Saturday, November 16, 2013

নদী ও খালগুলোকে বাঁচাতে হবে



 নদী ও খালগুলোকে বাঁচাতে হবে
†dviKvb Avjx

 নদীমাতৃক বাংলাদেশের নদীগুলোকে যদি শিরা ধরি, খালগুলো তবে ধমনি। এই শিরা-ধমনি উভয়ই বন্ধ হবার উপক্রম হয়েছে। প্রায় ৪০ বছর ধরে লক্ষ্য করছি, এক শ্রেণীর মানুষ কী ভয়ানকভাবে নদীগুলোতে বর্জ্য ফেলছে। আরেকটা শ্রেণী এই প্রমত্তা নদীগুলোর অংশ দখল করে গড়ে তুলছে ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্র, বিশাল বিশাল ইমারত। ১৯০৮ সালের ল্যান্ড ট্যানান্সি অ্যাক্টের বিধান অনুযায়ী প্রণীত ১৯১৩ থেকে ১৯১৬ সালের মধ্যে প্রস্তুতকৃত মৌজা মানচিত্রে প্রত্যেকটি নদী কোন্খানে কতটুকু প্রশস্থ তা অঙ্কন করা আছে। পরবর্তীকালে নদীভাঙন ও চর জেগে ওঠার কারণে এই দৈর্ঘ্য-প্রস্থের হ্রাসবৃদ্ধি ঘটলেও মূলরেখা মুছে যায়নি। সিএস জরিপের মানচিত্র আবহমানকাল সে সাক্ষ্য দিয়ে যাবে। বর্তমান আইনে নদীর দখলকৃত অংশ উদ্ধার এবং দৃশ্যমান বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। রাজধানী ঢাকার বুড়িগা, শীতলক্ষ্যা, তুরাগ নদী রক্ষার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকৃত অংশগুলো পুনরায় যেন দখল না হয়ে যায়, সেজন্য বেষ্টনী নির্মাণ করা হচ্ছে। তীরে রাস্তা নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্জ্য নিক্ষেপকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।। উদ্যোগগুলো প্রশংসনীয়। আমরা চাই, ধীরে ধীরে দেশের মৃতপ্রায় কমবেশি ৫০০ নদীর ব্যাপারেই সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে নদীগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করবেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দখলকৃত নদীর অংশ উদ্ধার করতে গিয়ে সরকারি উদ্ধারকারী দল আইনি বাধার সম্মুখীন হন। নদীর অংশ সরকারিভাবে ইজারা দেয়ার বিধান আছে কি না আমাদের জানা নেই। নদীর অংশ ইজারা দেয়ার যদি কোনো বিধান থাকে তা অচিরেই বাতিল করতে হবে এবং পূর্বে প্রদত্ত ইজারাগুলোও বাতিল ঘোষণা করতে হবে। আবার নদী সংলগ্ন কোনো ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে কি না তাও দেখতে হবে। অবৈধ কাগজপত্র দিয়ে মামলা ঠুকে কেউ যেন সরকারি উচ্ছেদ অভিযানকে বছরের পর বছর ঝুলিয়ে রাখতে না পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে। নদী শুকিয়ে গেলে বা মরে গেলে দু’কূলের বিস্তীর্ণ এলাকার পানির স্তর নিচে নেমে যায়। চাষাবাদ ব্যাহত হয়। বৃক্ষরাজি মরে যায়। অর্থাৎ পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেয় । নদী বাঁচিয়ে রাখতে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারতের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। এবার খাল প্রসঙ্গে আসা যাক। বাংলাদেশে রয়েছে অজস্র খাল। বাংলা সাহিত্য নদীকেই যা মায়া করেছে। এজন্য নদীর আধকুড়ি প্রতিশব্দ। আর খালের একটা মাত্র প্রতিশব্দ।। গাঙ। তাও যুৎসই নয়। তবে খাল থেকে আমরা যে সুবিধাগুলো ভোগ করতাম, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বর্ষাকালে প্রবল বর্ষণের পানি দ্রুত এ খাল বা গাঙগুলো দিয়ে নদী বা সাগরে পড়তো। এসব খাল দিয়ে বড় বড় নৌকা হাজার মণ মালামাল এক স্থান থেকে কম ভাড়ায় এবং নিরাপদে অন্যস্থানে নিয়ে যেতো, সারা বাংলাদেশে গৃহবধূদের এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাবার নিরাপদ, পুষিদা সম্মত ও আনন্দময় বাহন ছিল নৌকা। সেই নৌকাগুলো এই খাল বা গাঙ দিয়েই চলতো। এসব খালে প্রচুর মাছ হতো। এ মাছগুলোতে গরিব-ধনী নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকার ছিল। খালের পানি দিয়ে কৃষকরা কৃষিকাজ করতেন। বাংলাদেশের বহু ব্যবসা-বাণিজ্যকেন্দ্র এই খালগুলোকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে। ঢাকা নগরীর ওপর দিয়ে ৪০টির বেশি খাল প্রবাহিত ছিল বলে জানা যায়। রাজধানী ঢাকার খালগুলো উদ্ধারে সরকারের যে উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা প্রশংসার্হ। কিন্তু মফস্বলের খালগুলো রক্ষা করার যেন কেউ নেই। উদাহরণস্বরূপ নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র চৌমুহনীর পূর্ব বাজারের ওপর দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে বয়ে যাওয়া খালটির কথা বলা যায়। এ খাল দিয়ে নৌকাপথে মাত্র ২০ বছর আগেও কোটি টাকার বাণিজ্য পরিচালিত হয়েছে। আজ সেই খাল একটি আবর্জনার ভাগাড়। আবার চৌমুহনী বাজার থেকে রাস্তার উত্তর পাশ দিয়ে দাগনভূঞা পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার অংশ জুড়ে ছিল খাল। এটির আজ আর অস্তিত্ব নেই বললেই চলে। কোথাও খালের মাঝখানে রাস্তা বেঁধে বাড়ি যাবার রাস্তা করা হয়েছে। কোথাও রয়েছে ব্রিকফিল্ডে ট্রাক যাওয়া-আসার রাস্তা। কেউ খাল বেঁধে দোকান বসিয়েছে। কেউ বিশাল এলাকা দখল করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছে। অন্যদের মাছ ধরার বাধার সৃষ্টি করছে। চৌমুহনী থেকে দাগনভূঞা পর্যন্ত মাত্র ২০ কিলোমিটার জায়গায় এরূপ কমপক্ষে ১০০টি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। বর্ষাকালে ঠিকমতো পানি নামতে পারছে না। সৃষ্টি হচ্ছে জলাবদ্ধতা। ব্যাহত হচ্ছে কৃষিকাজ। গ্রামগুলোর ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালগুলোর আজ কী করুণ অবস্থা, চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না। যে সব খালকে নৌপথ হিসাবে ব্যবহার করে বছরে প্রায় ৮ মাস গ্রামীণ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আবর্তিত হতো, সে সব খাল আজ বিলুপ্তির পথে। এমন কোনো গ্রাম ছিল না, যে গ্রামে ৫/১০ জন মাঝি ছিল না। এরাই নৌকা চালাতে গিয়ে সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে খালগুলোকে সচল রাখতো। মাত্র ২০/২৫ বছর আগে সবগুলো খালের ওপর দিয়ে পুলের নামে মূলত কালভার্ট নির্মাণ করা হয়। এগুলোর নিচ দিয়ে নৌকা পার হবার পথ নেই। ২০/২৫ বছর আগে কিন্তু পুল নির্মাণ করতে সবসময়ই নিচ দিয়ে নৌকা যাবার পথ রাখা হতো। দেশের মানুষ বলে, বিদেশি যান্ত্রিক মটরযান চালাবার জন্য, তাদের যন্ত্রাংশ চালাবার জন্য আমাদের অযান্ত্রিক নৌকাগুলোর চলাচলের পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বেশ কয়েক বছর আমাদের গ্রামের মাঝি পরিবারগুলো উপার্জনের পথ হারিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটিয়েছে। এখন তারা এ পেশা ছেড়েই দিয়েছে। আমাদের নৌকার দেশে নৌকা চলতে পারলো না। খালগুলো হারালো তার নাব্যতা। পরিতাপের বিষয়, আমাদের এলাকায় তরুণ প্রজন্মকে নৌকা দেখাতে হলে এখন জাদুঘরে নিয়ে যেতে হবে। খালগুলো পুনরুজ্জীবিত করতে হলে সরকারকে কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে হবে এবং তা বাস্তবায়ন করতে হবে। যেমন।।

১। খালের যত স্থানে স্থায়ী রাস্তা বা বাঁধ দেয়া হয়েছে, সেগুলো অপসারণ করতে হবে।

২। এখন থেকে ভবিষ্যতে খালের ওপর কোনো পুল নির্মাণ করতে হলে নিচ দিয়ে নৌকা যাবার পথ রেখে নির্মাণ করতে হবে। পুলের ওপর দিয়ে মটরযান পার হওয়ার জন্য পুলগুলোকে আরোহণের পথ দূর থেকে ঢালু করে দিতে হবে।

৩। বর্তমান পুলগুলো যেগুলোর নিচ দিয়ে নৌকা যাবার পথ নেই, ভবিষ্যতে সেগুলো ভাঙা হলে নিচ দিয়ে নৌকা যাবার পথ রেখে নির্মাণ করতে হবে। নৌকা যাবার পথগুলো আপাতত কোনো কাজে না লাগলেও ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে তা কাজে লেগে যাবে। গ্রামের মাঝিমাল্লারা খালে বা গাঙে ফিরে এলে খাল বা গাঙের নাব্যতা ফিরে আসতে বাধ্য।
৪। সরকারি খালগুলো লিজ দেয়া যাবে না। কোনো প্রকার লিজ থাকলে তা বাতিল করতে হবে। খালে নৌকা চালানো, মাছ ধরা, কৃষিকাজের জন্য এর পানি ব্যবহার ইত্যাদি গরিব, ধনী নির্বিশেষে সবার জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267


0 comments:

Post a Comment