wk¶v_x©‡`i
S‡icov †iv‡a miKv‡ii D‡`¨vM mdj †nvK
Aa¨¶
†dviKvb Avjx
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের প্রতীক ১৭ সেপ্টেম্বর ঐতিহাসিক ‘শিক্ষা দিবস’। শিক্ষার জন্য সংগ্রাম ত্যাগ বিজয় গৌরব ও ঐতিহের প্রতীক এ শিক্ষা দিবসের এবার ৪৮তম বার্ষিকী। এ শিক্ষা দিবসের কথা লিখতে গেলে আগে বলতে হয় প্রাথমিক শিক্ষার কথা। কারণ এটাই শিক্ষার ভিত। আর ভিত মজবুত না হলে কখনোই উচ্চতর শিক্ষা অর্জিত হবে না। তাই প্রাথমিক স্তর থেকেই আমাদের মান সম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ গুণগতমান সম্পন্ন শিক্ষা ছাড়া বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সরকার শিক্ষার মানবৃদ্ধির জন্য নানা রকম প্রকল্প হাতে নিয়েছে। ইতিমধ্যে ৩২ হাজার ৫৬৪ জন শিক্ষকের নিয়োগের প্রক্রিয়া চুড়ান্ত করেছে। অধিকাংশ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেয়া হচ্ছে। এরপরও বিপুল সংখ্যক ছাত্রছাত্রী নানান কারণে প্রাথমিক বা মাধ্যমিক স্তর শেষ করার পূর্বেই ঝরে পড়ছে। সম্প্রতি একটি দৈনিকে এই বিষয়ে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দেখা যায় ২০০৮-২০০৯ শিক্ষাবর্ষে নবম শ্রেণীতে নিবন্ধনকৃত প্রায় ৫ লাখ শিক্ষার্থী এবারের মাধ্যমিক পরীক্ষার পূর্বেই শিক্ষা থেকে ঝরে পড়েছে। মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ঝরে পড়ার এ হার ৩৬ দশমিক ০৫ শতাংশ। কেবল ঢাকা বোর্ডেই এই সংখ্যা ১ লাখেরও বেশি। অন্যদিকে, রাজশাহী বোর্ডে ২৯ দশমিক ১১ শতাংশ, কুমিল্লায় ৪১ দশমিক ২৯, যশোরে ৩৯ দশমিক ৪৫, চট্টগ্রামে ৩৮ দশমিক ৩৭, বরিশালে ৩৭ দশমিক ৪৩, সিলেটে ৪৪ দশমিক, দিনাজপুরে ২৫ দশমিক ৩৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। অর্থাৎ তারা শিক্ষা কার্যক্রম হতে ঝরে পড়েছে। এতো গেল একটি দিক। অন্য চিত্রটিও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তা হচ্ছে, প্রাথমিক স্তরে যত শিশু ভর্তি হয় তাদের ৮০ শতাংশই মাধ্যমিক স্তর অতিক্রম করার আগেই ঝরে পড়ে। অর্থাৎ ১০০ জন শিশুর মধ্যে ৮০ জনই মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারছে না। এ দু’টি উদ্বেগজনক চিত্রের পাশাপাশি আরেকটি চিত্রও অত্যন্ত হতাশাব্যঞ্জক। আর তা হচ্ছে, পরীক্ষায় অকৃতকার্যদের মধ্যে শতকরা ৫০ ভাগই আর পড়ালেখা করে না। সুতরাং দু’টি চিত্রই যে ভয়াবহ এক ভবিষ্যতের ইঙ্গিতবহ এ কথা নিশ্চয়ই কাকেও বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন করে না। এ অবস্থা রোধ করার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট মহলের শুধু উদ্যোগ-আয়োজনই যথেষ্ট নয়। এজন্য গৃহীত উদ্যোগ বা কর্মসূচির যথাযথ বাস্তবায়ন চাই। নীতি-নির্ধারক এবং শিক্ষা বিষয়ক গবেষকরা বিষয়টি নিয়ে নিশ্চয়ই ভাবছেন; কিন্তু শুধু ভাবলেই তো আর কাজ হবে না। এ জন্য বাস্তবানুগ ব্যবস্থাদি ও এর সফল বাস্তবায়নের উপরই নির্ভর করছে সবকিছু। শিক্ষাক্ষেত্রে যে ধরনের বৈষম্য বিরাজমান এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টিতে ব্যর্থতা শিক্ষার্থীদের মনে শিক্ষার প্রতি অনুরাগ সৃষ্টির অন্যতম অন্তরায়। তদুপরি আবার আমাদের শিক্ষকদের শিক্ষানুরাগ বা মানুষ গড়ার কারিগররূপে নিজেদেরকে শিক্ষার্থীদের সামনে উপস্থাপনের ব্যাপারে কতখানি যোগ্যতা বা দক্ষতা রয়েছে তাও তলিয়ে দেখা দরকার। শিক্ষার্থীকে শিক্ষা বিষয়ে আগ্রহী করে তুলতে শিক্ষকের ভূমিকাটিই মূখ্য। কিন্তু এক সময় শিক্ষকদের নিকট শিক্ষাদান যেমন একটি ব্রত ছিল এখন তাা নিছক আর দশটি পেশার মতো একটি পেশায় পর্যবসিত হয়েছে। উপরন্তু ভাল শিক্ষকদের মূল্যায়নও তেমনটা হয় না। তাছাড়া বেতন-ভাতাদির ক্ষেত্রে অপ্রতুলতা থাকায় শিক্ষাদানের তুলনায় অন্য উপায়ে অর্থোপার্জনই অনেক শিক্ষকের কাছে অধিক অর্থবহ। সন্দেহ নাই যে, শিক্ষার প্রসার, শিক্ষার মান উন্নতকরণ এবং শিক্ষাকে সত্যিকারের জাতিগঠনমূলক উদ্যোগ-আয়োজনের সাথে সম্পৃক্ত করতে না পারলে আমরা অচিরেই ঘোরতর অন্ধকারের মুখোমুখি হব। শিক্ষার নামে অকেজো, পরজীবী, পরনির্ভরশীল বা বেকার এক বৃহৎ জনগোষ্ঠী তৈরি হলে সকলের জন্যই তা মহাবিপদ ডেকে আনবে। তাই শিক্ষার ক্ষেত্রে ঝরে পড়ার প্রবণতা রোধ এবং মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর করার উপরই নির্ভর করছে আমাদের ভবিষ্যৎ। অপরদিকে ‘এডুকেশন ওয়াচ জরিপে’ বলা হয়েছে, দেশে প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী ঝরে পড়ছে। সরকার এর হার শূন্যের কোঠায় নামাতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। এগুলোর অন্যতম হল আনন্দ স্কুলের পরিধি বাড়ানো। যেহেতু আনন্দ স্কুলের আওতায় আনা স্কুলকে দেয়া হয় বিশেষ শিক্ষা অনুদান, তাই এর পরিধি বৃদ্ধিতে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার কথা। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধে কী প্রভাব ফেলে, অব্যাহত মনিটরিংয়ের মাধ্যমে তা নির্ণয় করতে হবে। প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার অন্যতম কারণ হিসেবে অভিভাবকের অজ্ঞতাকেও দায়ী করা যায়। কারণ কোন অভিভাবক চেষ্টা করলে বিকল্প অনেক উপায়ে শিশুর শিক্ষার সুব্যবস্থা করতে পারেন। প্রাথমিকে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধির জন্যও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। এর জন্য দরকার যোগ্য শিক্ষকের। অবশ্য শিক্ষক যত মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্নই হোন, তারা পাঠদানে আন্তরিক না হলে এ কাজে কাক্সিক্ষত সুফল মিলবে না। প্রাথমিকের পাঠ্যপুস্তক এমনভাবে রচিত হওয়া দরকার যাতে শিশু ওই পুস্তক পাঠে বিশেষ আগ্রহ দেখায়। পাঠ্যপুস্তক কোমলমনা শিক্ষার্থীদের মনোযোগ আকর্ষণে ব্যর্থ হলে স্কুলের প্রতি অনেক শিশু আগ্রহ হারাতে পারে। এ ব্যাপারে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের ঝরে পড়া রোধে যত উদ্যোগই নেয়া হোক, অভিভাবকরা সচেতন না হলে এক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত ফল প্রাপ্তি অনিশ্চিতই থেকে যাবে। শিক্ষক সমাজ এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। শিক্ষক-অভিভাবকসহ সব মহলের বিশেষ প্রচেষ্টায় শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ করা সম্ভব। স্কুলের আনন্দময় পরিবেশ নিশ্চিত করতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। শিশুদের নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার বিষয়েও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। দেশের প্রতিটি শিশুর মনে যেন সুনাগরিক হওয়ার আকাক্সক্ষা জš§ নেয়, সে শিক্ষা প্রাথমিক স্তরেই তাদের দিতে হবে। এদিকে সরকার সব শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিতের লক্ষ্যে দেশব্যাপী বড় ধরনের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা অধিদফতরের কর্মকর্তারা দেশের ৪ শতাধিক উপজেলা পরিদর্শন এবং প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব পর্যন্ত কয়েকটি উপজেলা পরিদর্শন করেছেন। শতভাগ ‘এনরোলমেন্ট’ নিশ্চিতের লক্ষ্যে শিক্ষক, প্রধান শিক্ষক, স্কুল পরিচালনা কমিটি, উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের আলাদা কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়। ২০১২ সালের মধ্যে শতভাগ ভর্তি নিশ্চিতের লক্ষ্য থাকলেও সরকার ২০১১ সালেই এই লক্ষ্য অর্জন করতে চায়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপ-পরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, শিক্ষার্থীদের কেবল স্কুলে এনেই সরকার বসে থাকবে না, বরং তাদের স্কুলে ধরে রাখার লক্ষ্যে মধ্যাহ্নভোজ বা স্কুলফিডিং কর্মসূচির বিষয়টি জোরালভাবে ভাবছে। আমরা আশাকরি সরকারের এ উদ্যোগ সফল বাস্তবায়ন হোক।‡jLK: M‡elK I mv‡eK Aa¨¶
36,MMb evey ‡ivo-Lyjbv
†gvevBj:01711579267
fourkanali@gmail.com
0 comments:
Post a Comment