Wednesday, March 7, 2018

ভালো নেই গ্রামের মানুষ

ভালো নেই গ্রামের মানুষ
আলী ফোরকান
গ্রামের মানুষ ভালো নেই। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠতে পারে, শহরের মানুষ কি ভালো আছে? শহরের অবস্থা আরও দুর্বিষহ। তবে এখন গ্রামাঞ্চলেও বিরাজ করছে অভাব-অনটন। দেশের অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর হলেও বৃহত্তর কৃষক সমাজ ভালো নেই বর্তমানে। এটা ঠিক, শতাধিক বিঘা জমির মালিক এমন কৃষকও রয়েছে। তবে স্বল্প সম্পদের অধিকারী অথবা ভ‚মিহীন শ্রমজীবী কৃষকের সংখ্যাই বেশি। তাদেরই এখন ত্রাহি ত্রাহি অব¯Íা। বর্তমানে একমণ ধান আবাদ করতে যে খরচ হয়, বাজারমূল্য তার চেয়ে কম। প্রতি মণ ইরি ধান বিক্রি হচেছ ৬৫০-৭০০ টাকায়। আমন আরও কম, প্রতি মণ ৫০০-৬০০ টাকা। ইউরিয়াসহ সবরকম সার ও কীটনাশকের দাম বাড়িয়েছে সরকার। ভর্তুকি প্রত্যাহারের নামে দফায় দফায় বাড়িয়েছে জ্বালানি তেলের দাম। এর প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। সার, সেচ ও বিদ্যুৎনির্ভর কৃষি এমনিতেই মূল্যবৃদ্ধির দাপটে দিশেহারা। এর সঙ্গে যদি কৃষকের কায়িক শ্রমের মজুরি যোগ হয় তাহলে প্রতি কেজি ধানের দাম পড়ে আরও বেশি। অথচ বর্তমানে বাজারে একজন কৃষককে প্রতি মণ ধানে লোকসান গুনতে হচেছ ৫০-১০০ টাকা। এর আগে কৃষক মার খেয়েছে পাট, আলু, পেঁয়াজ, আদা-রসুন ইত্যাদি কৃষি পণ্যে। 
বর্তমানে শীতকালীন শাক-সবজির দামও কম। মুলা, কাঁচামরিচ, খিরা, ফুলকপি, বাঁধাকপির মতো অনেক পণ্য বাধ্য হয়ে বিক্রি করতে হচেছ পানির দরে। অনেক ক্ষেত্রে বাজারে চালান বেশি এলে সেসব বিক্রি হয় না। অন্যদিকে চাল, ডাল, ভোজ্যতেল, চিনি, দুধসহ প্রায় সব ভোগ্যপণ্যের বাজার চড়া। মূল্যস্ফীতি পৌঁছেছে ডাবল ডিজিটে। কৃষককে তো এসব পণ্যই কিনতে হয় ধান বিক্রি করে। এর ওপর রয়েছে ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা ব্যয়, পোশাক-পরি”ছদের ব্যয়, সামাজিকতা,আত্মীয়তা ইত্যাদি। এসব এখন গরিব কৃষক তো দূরের কথা, সম্পন্ন কৃষকের পক্ষেও দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেসব পরিবারের দু’একজন সদস্য বিদেশে চাকরি ও শ্রম মজুরি করেন, তাদের প্রেরিত অর্থের পরিমাণও কমে আসছে। এর সঙ্গে বাড়তি উপদ্রব হিসেবে যুক্ত হয়েছে আইন-শৃংখলার অবনতি। এমন কোন দিন নেই, যেদিন একাধিক গ্রামে খুন-খারাবি, ডাকাতি, রাহাজানি, ছিনতাই, ধর্ষণ, অপহরণ ইত্যাদি না ঘটছে। এরও প্রভাব পড়ছে গ্রামীণ তথা জাতীয় অর্থনীতিতে। সরকার বিশেষ করে ¯’ানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়, কৃষি ও খাদ্য মন্ত্রণালয়, সর্বোপরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এসব দিকে জরুরি দৃষ্টি দিতে হবে।
বলা হয়, ৬৮ হাজার গ্রাম বাঁচলে বাঁচবে বাংলাদেশ। বা¯Íবে গ্রামীণ জনপদে উন্নয়নের কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয় কম। স্থ’ানীয় সরকারকে আদৌ শক্তিশালী করা হচেছ না। ফলে সাধারণ মানুষ এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচেছ। সরকার ধানের মূল্য ¯িÍ’তিশীল করার লক্ষ্যে দুই লাখ টন ধান সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাস্তবে এর সুফল কৃষক পর্যায়ে পৌঁছবে কিনা সে বিষয়ে সংশয় রয়েছে। প্রায়ই এর সুবিধা পেয়ে থাকে চাতাল মালিক ও মধ্যস্বত্বভোগী। কৃষিপণ্যের স্থিতিশীল বাজার গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হলেও তা থেকে গেছে অবহেলিত। ভর্তুকি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত হলেও সার-সেচ-জ্বালানির ভর্তুকি অন্তত কৃষকরা যেন পায় তা নিশ্চিত করতে হবে সরকারকে। এর বাইরেও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় কৃষকের জন্য ন্যায্যমূল্যে ভোগ্যপণ্য প্রাপ্তির ব্যব¯Íা চালু করা যেতে পারে। তবে এ মুহূর্তে সর্বাধিক প্রয়োজন সরকারি পর্যায়ে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান জোরদার করা, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তা গড়ে তোলার জন্য জরুরি।[] 

0 comments:

Post a Comment