোধন করে নগরবাসীর জন্য যে পানি সরবরাহ করছে। চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণায় দেখা গেছে, তা খাওয়ার অযোগ্য। বাকখালি নদীর পানি দিয়ে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছে কৃষি অধিদপ্তর, তাতে ফলনের জন্য তিকর উপাদান দ্বিগুণেরও বেশি পাওয়া গেছে গবেষণায়। আবার মাছসহ জলজ প্রাণী বেঁচে থাকতে পানিতে যে পরিমাণ দ্রবীভূত অক্সিজেন থাকা প্রয়োজন, কর্ণফুলী নদীতে তা পাওয়া গেছে কাঙিত মাত্রার চেয়ে তিনগুণ কম। ৮ বছর ধরে চট্টগ্রামের প্রধান চার নদী কর্ণফুলী, হালদা, বাকখালি ও ডাকাতিয়ার পানি পরীা করে দূষণের ভয়াবহ এ চিত্র পায় পরিবেশ অধিদপ্তর। দূষণের কারণে বাড়ছে রোগ, উৎপাদন কমছে কৃষি জমিতে। বিলুপ্ত হচ্ছে মাছসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী। দূষণ প্রতিরোধে জরুরি পদপে নিতে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর।
এ ব্যাপারে পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের বিভাগীয় পরিচালক বলেন, ‘নদীর পানি সেচ কাজে, মাছ চাষে কিংবা মানুষের পান করার উপযোগী করতে পানিতে কলিফর্ম জীবাণু ও দ্রবণীয় অক্সিজেনের মাত্রা কাঙিত মাত্রায় থাকতে হয়। তা না হলে শোধনের পরও পানিতে জীবাণু থেকে যায়। আর দ্রবীভূত অক্সিজেন কাঙিত মাত্রায় না থাকলে নদীর ঐ পানি মারাত্মকভাবে তি করে জলজ প্রাণী ও ফসলী জমির। গবেষণা প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।’ চট্টগ্রাম ওয়াসা হালদা নদীর পানি শোধন করে নগরবাসীর জন্য সরবরাহ করছে। জীবাণুমুক্তকরণের মাধ্যমে সরবরাহকৃত প্রতি ১শ’ মিলিলিটার সুপেয় পানিতে কলিফর্ম জীবাণু ৫০ বা তার নিচে থাকতে হবে। কিন্তু এ নদীর পানিতে এই জীবাণু প্রতি ১০০ মিলিলিটারে এক হাজারের কাছাকাছিও পাওয়া গেছে। ফলে এ নদীর পানি শোধন করেও তা পুরোপুরি জীবাণুমুক্ত করতে পারছে না চট্টগ্রাম ওয়াসা। অথচ এ নদী থেকে সংগৃহীত পানি দিয়েই চট্টগ্রাম ওয়াসা প্রতিদিন ৯ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করছে। ওয়াসার মোহরা পানি শোধনাগার প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী জানে আলম জানান, হালদা নদী থেকে সংগৃহীত পানি স্বাভাবিক শোধনাগারে নিয়ে নগরবাসীকে সরবরাহ করছে তারা। বিশেষ প্ল্যান্টে এ পানি শোধন না হওয়ায় জীবাণুযুক্ত পানি পান করতে হচ্ছে ৪০ লাখ নগরবাসীকে। ফলে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নগরবাসী। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারা বলেন, ‘ওয়াসার পানিতে কলিফর্ম জীবাণূ থাকায় শিশুরা ঘনঘন ডায়রিয়া ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছে। কিছুদিন পরপর এ রোগ হওয়ায় তা দীর্ঘ মেয়াদী প্রভাব ফেলছে তাদের কিডনিতে।’ দেশের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন কেন্দ্র হালদা নদী মাছের বসবাসের জন্যও ক্রমশ অযোগ্য হয়ে উঠেছে। মাছের জন্য নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) প্রতি লিটারে ৫-৬ মিলিগ্রাম থাকা আদর্শ হলেও ২০০৪ সালের ৩ মার্চ এই নদীতে ডিও পাওয়া গেছে ৮.২ মাত্রার। অথচ ২০০২ সালের ৪ ডিসেম্বর সংগৃহীত নমুনায় একই নদীতে ডিও ছিল লিটারে মাত্র ৪.৫ মিলিগ্রাম। পরিবেশ অধিদপ্তরের গবেষণায় হালদা নদীতে ২০০৭ সালের ৪ জুন ২.৭৫ মাত্রার বিওডি পাওয়া গেছে। একই বছরের ৪ আগস্ট এই মাত্রা পাওয়া যায় মাত্র ১.২ মিলিগ্রাম। নদীর সুপেয় পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন (ডিও) ৬ বা তদূর্ধ্ব থাকা বাধ্যতামূলক হলেও ২০০২ সালের ৪ ডিসেম্বর সংগৃহীত নমুনায় ডিও পাওয়া গেছে মাত্র ৪.৫ মিলিগ্রাম। অথচ নদীর পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কাঙিত মাত্রায় না থাকলে জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর জীবন ধারণে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। প্রজননের উপযুক্ত পরিবেশ না পাওয়ায় তখন ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হয় তাদের বিভিন্ন প্রজাতি। ২০০৩ সালের ২১ জানুয়ারি কর্ণফুলী নদীতে ৭.৫ মাত্রার দ্রবীভূত অক্সিজেন পাওয়া গেলেও ২০০৭ সালের একই দিন তা নেমে আসে ৩.৮০ মাত্রায়। দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রার এমন উঠা-নামায় কর্ণফুলী নদী থেকেও মাছ ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে বলে মতামত দিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের সিনিয়র রসায়নবিদ বলেন, ‘পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা কমে গেলে মাছ অক্সিজেনের খোঁজে ক্রমশ উপরের দিকে উঠতে থাকে। সেখানে কোন কারণে বাধাপ্রাপ্ত হলে তখন নিরাপদ বাসস্থানের জন্য মাছ অন্যত্র ছুটতে থাকে।’
সেচ কাজে ব্যবহৃত পানিতেও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রা ৫ বা তদূর্ধ্ব হওয়া বাঞ্ছনীয়। অথচ যে বাকখালি নদীর পানি দিয়ে চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সেচ কার্যক্রম চালাচ্ছে কৃষি অধিদপ্তর তাতে ডিও পাওয়া গেছে গড়ে ৪ মিলিগ্রাম। একই কাজে ব্যবহৃত পানিতে বিওডি ১০ বা তার সামান্য কম থাকা অপরিহার্য হলেও ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ এ নদী থেকে সংগৃহীত নমুনায় তা পাওয়া গেছে মাত্র ১.৯০ মিলিগ্রাম/লিটার। আবার ডাকাতিয়া নদীতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের গড়ে পাওয়া গেছে ৭ থেকে ৭.২৫ মাত্রা। ২০০৪ সালের সেচে ব্যবহৃত পানির এমন অস্বাভাবিকতায় ক্রমশ কমছে কৃষির ফলন। চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক নদীর পানির এমন অস্বাভাবিকতায় ফলন ব্যাহত হচ্ছে বলে স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘নদীর পানির অস্বাভাবিকতায় চলতি বোরো মৌসুমেই দণি চট্টগ্রামের অন্তত ১০ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা সম্ভব হয়নি। নদীর লবণাক্ত পানি মাটিতে মিশে যাওয়ায় এসব জমিতে আগামী কয়েক বছর ফসল উৎপাদন করা সম্ভব হবে না।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment