Friday, February 23, 2018

এইডস প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই

এইডস প্রতিরোধে সচেতনতার বিকল্প নেই
আলী ফোরকান 
বাংলাদেশ একটি ছোট্ট দেশ হলেও এর ইতিহাস প্রাচীন এবং ঐতিহ্য দীর্ঘদিনের। বিশ্ব সমাজে একে পরিপূর্ণভাবে তুলে ধরার দায়িত্ব আজকের এ যুব সমাজের। আর এই যুব সমাজ যদি ঘাতক ব্যাধি এইডস রোগে আক্রান্ত হয় তাহলে বাংলাদেশের অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়বে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। সে জন্য এ ব্যাপারে দেশব্যাপী সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা না হলে অদূর ভবিষ্যতে এই রোগের সংক্রমণ মারাত্মকভাবে বেড়ে যেতে পারে। তাই আত্মরÿার জন্য উচ্চ নৈতিক মূল্যবোধ, সমাজিক সচেতনতা, রক্ত গ্রহণে সতর্কতা এবং সামাজিক জীবনে ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার মাধ্যমে এইডসের বি¯Íার রোধ করা যেতে পারে।  প্রসঙ্গত এখানে আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন এই যে, এইচআইভি পজেটিভ ভাইরাস বহনকারী লোকদের সহসা এইডস রোগী বলে শনাক্ত করা কঠিন। কেননা দেহে এই মারাত্মক ভাইরাস লুকিয়ে থাকা সত্তে¡ও তা বছরের পর বছর সুপ্ত থেকে যেতে পারে। যার দেহে এইচআইভি পজেটিভ ভাইরাস সংক্রমিত হয়েছে, ১০ বছর পর হলেও তার দেহে এইডসের বহিঃপ্রকাশ ঘটবে। এখানে উল্লেখ্য, ইনজেকশনের মাধ্যমে যারা মাদক সেবন করে তাদের শতকরা ৪ ভাগ এইচআইভি সংক্রমণের শিকার। আর তাই আমাদের দেশে এ ধরনের মাদকসেবীর সংখ্যা নেহায়েৎ কম নয়। মাদকাসক্তদের ছাড়াও অমিতাচারী জীবনে অভ্যন্ত নারী-পুরুষের সংখ্যা যেমন বেড়েই চলছে, তেমনি বাড়ছে বিশ্বব্যাপী এইডস আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি। আরও বিপদের কথা এই যে, আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলোতে এইডস সংক্রমণ ইতিমধ্যে মারাত্মক রূপ পরিগ্রহ করেছে। যেমন ভারত, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, নেপাল প্রভৃতি দেশে এইডসের জীবাণু সংক্রমিত নারী ও পুরুষের সংখ্যা অজস্র। এসব দেশে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের যাতায়াত দিন দিন বেড়েই চলছে। যারা প্রতিবেশী বা যে কোনো দেশে-বিদেশে যান না কেন সবাইকেই যথার্থ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। মানব জীবনের পরম বা¯Íবতা এই যে, যৌবন হচ্ছে জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। কেবল গোলা-বারুদের যুদ্ধ নয়। মানব সভ্যতার অগ্রযাত্রায় যুব সমাজের উদ্যোগী ভ‚মিকা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণভাবে পালন করছে। এইডস প্রতিরোধে যুব সমাজের ভ‚মিকা নানাবিধ কারণে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। এখানে উলেøখ্য, পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়, গত ২৫ বছরে বিশ্বে আড়াই কোটির বেশি লোক এইডসে মারা গেছে। কেবল চলতি বছরেই মারা গেছে সম্ভবত ৩০ লাখের বেশি। বর্তমানে বিশ্বব্যাপী এইচআইভি ভাইরাস বহন করছে অন্তত ৪ কোটিরও বেশি লোক। গত এক বছরে আরও ৫০/৫২ লাখের বেশির লোক এইডসে আক্রান্ত হয়েছে। এইডস মোকাবিলার সব চিত্র যে হতাশাজনক তা নয়। কিছু সুখবর আছে। ২০০৩ সালে আফ্রিকার সাব-সাহারা অঞ্চলে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ‘থ্রি বাই ফাইভ’ নামক কর্মসূচি শুরু করে। এই কর্মসূচি বেশ সফলতার মুখ দেখছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একটি ওষুধ কোম্পানি এইডস্ প্রতিরোধে ওষুধ প্রাথমিকভাবে বের করেছে। এটাও নিঃসন্দেহে এইডস আক্রান্ত রোগীদের জন্য সুখবর। এ অবস্থায় ঘাতকব্যাধি এইডস থেকে বেঁচে থাকার জন্য ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক সব পর্যায়ে সচেতনতা এবং সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। এইডস কিভাবে সংক্রমিত হয় এবং এর পরিণতি কতটা মারাত্মক সে সম্পর্কে শিক্ষার্থীদেরও সম্যক ধারণা লাভের সুযোগ করে দেয়া বাঞ্ছনীয়। ইনজেকশন দেয়া, রক্ত, সঞ্চালন, রক্ত গ্রহণ ইত্যাদি ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যাবশ্যকীয় কর্তব্য। মোট কথা এইডস মোকাবিলায় সার্বিক সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

0 comments:

Post a Comment