Sunday, December 1, 2013

শিশু অধিকার প্রসঙ্গে ইসলাম

শিশু অধিকার প্রসঙ্গে ইসলাম
 ড.ফোরকান আলী
পরিবার থেকেই শুরু হয় একটি শিশুর বর্ণাঢ্য অভিযাত্রা। কোরআনে ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি বা শিশুদের দুনিয়ার জীবনের সৌন্দর্য হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে। পবিত্র কালামে শিশুদের সম্পর্কে তাদের øেহ-প্রীতি ও ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ’হে আমাদের প্রতিপালক, তুমি আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান-সন্ততি দান কর, যারা আমাদের চোখ জুড়ায়।’ শিশুদের মর্যাদার কথা উল্লেখ করে হজরত নবী করিম (সা.) বলেছেন, ’যদি দুধের শিশু, বুড়ো এবং প্রতিপালিত পশুরা না থাকত তবে অচিরেই কঠিন শাস্তি নেমে আসত।’
ইসলাম শিশুদের জন্য জন্মের সঙ্গে সঙ্গে কিছু অধিকার নির্ধারণ করে রেখেছে। একটি শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর ইসলামী রীতি অনুযায়ী তার উভয় কানে আজান ও ইকামত দিতে হবে। রাসূলে করিম (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তির ঘরে কোনো শিশু জন্মগ্রহণ করবে, সে যদি এই শিশুর ডান কানে আজান ও বাম কানে ইকামত শুনিয়ে দেয়, তাহলে শিশু শয়তানের আক্রমণ থেকে মুক্ত ও নিরাপদ থাকবে।’ ইসলামের এই নির্দেশনা পালন করলে শিশুটি সুরতি থাকবে। তার বেড়ে ওঠাটা হবে নিষ্কলুষ। তার চরিত্র হবে নির্মল ও মাধুর্যপূর্ণ। শয়তানের শত প্ররোচনাও পারবে না তাকে বিভ্রান্ত করতে। সেই দুর্বল মুহূর্তে বেঁচে থাকার জন্য চাই উপযুক্ত খাদ্য। ইসলাম এর জন্য মায়ের দুধকে উৎকৃষ্ট খাদ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।
পুরো দুই বছর পর্যন্ত মায়ের বুকের দুধ পান করা শিশুর অধিকার। এ অধিকার আদায় করতে প্রত্যেক মায়ের প্রতি রয়েছে জোর তাগিদ। শিশুর সাত দিন বয়সেই তার একটি সুন্দর নাম ঠিক করতে হবে। একটি প্রাণী জবাই করে আকিকা দিতে হবে। সাধ্যানুযায়ী সদ্কা করে শিশুর ভবিষ্যৎ বালা-মুসিবত দূর করতে হবে। হাদিস শরিফে হজরত রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘প্রত্যেক নবজাতক শিশুর মূলেই রয়েছে তার অধিকার সম্পর্ক। তার জন্মের সপ্তম দিনে একটি প্রাণী আকিকার নিয়তে জবেহ করা হবে। সুন্দর দেখে তার নাম রাখা হবে। মাথার চুলগুলো পরিষ্কার ও মুণ্ডন করা হবে। আর ওই চুলের সমপরিমাণ ওজনে স্বর্ণ বা রৌপ্য সদ্কা করে দেবে। এসবের দ্বারা শিশুর ভবিষ্যতের অনেক দুঃখ-কষ্ট লাঘব হয়ে যাওয়ার আশা করা যায়। একটি সুন্দর নামে সম্বন্ধ করা শিশুর বড় অধিকার। কোনো মন্দ নামে শিশুকে ডাকা যাবে না। এতে তার অধিকার ুণœ হবে। মা-বাবা যদি অজ্ঞতাবশত কোনো মন্দ নাম রেখেও বসে, তবুও তাকে একটি সুন্দর নামে ডাকা ইসলামের নির্দেশ।
আদর, øেহ, মমতা ও ভালোবাসা পাওয়া শিশুর অধিকার। রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘তোমরা সন্তানদের øেহ-মমতা এবং তাদের ভালো আচরণ ও ব্যবহার শিখাও।’ তিনি ছিলেন শিশুদের ব্যাপারে খুবই আন্তরিক। øেহ, মমতা ও ভালোবাসা দিয়ে শিশুদের সিক্ত করতেন। তিনি বলেন, ‘শিশুরা বেহেশতের প্রজাপতিতুল্য। ঈদের দিন শিশুদের নিয়ে ঈদগাহে যেতেন, নামাজ আদায় করতেন। তার অন্তরজুড়ে ছিল শিশুর প্রতি প্রবল ভালোবাসা। মহানবী (সা.) কোনো শিশুর কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলে নামাজ সংপ্তি করে দিতেন এবং বলতেন- আমি চাই না যে, শিশুর মায়ের কষ্ট হোক, তাদের মাঝে বেদনা জাগরূক হোক।’ রাসূলে করিম (সা.) নিজে যেমন শিশুদের øেহের পরশ বুলিয়ে দিতেন, তেমনি উম্মতের প্রতিও এর নির্দেশ করেছেন। কোনো শিশুর দুঃখ-কষ্ট দেখলে তিনি ব্যথিত হতেন। যথাসম্ভব চেষ্টা করতেন তা দূর করতে। পীড়িত, অভাবকিষ্ট শিশুদের নিজ হাতে খাওয়াতেন। আদর করতেন। পিতৃøেহ দ্বারা সব দুঃখ-কষ্ট ভুলিয়ে দিতেন। শিশুদের প্রাপ্য অধিকার পৌঁছে দেওয়ার ব্যাপারে প্রধান দায়িত্বশীল হচ্ছে মা-বাবা। মা-বাবা শিশুর প্রতি যতটুকু আন্তরিক হবেন, তা অন্য কারও দ্বারা সম্ভব নয়। মা-বাবা অবহেলা করে শিশুকে কোনো অধিকার থেকে বঞ্চিত করলে এর জন্য একদিন তাদের জবাবদিহি করতে হবে।
শিশুরা আগামী দিনে আমাদের ভাগ্য নির্মাতা। সুষ্ঠুভাবে বেড়ে ওঠা তাদের জন্য যত না প্রয়োজন তার চেয়ে বেশি প্রয়োজন আমাদের নিজেদের। এ জন্য প্রত্যেককে ইসলামের নির্দেশনা অনুযায়ী শিশুদের প্রতি আন্তরিক হতে হবে। øেহ-ভালোবাসার পাশাপাশি তাদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রয়াস চালাতে হবে। এর জন্য তাদের নৈতিক শিা, সৎ চরিত্র, উত্তম গুণাবলি দ্বারা আদর্শ মানুষ হিসেবে তৈরি করতে হবে। শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে দেওয়াই তাদের সবচেয়ে বড় অধিকার।
†jLK: W.†dviKvb Avjx
M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36 MMbevey †ivo,Lyjbv
01711579267




0 comments:

Post a Comment