Friday, April 20, 2018

স্মরণ:আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ

স্মরণ:আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ
আলী ফোরকান
জš§: ১৮৭১ সালের ১১ অক্টোবর 
মৃত্যু: ১৯৫৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর  
আবদুল করিম সাহিত্যবিশারদ বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির চট্টগ্রাম জেলার পটিয়ার অন্তর্গত সুচক্রদণ্ডী গ্রামে ১৮৭১ সালের ১১ অক্টোবর জš§গ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন সাহিত্যিক, বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস রচয়িতা এবং প্রাচীন বাংলা পুঁথির সংগ্রাহক ও ব্যাখ্যাকার। তিনি প্রাচীন পুঁথি সংগ্রহ ও সাহিত্যের ঐতিহ্য অন্বেষণকারী এক বিরল ব্যক্তিত্ব। আবদুল করিম ১৮৯৩ সালে পটিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে এন্ট্রান্স পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কয়েকটি স্কুলে শিক্ষকতা করার পর তিনি চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের অফিসে চাকরি গ্রহণ করেন এবং পরে বিভাগীয় স্কুল পরিদর্শক পদে উন্নীত হন। ১৯৩৪ সালে তিনি চাকরি থেকে অবসর নেন। আবদুল করিম আমৃত্যু নিরলসভাবে পুঁথি সংগ্রহ করেছেন। মধ্যযুগীয় মুসলিম সাহিত্যিকদের কর্ম তার আগ্রহের বিষয় ছিল। তার সংগৃহীত পুঁথির অধিকাংশই ছিল মুসলিম কবিদের রচিত। এসব পুঁথি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রন্থাগারে সংরক্ষিত রয়েছে। পাশাপাশি হিন্দু কবিদের পুঁথিগুলো রাজশাহীতে অবস্থিত বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের রক্ষিত রয়েছে। বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে ১৯২০-২১ সালে দুই খণ্ডে তার লেখা বাংলা পুঁথির তালিকা বাঙালা প্রাচীন পুঁথির বিবরণ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গ্রন্থাগারে রক্ষিত পুঁথির তালিকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে পুঁথি পরিচিতি শিরোনামে প্রকাশিত হয়। তিনি ১১টি প্রাচীন বাংলা গ্রন্থ সম্পাদনা ও প্রকাশ করেছেন। চট্টগ্রামের ইতিহাস ও সংস্কৃতির ওপর ইসলামাবাদ নামে তার লেখা বই রয়েছে।
তার সংগৃহীত মুসলমান কবিদের রচিত পাণ্ডুলিপিগুলো থেকে জানা যায় যে, সেকালের মুসলিম মনীষীরা বাংলা সাহিত্যের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন। দৌলত কাজী, আলাওল, সৈয়দ সুলতান, মুহম্মদ খান প্রমুখ শ্রেষ্ঠ বাঙালি কবিদের অন্যতম বলে গণ্য। পূর্বে অজ্ঞাত ছিলেন এমন প্রায় ১০০ জন মুসলিম কবিকে তিনি পরিচিত করেন। এ থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, বাংলা মুসলমানদেরও ভাষা ছিল। এছাড়াও তিনি ও মুহম্মদ এনামুল হক যৌথভাবে আরাকান রাজসভায় বাঙ্গালা সাহিত্য শিরোনামে গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার উল্লেখযোগ্য সম্পাদিত পুঁথিসমূহের মধ্যে জ্ঞানসাগর, গোরক্ষ বিজয়, মৃগলব্ধ, সারদা মুকুল ইত্যাদি অন্যতম। আবদুল করিম সাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য নদীয়া সাহিত্য সভা তাকে ‘সাহিত্যসাগর’ খেতাব এবং চট্টল ধর্মমণ্ডলী তাকে ‘সাহিত্যবিশারদ’ খেতাব প্রদান করে। শেষোক্ত খেতাবটি তিনি নামের সঙ্গে ব্যবহার করতেন। ১৯৫৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

0 comments:

Post a Comment