Sunday, March 4, 2018

নীলিমা ইব্রাহিমের শিÿা জীবন

নীলিমা ইব্রাহিমের শিÿা জীবন
আলী ফোরকান 
নীলিমা ইব্রাহিম শিÿাবিদ, সাহিত্যিক ও সমাজকর্মী। ১৯২১ সালের ১১ অক্টোবর বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট উপজেলার মূলঘর গ্রামের এক জমিদার পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা প্রফুলøকুমার রায়চৌধুরী এবং মাতা কুসুমকুমারী দেবী। নীলিমা ইব্রাহিম বরাবরই একজন মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয় পযর্ন্ত সকল পরীÿায় তিনি কৃতিত্বের পরিচয় দেন। তিনি খুলনা করোনেশ বালিকা বিদ্যালয় থেকে প্রবেশিকা (১৯৩৫), কলকাতা ভিক্টোরিয় ইনষ্টিটিউশন থেকে আই,এ (১৯৩৭) এবং স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে বি,এ,বি,টি (১৯৩৯) পাস করেন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি বাংলা বিষয়ে এম.এ (১৯৪৩) পাস করেন। ১৯৪৫ সালে তিনি মেয়েদের মধ্যে প্রথম ‘বিহারীলাল’মিত্র গবেষণা’ বৃত্তি লাভ করেন। একই বছর তিনি ইন্ডিয়ান আর্মি মেডিকেল কোরের ক্যাপোটন ডাক্তার মোহাম্মদ ইব্রাহিমের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং ঢাকার স্থায়িভাবে বসবাস করতে থাকেন। দীর্ঘকাল পরে ১৯৫৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচ.ডি ডিগ্রি লাভ করেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল ‘সামাজিক ও রাজনৈতিক পটভ‚মিকায় ঊনবিংশ শতাব্দীর বাংলা নাটক’। একই বছর তিনি ঢাকার আলিয়াঁস ফ্রাঁসেস থেকে ইন্টামিডিয়াট ইন ফ্রেন্স-এ ডিপ্লোমা লাভ করেন। কর্মজীবনের শুরুতে নীলিমা ইব্রাহিম কলকাতার লরেটো হাউজে লেকচারর (১৯৪৩-৪৪) হিসেবে চাকরি করেন। তারপর দুবছর (১৯৪৪-৪৫) তিনি ভিক্টোরিয়া ইনস্টিটিউশনের লেকচারার ছিলেন। ১৯৫৬ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলা ও সংস্কৃত বিভাগে যোগদান করেন এবং ১৯৭২ সালে প্রফেসর পদে উন্নীত হন। তিনি বাংলা বিভাগের প্রধান (১৯৭১-৭৫), বাংলা একাডেমীর অবৈতনিক মহাপরিচালক (১৯৭৪-৭৫) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয় হলের প্রাধ্যÿ (১৭১-৭৭)-এর দায়িত্ব পালন করেন। নীলিমা ইব্রাহিম বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সমাজকল্যাণ ও নারী-উন্নয়ন সংস্থা এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি বাংলা একাডেমীর ফেলো এবং বাংলাদেশ এয়াটিক সোসইটি, বাংলাদেশ ইতিহাস সমিতি, বাংলাদেশ রেডক্রস সমিতি ও বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা সমিতির জীবন সদস্য ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সভানেত্রী এবং কনসার্নড উইমেন ফর ফ্যামিলি প্লানিং-এর বোর্ড অব গবর্নরসের চেয়ারপার্সন হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। নীলিমা ইব্রাহিম বেশকিছু উলেøখযোগ্য গ্রন্থ ও প্রবন্ধ রচনা করেছেন। নীলিমা ইব্রাহিম আমৃত্যু মানুষের শুভ ও কল্যাণী চেতনায় আস্থাশীল ছিলেন। মুক্তবুদ্ধি, অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও উদার মানবিকতাবোধই ছিল তাঁর জীবনদর্শন। তিনি সর্বংসহ্য ধরিত্রীকে স্বর্গের চেয়েও সুন্দর ও কাঙিÿত মনে করতেন এবং অধিকতর আস্থাশীল ছিলেন দেবত্বের চেয়ে মানবত্বে। নীলিমা ইব্রাহিম সমাজকর্ম ও সাহিত্যে অনন্যসাধারণ অবদারেন জন্য বহু পুরস্কার ও পদকে ভ‚ষিত হয়েছেন। 

0 comments:

Post a Comment