ফোরকান আলী
দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প কৃষকের আশা-ভরসা সব শেষ করে দিচ্ছে । একদা ফসলের সমারোহে ভরে তুলেছিল যে প্রকল্প তা’ আজ মৃতপ্রায়। সরকার বড় মাপের নদী খনন কর্মসূচী হাতে নিচ্ছেন। সেই কমর্স ূচীতে এই প্রকল্পের অন্তভুর্ িক্তর দাবি থাকবে। গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ পক্র ল্পের (জিকে প্ের জক্ট) পানি দক্ষিণাঞ্চলের পাঁচ জেলার অধিকাংশ কৃষকের এখন আর খুব একটা কাজে লাগছে না। তারা এখন জমি সেচ করেন ভূগর্ভ থেকে পানি উত্তোলন করে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে চারটি কারণে জিকে প্রকল্পের এ মরণদশা তাহলো-সুষ্ঠু পানি বন্টন ব্যবস্থার অভাব, দীর্ঘদিন শাখা-উপশাখা খালগুলো খনন না করা, পানি কাঠামো (সুইø সগেট, সাইফুন, কালভার্ট) সংস্কার ও মেরামত না করা এবং প্রয়োজনের সময় চাহিদা মতো পানি সরবরাহ করতে না পারা। উপকারে না আসায় কৃষকেরা এর সেচ কর পরিশোধেও আগ্রহ দেখান না। বাকি পড়েছে সরকারের কোটি কোটি টাকা সেচ কর। এর পাশাপাশি প্রকল্পের সুবিধাভোগীর সংখ্যা কমতে কমতে নেই হতে চলেছে। বাংলাদেশ পানি উনড়বয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও যশোর জেলায় কৃষি উৎপাদন বাড়িয়ে খাদ্যে স্ব-নির্ভরতা অর্জনের পাশাপাশি জনসাধারণের জীবনযাত্রার মান উনড়বয়ন এবং অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে ১৯৫৪ সালে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পাম্প বসিয়ে গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়। পানি উনড়বয়ন বোর্ডের আওতাধীন এই প্রকল্পের মূল পরিকল্পনায় দুইটি পর্যায়ে মোট ১ লাখ ৪২ হাজার হেক্টর সেচযোগ্য জমি আওতাভুক্ত ছিল। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু না হওয়ায় ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমির সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তৎকালীন সময়ে ২১২ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের প্রধান ও সাব-পাম্প ষ্টেশন নির্মাণ ১শ’ ৯৩ কিলোমিটার, প্রধান সেচ খাল ৪শ’ ৬৭ কিলোমিটার, শাখা খাল ৯শ ৯৫, কিলোমিটার উপ-শাখা খাল ৯শ ৭১ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল খনন ও ২ হাজার ১শ ৮৪টি পানি কাঠামো নির্মাণ করা হয়। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা থেকে পদ্মা নদীর পানি পাম্প করে সেচ খাল দিয়ে প্রকল্প এলাকায় পানি সরবরাহ শুরু হয়। কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও মাগুরাসহ জেলাগুলোর ১৩টি উপজেলায় বছরে ৯ মাস নামমাত্র সেচ করের বিনিময়ে কৃষককে পানি দেওয়া হয়। প্রকল্পের খরিপ-১ (আউশ) ও খরিপ-২ (আমন) উভয় মৌসুমেই ১ লাখ ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ অব্যাহত রয়েছে। বৃহৎ এ প্রকল্পটি চালু রাখতে সরকারের প্রতি বছর ব্যয় হচ্ছে ২৯ কোটি টাকা। এত টাকা ব্যয়ের পরেও বর্তমানে প্রকল্পটি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকের উপকারে আসতে পারছে না বলে কৃষকেরা অভিযোগ করেন। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার এক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, বাড়ির কাছে জিকে’র পাম্প হাউজ থাকতে এখন আমরা শ্যালো পাম্প মেশিন দিয়ে পানি তুলে জমিতে সেচ দিচ্ছি। জিকে’র লোকজন প্রতিবছরই পানি দেয়ার আশ্বাস দেয় কিন্তু কাজের সময় কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় না। পানি না পাওয়ার কারণে অনেক কৃষক সেচ কর পরিশোধ করছে না। তিনি আরোও বলেন জিকে কর্তৃপক্ষ কখন পানি ছাড়ে আর কখন বন্ধ করে আমরা তা জানি না। জিকে’র পানির জন্য বসে না থেকে আমরা মাঠে গভীর নলকূপ বসিয়ে আবাদ করছি। গঙ্গা-কপোতাক্ষ সেচ প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, প্রকল্পের অধীনে কুষ্টিয়ার বাড়াদিতে ১টি সেচ সম্প্রসারণ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, আমলায় ১টি পরীক্ষামূলক কৃষি খামারসহ প্রকল্প এলাকায় ৪৯টি চাষী কাব, ৭শ’ ৪৯টি প্রাথমিক সমবায় সমিতি, ৭টি থানা কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতি ও ৩শ’ ২৪টি পানি ব্যবহারকারী সংঠন রয়েছে। কৃষকরা জানান, সব চাষী কাব বন্ধ হয়ে গেছে। সমবায় সমিতির সদস্য কমে যাচ্ছে। আর পানি ব্যবহারকারী সংগঠন কাগজে-কলমে থাকলেও মাঠে তাদের কোনো কার্যμম নেই। আমলা পানি উনড়বয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষকদের অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের জনবল কমে গেছে। কৃষকদের সমস্যা সমাধান করতে হলে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে। আমলায় সাগরখালী-বড়বিলা সাইফন নির্মাণ করে তা চালু করা হয়েছে এবং এর আওতাধীন সকল নদী, শাখা খাল, উপ-শাখা খালগুলো সংস্কারের অভাবে বর্তমানে নাজুক অবস্থায় রয়েছে। অথচ সংস্কারের নামে প্রতিবছরই এক শ্রেণীর অসাধু কর্মকর্তাদের সাথে ঠিকাদাররা আতাত করে নদী সংস্কারের নামে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করে চলেছে। কিন্তু সেচ খালগুলো সংস্কার হচ্ছে না। আমরা আশা করবো, জিকে প্রজেক্টের এসকল অনিয়ম দূর করাসহ অতীত ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনবার জন্য সরকার সব ধরনের পদপে গ্রহণ করবেন।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267
Email- dr.fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment