স্মরণ:চে গুয়েভারা
আলী ফোরকান
জš§: ১৯২৮ সালের ১৪ জুন
মৃত্যু: ৯ অক্টোবর ১৯৬৭
এই নামটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে একজন রোমান্টিক কবি এবং বিপ্লবী নেতার অবয়ব। যে তরুণ স্বপ্ন দেখে, যে তরুণ সবার জন্য সমান একটি পৃথিবীকে লালন করে তার সামনে চে’র চেয়ে বড় অনুপ্রেরণা বা আদর্শ আর নেই। মৃত্যুর এতকাল পরেও চে যেন তারুণ্যের প্রতীক। নিজের শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে কীভাবে দেশ ও দশের হয়ে ওঠা যায় এ যেন তারই আরেক প্রতিমূর্তি চে। ছোট বেলা থেকেই হাঁপানির মতো দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। সারাজীবন বয়ে বেরিয়েছেন এই রোগ। স্কুল জীবন শুরু করতে বাধার কারণ হয়েছিল এই রোগটি। কিন্তু দমে যাননি।
মাত্র চার বছর বয়স থেকেই বইয়ের সাগরে বুঁদ হয়ে থাকতে পেরেছেন চে। বাড়িতে ছিল কয়েক হাজার বই। তাই বইয়ের সঙ্গে মিতালি হতে সমস্যাই হয়নি তার। কবিতা পছন্দ করতেন তিনি। নিজেও লিখতেন কবিতা। আর্জেন্টিনায় জš§ নেয়া এই বিপ্লবী মাত্র ১১ বছর বয়সে এক বিচিত্র কারণে কিউবার প্রতি অনুরক্ত হন। কিউবার দাবা খেলোয়াড় কাপাব্লাংকা এসেছিলেন বুয়েনস এইরেসে। চে ছিলেন দাবার দারুণ ভক্ত। কাপাব্লাংকার আগমন তাকে কিউবা সম্পর্কে আগ্রহী করে তুলেছিল। বিজ্ঞানের প্রতি দারুণ আকর্ষণ ছিল তার। বিশেষ করে গণিত ছিল তার প্রিয় বিষয়গুলোর অন্যতম। কিন্তু পড়াশোনার বিষয় হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন চিকিৎসাবিজ্ঞানকে। অবস্থাপন্ন পরিবারের ছেলে হয়েও চিকিৎসক হিসেবে সনদ পাওয়ার পর তিনি চলে গিয়েছিলেন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে, বিনা পারিশ্রমিকে চিকিৎসা করেছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের।
‘অনেকেই আমাকে রোমাঞ্চপিয়াসী বলে ভাবেন। হ্যাঁ, আমি রোমাঞ্চপিয়াসী, তবে অন্য ধরনের। আমি সেই ধরনের রোমাঞ্চপিয়াসী, যে সত্যকে প্রমাণ করার জন্য নিজের জীবনকে বাজি রাখে।’ -নিজের সম্পর্কে এমন উক্তিই বলে দেয় চে গুয়েভারা মানে সত্য প্রতিষ্ঠায় অদমনীয় এক সৈনিক। ১৯২৮ সালের ১৪ জুন এর্নেস্তো গুয়েভারা রোসারিও, আর্জেন্টিনায় জš§ গ্রহণ করেন। খুব শৈশব থেকেই সমাজের বঞ্চিত, অসহায়, দরিদ্রদের প্রতি এক ধরনের মমত্ববোধ তার ভেতর তৈরি হতে থাকে। একটি সমাজতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে খুব অল্প বয়সেই তিনি রাজনীতি সম্পর্কে বিশদ জ্ঞান লাভ করেন। দারুণ মল্যবিদ ছিলেন তিনি। তার খেলাধুলার পছন্দের তালিকায় ছিল সাঁতার, ফুটবল, গলফ, শুটিং। চে গুয়েভারা সাইক্লিংয়ের একজন অক্লান্ত খেলোয়ার ছিলেন। তিনি রাগবি ইউনিয়নের একজন অতি আগ্রহী সদস্য ছিলেন এবং বুয়েনস এয়ারস বিশ্ববিদ্যালয় রাগবি দলের হয়ে খেলেছেনও। রাগবি খেলার ক্ষিপ্রতার জন্য তাকে ফিউজার (ভঁংবৎ) নামে ডাকা হতো। ১২ বছর বয়সে দাবা খেলা শেখেন তার বাবার কাছে এবং স্থানীয় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে শুরু করেন।
কিউবা বিপ্লবের পরিকল্পনায় কাস্ত্রের প্রথম পদক্ষেপ ছিল মেক্সিকো হতে কিউবায় আক্রমণ চালান। ১৯৫৬ সালের ২৫ নভেম্বর তারা কিউবার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই বাতিস্তার সেনাবাহিনী কর্তৃক আক্রন্ত হন। তার ৮২ জন সহচর মারা যান অথবা কারাবন্দি হয়, মাত্র ২২ জন এ যাত্রায় বেঁচে যায়। গুয়েভারা লিখেছিলেন সেটা ছিল সেই রক্তক্ষয়ী মুখোমুখি সংঘর্ষের সময় যখন তিনি তার চিকিৎসা সামগ্রীর সঙ্গে একজন কমরেডের ফেলে যাওয়া এক বাক্স গোলাবারুদ নিয়েছিলেন, যা তাকে পরিশেষে চিকিৎসক থেকে বিপ্লবীতে পরিণত করে। সিয়েরা মস্ত্রা পর্বতমালায় বিদ্রোহীদের ছোট্ট একটা অংশ পুনরায় সংঘবদ্ধ হতে পেরেছিল। সেখানে তারা ২৬ জুলাই আন্দোলনের গেরিলা এবং স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতা লাভ করেছিলেন। সিয়েরা থেকে দল উঠেয়ে দেয়ার সময় কাস্ত্রোর একটি সাক্ষাৎকার নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশ করা হয়। যার আগে ১৯৫৭ পর্যন্ত সারা পৃথিবীর মানুষ জানত না তিনি বেঁচে আছেন কি না! বলিভিয়ার সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে তারা গুয়েভারাকে ৭ অক্টোবর গ্রেফতার করে এবং তার মৃত্যু হয় ৯ অক্টোবর ১৯৬৭। গভীর শ্রদ্ধায় আজ তাকে স্মরণ করছি।
0 comments:
Post a Comment