মূলোৎপাটনই পারে দেশকে জঙ্গি মুক্ত করতে
আলী ফোরকান
স¤প্রতি পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে আট জঙ্গি গ্রেফতার হয়েছে। এঘটনায় প্রমাণিত হয় যে, দেশব্যাপী এখনো জঙ্গি তৎপরতা থেমে যায়নি। ৫ জুলাই মঙ্গলবার কতিপয় লোক বান্দরবন জেলা জজকোর্ট এলাকায় ঘোরাফিরা করছিল। এ সময় তারা লোকজনের মধ্যে কিছু লিফলেট ও বিলি করছিল। লিফলেটের শিরোনাম ছিল ‘দেশ ও জাতি গভীর সংকটে নিমজ্জিত; সমাজ ও রাষ্ট্রে ইসলাম প্রতিষ্ঠাই এ সংকট থেকে বাঁচার উপায়।’ পুলিশের কাছে তাদের গতিবিধি সন্দেহ হলে তাদের লিফলেট বিতরণকালে আটক করে। আটকের পর তাদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ লিফলেট পাওয়া যায়। ধৃতদের বাড়ি পটুয়াখালী, সৈয়দপুর, মুন্সীগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, তাদের সংগঠনের নাম ‘ইসলামী সমাজ’। কুমিল্ল¬ার জনৈক সৈয়দ হুমায়ুন কবির তাদের দলের নেতা। তারা জানায়,গত ২ আগস্ট লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে চট্টগ্রাম থেকে । বান্দরবনে লিফলেট বিতরণের পর টার্গেট ছিল রাঙ্গামাটিতে। ধৃতরা কোন হোটেলে উঠেনি বলে পুলিশের জিজ্ঞাসাদে প্রকাশ পায়। আটককৃত নিকট থেকে গত ০৩-১০-০৭ তারিখে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো একটি স্মারকলিপির অনুলিপিও উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষসহ প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ে জরুরি বৈঠক বসে। জঙ্গি আটকের ঘটনার পর থেকে নাশকতার আশংকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে । কিছুদিন পূর্বে র্যাব দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেনেড ও বিভিন্ন ধরণের অস্ত্রশস্ত্রসহ কয়েকজন জঙ্গিকে আটক করেছিল। সে সময় র্যাবের মহাপরিচালক সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, দেশব্যাপী জঙ্গি তৎপরতা শেষ হয়ে যায়নি । কয়েকদিন পূর্বে ও একটি বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা তাদের রিপোর্টে জঙ্গিদের ব্যাপারে সরকারকে সতর্ক করে। তাদের গোপন রির্পোটে বলা হয়, দুর্নীতি মামলা পরিচালনায় গঠিত বিশেষ আদালতগুলোতে বিচারাধীন ভিভিআইপি বন্দিদের আনা-নেওয়ার সময় জঙ্গি হামলা হতে পারে। এসকল ঘটনা থেকে বোঝা যায়, জঙ্গিদের তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ ও পার্বত্য জেলাগুলোতে তাদের ঘাঁটি রয়েছে। এসব এলাকায় অপেক্ষাকৃত জনবিরল এবং স্থানীয় অধিবাসীর অধিকাংশই নিরক্ষর ও হতদরিদ্র। তদুপরি টেকনাফ, কক্সবাজার, উখিয়া,রামুসহ সন্নিহিত অঞ্চলে রয়েছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ক্যাম্প। রোহিঙ্গারা দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার স্থানীয়দের সাথে বসবাস করার সুযোগে তারা দেশের অন্যত্রও ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে আবার অবৈধভাবে বাংলাদেশী পাসপোর্ট সংগ্রহ করে পাড়ি দিয়েছে পাকিস্তান, আফগানিস্তানসহ মধ্যপ্রাচ্যে। এভাবে নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশে সশস্ত্র জঙ্গি তৎপরতা বিকাশ লাভ করে। আর তা সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ সৃষ্টি করে।তবে বার বার প্রশ্ন থেকে যায়! এদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে কারা। বিগত সরকারের আমলে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অবৈধ অস্ত্রের চালান এবং বগুড়ায় বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ আটক ঘটনার রহস্য অদ্যাবধি উদঘাটিত হয়নি । এতে করে এ ঘটনার সাথে জঙ্গিদের জড়িত থাকাও অসম্ভব নয়। এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আমাদের দেশে ১৯৯৯ সালে বোমা ও গ্রেনেড হামলা শুরু হয়। এরপর ৭ বছরে ৪০টি নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দুই বছর ও পরবর্তী সরকারের সময়ে দেশে বড় ধরনের ৪০টি বোমা ও গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। এই ৭ বছরে বোমা হামলায় মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারায় দুই শতাধিক মানুষ। আহতের সংখ্যাও কমপক্ষে ৬ শ’। সারাদেশের ৬১টি জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণ এবং শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিকভাবেও আলোচিত হয়। এছাড়া যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠান, রমনার বটমূলে পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠান ও ময়মনসিংহের কয়েকটি সিনেমা হলে একযোগে বোমা হামলার ঘটনাগুলোও কম আলোচিত ছিল না। বিগত সাত বছরের বিভিন্ন বোমা হামলার ঘটনায় নিহতদের অধিকাংশ পরিবার এখনো বিচারের অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন। আহতদের অনেকেই ফিরে পায়নি স্বাভাবিক জীবন। অথচ দেশ কাঁপানো এসব বোমা হামলার ঘটনা থেকে বিগত দুই সরকারই রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করেছে। আওয়ামী লীগ আমলে যশোরে উদীচীর অনুষ্ঠানে বোমা হামলা সম্পর্কিত মামলায় আসামি করা হয়েছিল বিএনপি নেতা ও সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামকে। অন্যদিকে জোট সরকারের আমলে ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে বোমা বিস্ফোরণ মামলায় আসামি হয়েছিলেন সাবেক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাবি শিক্ষক মুনতাসির মামুন প্রমুখ। এছাড়া বহুল আলোচিত ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনাকে পুঁজি করে সাজানো হয়েছিল জজ মিয়া নাটক। এভাবে বোমা হামলার অধিকাংশ ঘটনাকেই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে প্রবাহিত করা হয়েছে ভিন্ন খাতে। ফলে এসব হামলার জন্য প্রকৃত দোষী ব্যাক্তিদের খুঁজে বের করার কার্যকর কোনো উদ্যোগ কখনোই ছিল না। যদিও ৬১ জেলায় একযোগে বোমা বিস্ফোরণ ঘটনার পর জঙ্গী ইস্যুতে জোট সরকার বেশ সক্রিয় হয়। এ সময় র্যাবের লাগাতার অভিযানে একে একে আটক হয় শীর্ষ জঙ্গী নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলা ভাইসহ অনেকেই। পরবর্তীকালে বিচারের মাধ্যমে তাদের ফাঁসিও কার্যকর হয়। দেশে উদ্বেগজনকহারে বোমা ও গ্রেনেড হামলার শুরু হয় ১৯৯৯ সালে। ২০০১ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্রক্ষমতার পালাবদল ঘটলেও থামেনি বোমা হামলার এধারা। ২০০৫ সাল পর্যন্ত প্রায় নিয়মিতভাবেই বোমাবাজির ঘটনা ঘটেছে । বোমা হামলার ঘটনার শুরু থেকেই দেশের প্রধান গোয়েন্দা সংস্থা প্রায় প্রতিটি হামলার নেপথ্যে জঙ্গিদের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে রির্পোট দেয়। জঙ্গিদের সরাসরি সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে সরকারকে সতর্ক করলেও আওয়ামী লীগ ও জোট সরকার তা আমলে নেয়নি। উল্টো দুই সরকারই বোমা হামলার ঘটনাগুলোকে একই কায়দায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েলের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহারের চেষ্টা চালায়। প্রতিটি বোমাবাজির ঘটনার পর উভয় সরকারই তাদের আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মনগড়া তদন্ত করায়। যে কারণে ঘটনার প্রকৃত কুশীলবরা বরাবরই রয়ে গেছে সন্দেহের বাইরে। ফলে জঙ্গিরা আরো বেপরোয়া হয়ে একের পর এক বোমা ও গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটাতে থাকে। র্যাবের গোয়েন্দা ইউনিটের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর অন্যতম নেতা মুফতি আবদুল হান্নান মনে করেন, তার বড় ভুল ছিল সিলেটে বৃটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর উপর গ্রেনেড হামলা । এই ঘটনা না ঘটালে পর্দার অন্তরালে থাকা তার জন্য অনেক সহজ হতো। কিন্তু সিলেটের ঘটনার পর সে রীতিমতো গোয়েন্দাদের অন্যতম প্রধান টার্গেটে পরিণত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বাড্ডা থেকে ২০০৫ সালের ১ অক্টোবর র্যাবের অপারেশনে হান্নান গ্রেফতার হয়। এরপর একে-একে বোমা ও গ্রেনেড হামলার জট উন্মোচিত হতে থাকে। হান্নান ছাড়াও কয়েকজন জঙ্গি বোমা ও গ্রেনেড হামলার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে। যশোরে উদীচী সম্মেলনে টাইম বোমার ঘটনা ঘটে ১৯৯৯ সালের ৬, মার্চ । যশোরে উদীচীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনের শেষদিনে শক্তিশালী টাইম বোমার বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই ১০ জন নিহত হয়। আহত হয় অর্ধশতাধিক। যাদের অনেকে পঙ্গুত্ব নিয়ে বেঁচে আছেন। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার এই হামলার জন্য তখন দায়ী করে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বিএনপিকে। আসামি করা হয় বিএনপি’র সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলামকে। জোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, উদীচীর তৎকালীন সভাপতি সৈয়দ হাসান ইমাম এবং যশোর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে অভিযুক্ত করে। পরে বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব এবং গণদাবির মুখে রিপোর্ট প্রত্যাহার করা হয়। জঙ্গি গোষ্ঠীর অনেক সদস্য গ্রেফতার হওয়ার পর যশোরে উদীচী বোমা হামলায় নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা আদালতে স্বীকার করে। চার্জশীট ও মুফতি হান্নান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সিআইডির সাবেক এএসপি মুন্সী আতিকুর রহমান তড়িঘড়ি করে উদীচী মামলার চার্জশীট দাখিল করেন। তদন্তের ত্র“টির কারণে ২০০৬ সালের জুন মাসে আদালত চার্জশীটে অভিযুক্তদের বেকসুর খালাস দেয়। ওয়ান ইলেভেনের পর মামলার তদন্ত পুনরায় শুরু হয়েছে। মুফতি হান্নান তার জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন যে, রমনার বটমূল, উদীচী ও কোটালীপাড়ায় বোমা পুঁতে রাখার ঘটনায় সে জড়িত ছিল। অপরদিকে ২০০৪ সালে সিলেটে ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত হুজি সদস্য সাহেদুল আলম বিপুল ও দেলোয়ার হোসেন রিপন ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টম্বর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। তারা জানায়, মুফতি হান্নানের নির্দেশে তারা হামলা চালায়। এ হামলায় একজন পুলিশসহ নিহত হয় তিনজন। ২০০১ সালের ২০ জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির জনসভায় বোমা হামলায় ৫ জন নিহত ও অর্ধশত আহত হয়। এ ঘটনায় সিপিবির সভাপতি মঞ্জুরুল আহসান খানের দায়ের করা হত্যা ও বোমাবাজির মামলায় ২০০৩ সালে সিআইডি চ‚ড়ান্ত রিপোর্ট আদালতে দাখিল করে। ২০০১ সালের ১৬ জুন নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগ অফিসে বোমা হামলায় ২৬ জন নিহত ও আহত হয় প্রায় এক’শ। হামলার পর অ্যাডভোকেট খোকন সাহা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। অথচ জোট সরকার ক্ষমতায় এসেই ২০০২ সালের ২১ মে এ ঘটনায় পুলিশকে দিয়ে নতুন মামলা করায়। এ মামলায় খোকন সাহা, আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমানসহ ৫২ জনকে আসামি করে। ১৯৯৯ সালের ৮ অক্টোবর খুলনায় আহমাদিয়া মুসলিম জামাত সম্প্রদায়ের মসজিদে বোমা হামলায় ৮ জন নিহত ও ১০ জন আহত হয়। ২০০০ সালের ২৩ ডিসেম্বর মিরপুর বাটার দোকানে বোমা হামলায় নিহত হয় তিনজন। ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষের প্রথম প্রহরে রমনা বটমূলে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও ২৬ জন আহত হয়। ২০০১ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বাগেরহাটের মোল্লারহাটে আওয়ামী লীগের জনসভায় বোমা হামলায় ৯ জন নিহত ও আহত হয় ৩০ জন। একই বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী জনসমাবেশে গ্রেনেড হামলায় নিহত হয় চার ব্যক্তি। ২০০২ সালের ৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে একযোগে বোমা হামলায় ১৮ জন নিহত ও দুই শতাধিক আহত হয়। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুনতাসীর মামুন, সাংবাদিক এনামুল হক চৌধুরী, ময়মনসিংহ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মতিউর রহমানসহ ৩০ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করে। তাদেরকে দফায় দফায় রিমান্ডেও নেয়া হয়; কিন্তু তদন্তের কোনো কূল-কিনারা হয়নি। তবে মুফতি হান্নান গ্রেফতার হয়ে জবানবন্দি দেয়ার পর বেরিয়ে আসে ঘটনার আসল রহস্য। ওয়ান ইলেভেনের পর সিআইডি নতুনভাবে এই মামলার তদন্ত শেষে চার্জশীট দাখিল করে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৩ জন নিহত হয়। আহত হয় তিন শতাধিক। ২০০০ সালের ২২ জুলাই গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভার কাছে হেলিপ্যাডে ৭৬ কেজি ওজনের দুইটি বোমা পুঁতে রাখা হয়। পরে বোমা দু’টি উদ্ধারও করা হয়। সে ঘটনায় মুফতি হান্নানের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। সর্বশেষ দেশব্যাপী ৬১ জেলায় সিরিজ বোমার বিস্ফোরণ ঘটে ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট। এ ঘটনার দায় স্বীকার করে তখন লিফলেট বিলিয়েছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা জেএমবি। এরপর তারা গাজীপুর, চাঁদপুর, চট্টগ্রাম ও ল²ীপুর আদালত, নেত্রকোনায় উদীচী কার্যালয়ের সামনে এবং ঝালকাঠিতে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালায়। মূলত অল্প সময়ের ব্যবধানে সংঘটিত এসব ঘটনার পরই জঙ্গী দমনে সোচ্চার হয় জোট সরকার। এ কাজে নিয়োজিত করা হয় এলিট ফোর্স র্যাবকে। র্যাবের লাগাতার অভিযানেই একের পর এক ধরা পড়তে থাকে বড় বড় জঙ্গী নেতারা। এক পর্যায়ে ধরা পড়েন শীর্ষ দুই জঙ্গী নেতা শায়খ আব্দুর রহমান ও বাংলাভাই। তবে অধিকাংশ বোমাবাজির ঘটনার বিচারই এখনো অনিষ্পন্ন অবস্থায় ঝুলে আছে। এ সন্ত্রাসী জঙ্গি সমস্যা শুধু বাংলাদেশেই নয়। এ সমস্যা সারাবিশ্বেই শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে জঙ্গিদের আত্মঘাতী বোমা ও গ্রেনেড হামলায় প্রায়ই নিরীহ মানুষের প্রাণহানি ঘটছে। নিকট অতীতে আমাদের দেশেও এধরণের সহিংসতা ঘটেছে। সুতরাং হরকাতুল জিহাদ বা হুজিসহ দু-চারটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করলেই কিংবা বাংলাভাই-শায়খ রহমানকে ফাঁসি দিলেই যে থেমে যাবে জঙ্গি তৎপরতা, এমনটি ভাবার অবকাশ নেই। এ ব্যাপারে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক রাখার পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবেও তাদের চিহিৃত করতে হবে। এছাড়া কোন বিদেশী সংস্থা দেশে অস্থীতিশীলতা সৃষ্টির জন্য এদের ব্যবহার করছে কিনা, তাও ভাবনায় আনতে হবে। আর যদি কোন অপরাজনীতি তাদের শক্তি বৃদ্ধি করতে সহায়ক হয়ে থাকে, তারও মূলোৎপাটন করতে হবে। মূলোৎপাটনই পারে রাষ্ট্র ও সমাজকে জঙ্গি বিপদমুক্ত করতে।
0 comments:
Post a Comment