ফোরকান আলী
নৌ-পথ সচল রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং আভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপরে সময়োচিত নদী ড্রেজিং প্রকল্প বাস্তবায়নের অভাবে রাজধানী ঢাকা শহরের উত্তর-পূর্ব এলাকা দিয়ে প্রবাহিত বালু নদীটি বর্তমানে মরা নদীতে পরিণত হয়েছে। এককালের ঐতিহ্যবাহী বালু নদীতে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ নাব্যতাহানি অব্যাহত থাকায় নদীটি বর্তমানে বিস্তীর্ণ এলাকার বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য অভিশাপের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে এই আভ্যন্তরীণ নৌ-পথের ব্যবসা-বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল হাজার হাজার ব্যবসায়ী, জেলে পরিবার ও মাঝি-মাল্লাসহ আন্তঃজেলা পণ্য যাত্রী পরিবহন ব্যবস্থা। বালু নদীর পানি দূষণের ব্যাপকতায় পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি ফসলহানি ভয়াবহতার আবরণে ঢাকা পড়ে গেছে বিস্তীর্ণ এলাকার আবাদযোগ্য ফসলি মাঠ। দেশের আভ্যন্তরীণ নৌ-পথের মধ্যে বালু নদীপথের গুরুত্ব অপরিসীম হলেও অব্যাহত পলি প্রবাহের মুখে প্রয়োজনীয় ড্রেজিংয়েল অভাবে পর্যায়ক্রমে বালু নদী নাব্যতা হারিয়ে ফেলেছে। এককালের প্রচণ্ড খরস্রোতা এই নদীটিতে প্রতি বছরের ৬/৭ মাসই পানিশূন্যতা বিরাজ করছে। বর্ষাকালে অব্যাহত পলি প্রবাহের পর পানি নেমে গেলে প্রায় শুকিয়ে যাওয়া বালু নদীর ভয়াবহ পানি দূষণে দুই তীরবর্তী হাজার হাজার মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারায় নেমে আসে অবর্ণনীয় দুর্ভোগ। বর্ষাকালের রেশ ধরে বছরের ৬ মাস শীতল্যা নদীর ডেমরা এলাকা থেকে উজানে টঙ্গী পর্যন্ত ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নৌ-পথে আন্তঃজেলা নৌ-পরিবহন ব্যবস্থা সচল থাকলেও পরবর্তী ৬ মাস শুকিয়ে যাওয়া এই নদীপথে নৌ চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে হাজার হাজার ব্যবসায়ী, জেলে পরিবার, মাঝি-মাল্লা ও শ্রমিক কর্মহীন হয়ে বেকারত্বের অভিশাপে মানবেতর জীবন কাটাতে বাধ্য হয়। দেশের প্রসিদ্ধ শিল্পশহর টঙ্গীর কল-কারখানায় উৎপাদিত পণ্যসামগ্রী পরিবহনও তখন সড়কপথের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। শুষ্ক মৌসুমে টঙ্গীর শিল্প-কারখানার পরিত্যক্ত রাসায়নিক বর্জ্য পদার্থ বালু নদীকে বিষাক্ত রঙ্গীন পানির রিজার্ভারে পরিণত করে ফেলে। এই বিষাক্ত পানির বিরূপ প্রতিক্রিয়াতে ৬ মাস নদীতে বিরাজমান মৎস্যশূন্যতার মাঝে নদী তীরবর্তী শত শত জেলে পরিবার পেশাচ্যুত হয়ে পড়ে। বালু নদীতে প্রবাহিত বর্জ্যরে বিষাক্ত পানি তীরবর্তী জমিতে সেচ প্রদান করেও চাষিরা কাংতি ফসল উৎপাদনে বঞ্চিত হচ্ছে। এই ভয়াবহ পানি দূষণের কারণেই বালু নদীর উজানে গাজীপুর জেলার একমাত্র বোরো উৎপাদনের বৃহত্তর বেলাই বিলে জোয়ারের পানি সরবরাহের অভাবে প্রতি বছরই প্রায় ১৪/১৫ হাজার একর জমির বোরো উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নিত্যদিনের গৃহস্থালি কাজকর্মে নদী তীরবর্তী সাধারণ মানুষ এই নদীর পানি ব্যবহার করতে পারছে না। এমনকি কালচে রংয়ের এই পানিতে গবাদি পশুকেও গোসল পর্যন্ত করানো যায় না। কখনো ভুলক্রমে কেউ এই পানিতে গোসল করলে সে খোঁস-পাচড়া জাতীয় চর্ম রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। বিগত ২/৩টি সরকারই বালু নদীর এই ৪০ কিলোমিটার নৌ-পথ সচল রাখতে সংস্কারের জন্য ড্রেজিংয়ের ব্যাপারে ব্যাপক জরিপ, পরীা-নিরীা ও মহা-পরিকল্পনা গ্রহণে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালালেও শেষ পর্যন্ত কার্যত কিছুই করা হয়নি। সার্বিকভাবে বর্তমানে অভিশপ্ত বালু নদী ৪০ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবন যাপনকে বিষিয়ে তুলেছে। এদিকে টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীরে আগামী ২ ফেব্র“য়ারি থেকে তাবলিগ জামাতের ৩ দিনব্যাপী বিশ্ব ইজতেমার হাজার হাজার নিরুপায় মুসল্লিরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নদীপথেই বিশ্ব ইজতেমা স্থলে গমনাগমন করবেন। অব্যাহতভাবে নদীর পানি কমে যাওয়ার মধ্যে টঙ্গী রেলওয়ে ব্রিজের পিলারের গোড়াগুলো এত মোটা করে পুনঃনির্মাণ করা হয়েছে যা পুরো নদীই দখল করে নিয়েছে। বর্তমান ২টি পিলারের মধ্যবর্তী অপ্রশস্ত স্থান দিয়ে বড় বা মাঝারি আকারের কোন নৌকাই চলাচল করতে পারে না। উপরন্তু আসন্ন বিশ্ব ইজতেমার সময়ে তুরাগ নদীতে পানিশূন্যতার কারণে সরু খালের মত সংকুচিত তুরাগ নদীপথে মুসুল্লিবাহী নৌ-চলাচলে সৃষ্টি হবে মারাত্মক নৌ-যানজট। অপরদিকে আভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপরে অব্যবস্থাপনা ও রণাবেণের অভাবে তুরাগ নদীর দীর্ঘ ৪০ কিলোমিটার নৌ-পথের মধ্যবর্তী বিপুল জনগোষ্ঠী প্রাকৃতিক সকল সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে পড়েছে।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment